রিজার্ভ চুরির প্রতিবেদন ‘কয়েক দিনের মধ্যে' - Women Words

রিজার্ভ চুরির প্রতিবেদন ‘কয়েক দিনের মধ্যে’

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানিয়েছেন, রিজার্ভ চুরির ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন ‘কয়েক দিনের মধ্যে’ প্রকাশ করা হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ে সোমবার ঈদের ছুটি পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন তিনি।

গত ৩০ মে ওই প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর তা ‘পড়ে দেখে’ তারপর প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী।

সেই প্রসঙ্গে সোমবার এক সাংবাদিক প্রশ্ন করলে মুহিত বলেন, “দে হ্যাভ ফাইনালাইজ দ্য রিপোর্ট। সে অনুসারে অ্যাকশনও হচ্ছে। ইন এ ফিউ ডেইজ টাইম, আই শ্যাল রিলিজ দ্যা রিপোর্ট।”

সুইফট মেসেজিং সিস্টেমের মাধ্যমে ৩৫টি ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে গত ফেব্রুয়ারির শুরুতে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে রক্ষিত বাংলাদেশের এক বিলিয়ন ডলার সরিয়ে ফেলার চেষ্টা হয়। এর মধ্যে পাঁচটি মেসেজে আট কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপিন্সের একটি ব্যাংকে যায়। আর অপর আদেশে শ্রীলঙ্কায় ২০ লাখ ডলার পাঠানো হয়।

শ্রীলঙ্কায় পাঠানো অর্থ ওই অ্যাকাউন্টে জমা হওয়া শেষ পর্যন্ত আটকানো সম্ভব হয়। কিন্তু ফিলিপিন্সের ব্যাংকে যাওয়া অর্থ স্থানীয় মুদ্রায় বদলে জুয়ার টেবিল ঘুরে চলে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। ফিলিপিন্সের একটি পত্রিকার খবরের মাধ্যমে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সাইবার চুরির এই ঘটনা বাংলাদেশের মানুষ জানতে পারে ঘটনার এক মাস পর।

বিষয়টি চেপে রাখার কারনে সমালোচনার মুখে গভর্নরের পদ ছাড়তে বাধ্য হন আতিউর রহমান; কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরনের রদবদল করা হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে ওই সময়ই রিজার্ভ চুরির ঘটনায় মামলা করা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে ১৫ মার্চ  গঠন করা হয় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি। সাবেক গভর্নর ফরাসউদ্দিনকে প্রধান করে গঠিত এ কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন- বুয়েটের কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদ এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব গকুল চাঁদ দাস।

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কীভাবে, কার বরাবরে ভুয়া পেমেন্ট ইন্সট্রাকশন পাঠানো হয়েছিল, অবৈধ পরিশোধ ঠেকাতে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল কি না, রিজার্ভ চুরির ঘটনা প্রায় এক মাস গোপন রাখা যৌক্তিক ছিল কি না, কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তাদের অবহেলা ছিল কি না এবং অর্থ উদ্ধারের সম্ভাবনা, গৃহীত কার্যক্রমের পর্যাপ্ততা ও পুনরাবৃত্তি রোধে গৃহীত ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল কমিটিকে।

অর্থমন্ত্রীর কাছে গত ২০ এপ্রিল অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন জমা দেয় ফরাসউদ্দিনের কমিটি। এরপর ৩০ মে দেওয়া হয় পুরো প্রতিবেদন।

ওই প্রতিবেদন হাতে পেয়ে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে তা প্রকাশ করতে পারবেন বলে তিনি আশা করছেন।

তদন্ত কমিটির প্রধান ফরাসউদ্দিন প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর বলেছিলেন, রিজার্ভ চুরিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কারও সম্পৃক্ততা নেই বলে আগে তারা ধারণা করলেও চূড়ান্ত প্রতিবেদনে ওই অবস্থান থেকে তারা ‘সামান্য’ সরে এসেছেন।

ভুয়া সুইফট মেসেজ পাঠিয়ে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার সাইবার চুরির ওই ঘটনায় কারা কারা জড়িত, সে বিষয়ে তদন্ত কমিটি কী কী সুপারিশ করেছে- সে তথ্য প্রকাশ করেননি অর্থমন্ত্রী বা তদন্ত কমিটির প্রধান।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফরাসউদ্দিন শুধু বলেন, “সুইফটেরও দায় দায়িত্ব আছে, সম্পূর্ণ দায় বা মূল দায় তাদের কি না, সেই বিশ্লেষণও প্রতিবেদনে আছে। সুফইট কখনো দায় এড়াতে পারে না। তবে সুইফটের সাহায্য নিয়েই আমাদের ভবিষ্যতের প্রবলেমটা সলভ করতে হবে।”

তিনি জানান, চুরি যাওয়া টাকার মধ্যে কীভাবে টাকা কতোটা আদায় করা সম্ভব- তার একটা চিত্রও প্রতিবেদনে দেওয়া হয়েছে। “বেশ ভালো একটা আশাব্যাঞ্জক চিত্র আমরা দিয়েছি,” বলেও ফরাসউদ্দিন জানান।

সূত্রঃ বিডিনিউজ