শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৯:১১ পূর্বাহ্ন

২০১৭ সালে কেমন ছিল নারীরা?

২০১৭ সালে কেমন ছিল নারীরা?

ফারজানা মৃদুলা

নারী সহিংসতা নিয়ে সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে অনেক ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া হলেও নারী নির্যাতন মোটেও কমছে না।নরপিশাচরা মুখোশের আড়ালে আজও উদ্ধত থাবা মেলে নারী সমাজকে গ্রাস করে যাচ্ছে। কেন ? শুধু কি নারী হয়ে জন্মগ্রহণ করার কারণে?স্বাধীন বাংলাদেশে মুক্ত আকাশে ডানা মেলে কি উড়তে পারছে নারী সমাজ। বারবার কেন অতৃপ্তি সাগরে হাতড়ে ভেসে গিয়ে দৃষ্টান্ত রচনা করবে নারী।গত আগস্ট মাসে টাঙ্গাইলের সেই গণপরিবহনে নির্মমভাবে গণধর্ষণের পর হত্যা করা হয় আমাদের বোন রূপাকে। ২৮শে মার্চ, ২০১৭ তারিখে বনানীর রেইন ট্রি হোটেলে দুই ছাত্রী ধর্ষণের কথা নিশ্চয়ই সবার মনে আছে। জন্মের ঘটনার মতোই ধর্ষণের ঘটনা পৃথিবীতে পুরোনো। যা পৃথিবীর সকল দেশেই ঘটছে। ধর্ষণ নামক শব্দটি পুড়িয়ে ছাই করছে নারী সমাজকে। জুলাই মাসে বগুড়ার একটি কলেজে ভর্তির লোভ দেখিয়ে শ্রমিক লীগের নেতা তুফান শুধুমাত্র সেই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে ক্ষান্ত হয় নি, সেই ছাত্রীর মাকেও শারীরিকভাবে নির্যাতন করেছে।তারপর সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে ২০১৭ এর শেষের দিকে ঘটে যাওয়া হুমায়রা আক্তার মুন্নীর ঘটনা আজও আমাদেরকে কাঁদায়।প্রেম প্রত্যাখ্যান করায় এমসি কলেজের ছাত্রী আমাদের আরেক বোন খাদিজার উপর ঘটে যাওয়া হামলার কথা মনে পড়লে আজও গা শিউড়ে ওঠে। আমাদের প্রশাসন, নীতি নির্ধারক, ক্ষমতাশীল দায়িত্ববান মানুষদের এই বিষয়গুলোর প্রতি আরও শক্ত ভূমিকা পালন করা উচিত।

এবার আসা যাক নারী সাফল্যের দৃশ্যপটে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। দেশের সবচেয়ে বড় দুটি রাজনৈতিক দলের প্রধান নারী। এই সরকারের আমলে আমরা পেয়ে গেছি জাতীয় সংসদের প্রথম নারী স্পিকার। দেশের সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নারীরা দক্ষতার সাথে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। প্রশাসন, পাইলট, জজ, ব্যারিষ্টার, জেলা প্রশাসক, সচিব সব পদেই নারীরা আছেন। তাদের দৃপ্ত পদচারণা আমাদের নারী সফলতার বাহক। কিন্তু তখনই বাকরুদ্ধ হয়ে যায়, যখন দেখি স্বাধীন দেশে সভ্য সমাজে প্রকাশ্যে ধর্ষণের হলি খেলায় মেতে ওঠে মানুষরুপী কিছু হিংস্র দানব। ধিক্কার জানাই তাদেরকে।

নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার দেখিয়ে দেয়া পথে আমরা কতদূর এগোতো পেরেছি। বর্তমানে আমরা দেখতে পারছি যে, ধর্ষণ, গণ-ধর্ষণ, এসিড নিক্ষেপ, পুড়িয়ে মারাসহ বিভিন্ন নারী নির্যাতন ভয়াবহ অবস্থায় দাঁড়িয়েছে। এছাড়া অপহরণ, পাচার, মানসিক নির্যাতন তো আছেই। এই অমানবিক নির্যাতন গাণিতিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, কাল বৈশাখী ঝড়ের মতো আঘাত এনে তছনছ করে দিচ্ছে নারী আর কন্যাশিশুদেরকে। গৎ বাঁধা এই নারী নির্যাতনের নিষ্ঠুর চক্রে আবর্তিত হচ্ছে গোটা নারী সমাজ। প্রজ্জ্বলিত প্রদীপের আলো নিভু নিভু হয়ে নিভে যাচ্ছে।এই আলোক শিখা জাগিয়ে তোলার দায়িত্বটুকু কে নেবে? নিতে হবে আমাদেরকেই। নারীরা এখনও অবহেলিত। নারীদের নিজের অধিকার নিজেই প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। সবচেয়ে আগে নিজেকে যোগ্য করে তুলতে হবে। কেননা এখনও নারীদের উচ্চ শিখরে কাঙ্খিত পর্যায়ে পৌঁছাতে হলে বারবার দানবদের জালে আটকা পড়তে হচ্ছে। রাত যত গভীর হয়, প্রভাত ততোই নিকটে আসে। এ কথায় আমরা বিশ্বাসী আজও। রেললাইনে যেমন একাকি হাটতে গেলে ভারসাম্য ঠিক রাখা যায় না, অপরজন পাশে থেকে হাতে হাত মিলিয়ে হাটলে তখনই লক্ষ্যে পৌঁছানো যায়, ঠিক সেভাবে কারও একার পক্ষে নারী নির্যাতন রোধ করা সম্ভব নয়। সমাজ, রাষ্ট্র, আপনি, আমি, নারী-পুরুষ সকলের প্রচেষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ, আন্দোলন গড়ে তুললে এই সংগ্রামে জয় নিশ্চয়ই হবে। নতুন বছরে নতুন আশা নিয়ে চলুন পা বাড়াই। প্রাত্যহিকতার জীর্ণ জীবন থেকে কিছুটা হলেও যেন মুক্তি পাই।

নিউজটি শেয়ার করুন







© All rights reserved © 2015 womenwords.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ