সাখাওয়াতসহ ৯ যুদ্ধাপরাধীর রায় যেকোন দিন - Women Words

সাখাওয়াতসহ ৯ যুদ্ধাপরাধীর রায় যেকোন দিন

যশোরের সাবেক সাংসদ সাখাওয়াত হোসেনসহ নয় আসামির মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় যেকোন দিন ঘোষণা করা হবে। প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ মামলা রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখে।

তিন সদস্য বিশিষ্ট এই ট্রাইব্যুনালের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিচারপতি আনোয়ারুল হক।

তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে অপহরণ, আটক, নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচ অভিযোগ রয়েছে।

শুনানির সময় আদালতে হাজির ছিলেন জাতীয় পার্টির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন, মো. বিল্লাল হোসেন বিশ্বাস ও মো. লুৎফর মোড়ল।  বাকি ছয় আসামী মো. ইব্রাহিম হোসাইন, শেখ মো. মজিবুর রহমান, এম এ আজিজ সরদার, আব্দুল আজিজ সরদার, কাজী ওহিদুল ইসলাম এবং মো. আব্দুল খালেক পলাতক।

গত বছর ২৩ ডিসেম্বর পাচটি অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এই নয়জনের বিচার শুরু করে ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগগুলো হলঃ

১। যশোরের কেশবপুর উপজেলার বোগা গ্রামে এক নারীকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন এবং ধর্ষণ।

২। একই উপজেলার চিংড়া গ্রামের চাঁদতুল্য গাজী ও তার ছেলে আতিয়ারকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও হত্যা।

৩। কেশবপুরের চিংড়া গ্রামের মো. নুরুদ্দিন মোড়লকে অপহরণ, আটক, ও নির্যাতন।

৪। কেশবপুরের হিজলডাঙার আ. মালেক সরদারকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও খুন।

৫।কেশবপুরের মহাদেবপুর গ্রামের মিরন শেখকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন এবং ওই গ্রামে অগ্নিসংযোগ ও লুণ্ঠন।

সাখাওয়াতসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে ২০১২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের তদন্ত শুরু করে প্রসিকিউশনের তদন্ত দল। তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয় গতবছর ১৮ জুন। ২৬ জুন অভিযোগ আমলে নেওয়ার বিষয়ে শুনানি হয়।

১২ জনের মধ্যে তিনজনের বিরুদ্ধে ‘অভিযোগের উপাদান’ না পাওয়ায় তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। ২০১৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর আদালত নয়জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয়।

গত ২৪ নভেম্বর অভিযোগ গঠনের ওপর পক্ষে-বিপক্ষে শুনানি শেষে ২৩ ডিসেম্বর বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। এই বছরের ৩১ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যে মামলার সাক্ষ্য ও জেরার কার্যক্রম শুরু হয়।

সাখাওয়াত এক সময় ছিলেন জামায়াত নেতা। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে ১৯৯১ সালে নির্বাচনে দাঁড়িয়ে যশোর-৬ আসন থেকে তিনি সাংসদ নির্বাচিত হন। কিন্তু মেয়াদপূর্তির আগেই জামায়াত ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি।

মাওলানা সাখাওয়াত নামে তিনি বেশি পরিচিত। গত সংসদ নির্বাচনে যশোর-৬ আসন থেকে তিনি জাতীয় পার্টির মনোনয়ন পেয়েছিলেন।

সূত্রঃ বিডিনিউজ