শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন

রূপা ধর্ষণ ও হত্যা: ভাই, সহপাঠীসহ ৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ

রূপা ধর্ষণ ও হত্যা: ভাই, সহপাঠীসহ ৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ

টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে রুপা খাতুনকে গণধর্ষণের পর হত্যা মামলায় এখনও পর্যন্ত ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।আজ মঙ্গলবার ভাইসহ তিনজন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এ কে এম নাসিমুল আক্তার বলেন, ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকা প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আবুল মনসুর মিয়ার আদালতে রুপার ভাই হাফিজুল ইসলাম প্রামাণিক, রুপার সহপাঠী আবদুল বারিক ও রুপার আত্মীয় মমতাজ উদ্দিনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

রুপার ভাই হাফিজুল ইসলাম আদালতকে বলেন, রুপা বগুড়া থেকে বাসে ওঠার পর তাঁর সঙ্গে ফোনে কথা হয়। তখন রুপা তাঁকে জানান যে ছোঁয়া পরিবহনে ময়মনসিংহের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন তিনি। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে রুপাকে ফোন দিলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

রুপার সহপাঠী আবদুল বারিক আদালতকে বলেন, ঘটনার দিন বগুড়ায় শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা দিয়ে রুপা ও তিনি ছোঁয়া পরিবহনের বাসে ওঠেন। এলেঙ্গা যাওয়ার পর তিনি ওই বাস থেকে নেমে ঢাকার দিকে অন্য একটি বাসে উঠে রওনা হন। রুপা তখন গাড়িতে একাই ছিলেন। এ সময় তিনি চালক ও সুপারভাইজারসহ গাড়ির কর্মীদের অনুরোধ করেন রুপাকে নিরাপদে পৌঁছে দিতে। আদালতের কাঠগড়ায় থাকা ছোঁয়া পরিবহনের চালক, সুপারভাইজারসহ পাঁচ কর্মীকে শনাক্ত করেন তিনি।

পরে আসামিদের আইনজীবী দেলোয়ার হোসেন ও শামীম চৌধুরী সাক্ষীদের জেরা করেন।

১৪ জানুয়ারি এই মামলার আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি লিপিবদ্ধকারী চার বিচারিক হাকিমের সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।

৩ জানুয়ারি মামলার বাদী মধুপুরের অরণখোলা ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলামের সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্য দিয়ে চাঞ্চল্যকর এই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়।

বহুজাতিক কোম্পানির কর্মী ও ঢাকার আইডিয়াল ‘ল’ কলেজের শিক্ষার্থী রূপা (২৫) সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার আসানবাড়ি গ্রামের জেলহাজ প্রামাণিকের মেয়ে। গত ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে চলন্ত বাসে রূপাকে ধর্ষণ করে পরিবহন শ্রমিকরা।  পরে তাকে ঘাড় মটকে হত্যা করে টাঙ্গাইলের মধুপুর বন এলাকায় ফেলে রেখে যায়। পুলিশ ওই রাতেই তার মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্ত শেষে পরদিন বেওয়ারিশ হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মধুপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে।

২৮ আগস্ট রূপার ভাই মধুপুর থানায় এসে মরদেহের ছবি দেখে রূপাকে শনাক্ত করেন। পরে পুলিশ ছোঁয়া পরিবহনের সহকারী শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীর (১৯) এবং চালক হাবিবুর (৪৫) ও সুপারভাইজার সফর আলীকে (৫৫) গ্রেপ্তার করে।পুলিশের কাছে তাঁরা রূপাকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে তাঁরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তাঁরা সবাই এখন টাঙ্গাইল কারাগারে আছেন। ৩১ আগস্ট রূপার লাশ উত্তোলন করে তাঁর ভাইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে মরদেহ রূপার নিজ গ্রামে নিয়ে দাফন করা হয়।

সূত্র: প্রথম আলো

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন







© All rights reserved © 2015 womenwords.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ