শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৯:৫২ পূর্বাহ্ন

মুক্তিযুদ্ধে সিলেটের নারী (পর্ব:৬)

মুক্তিযুদ্ধে সিলেটের নারী (পর্ব:৬)

আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধকে ঘিরে এক কাতারে এসে দাঁড়িয়েছিল আবালবৃদ্ধবনিতা, ছাত্রশিক্ষক, কৃষকমুটেমজুরকুলি, পেশাজীবিশ্রমজীবী সবাই মুক্তির আকাঙ্খায় মুছে গিয়েছিল ধর্মবর্ণলিঙ্গঅবস্থানভেদ মুক্তিযুদ্ধে সংগ্রামের, ত্যাগের, সহ্যের, সাহসের এক অকৃত্রিম তুলনাহীন ভূমিকা পালন করেছিলেন আমাদের নারীরা মুক্তিযুদ্ধে সিলেট অঞ্চলের নারীদের ভূমিকা নিয়ে  ‘মুক্তিযুদ্ধে সিলেটের নারীশিরোনামের ধারাবাহিক প্রবন্ধটি উইমেন ওয়ার্ডস  এর পাঠকদের জন্য লিখেছেন

অপূর্ব শর্মা

সংগঠক ছিলেন যারা

মুক্তিযুদ্ধে নানাভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন নারীরা। কি দেশে, কি প্রবাসেসবখানেই গতিশীল ছিলেন তারা। তাদের সেই অবদানের কথা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। তারপরও তারা থেকে গেছেন আড়ালে! মুক্তিযুদ্ধে পুরুষের অবদান যেভাবে উঠে এসেছে, ঠিক সেভাবে উঠে আসেনি নারীদের অংশগ্রহনের কথা। দুঃসময়ে নারীরা পুরুষের পাশাপাশি সমানতালে কাজ করেছেন নিজেদের শক্তি, সামর্থ অনুযায়ি। দেশ মাতৃকার প্রয়োজনে নারীদের যে যে কাজে নিয়োজিত করা হয়েছে তা তারা পালন করেছেন যথাযথভাবে। মুক্তিযুদ্ধে সংগঠককের ভূমিকা পালন করা নারীদের কথা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে এই পর্বে

ফাহমীদা রশীদ চৌধুরী

দৈনিক যুগভেরী সম্পাদক ফাহমীদা রশীদ চৌধুরী স্বাধীনতা আন্দোলনে ছিলেন সোচ্চার। একাত্তরের উত্তাল তরঙ্গের দিনে সিলেটের নারীদের মিছিলের অগ্রভাগে নিয়ে আসতে তিনি অনন্য ভূমিকা পালন করেন। সিলেটের ঘরে ঘরে গিয়ে তিনি নারীদেরকে উজ্জীবিত করেছেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে মার্চ মাসে সিলেটে যে বিশাল মিছিল বের হয় তাতে অগনিত নারী অংশগ্রহন করেন। এর বিপুল অংশ তাঁর আহ্বানে সারা দিয়ে মিছিলে অংশগ্রহন করেন। শুধু তাই নয় নিজের শিশুকন্যা ফাহমীনা নাহাসকেও তিনি শামিল করেছিলেন স্বাধীকার আন্দোলনের মিছিলে।
মুক্তিসংগ্রাম শুরু হওয়ার পর পরই ফাহমীদা রশীদ চৌধুরীর স্বামী আমিনূর রশীদ চৌধূরী মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ার আহ্বান সংবলিত প্রায় ২ লক্ষাধিক লিফলেট যুগভেরী প্রেস থেকে মুদ্রন করেন। মধ্য রাতে মুদ্রন কাজ শেষ হলে যথাসময়ে যথাস্থানে সেগুলো পৌছে দেওয়া ছিল দূরহ ব্যাপার। এই দায়িত্ব সাহসিকতার সাথে পালন করেন ফাহমীদা রশীদ। জীবনের ঝুকি নিয়ে গভীর রাতে সিলেট স্টেশন ক্লাবে আওয়ামীলীগ নেতা ইছমত চৌধুরীর হাতে তুলে দেন লিফলেটগুলো। ইপিআরসহ অন্যান্যদের মধ্যে তা বন্টন করা হয়। যা এ অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত ও প্রানসঞ্চার করতে সহায়ক ভুমিকা পালন করে। মুক্তিযোদ্ধাদের আর্থিকভাবেও সহায়তা করেছেন তিনি। তাঁর কাছে এসে খালি হাতে ফেরৎ যায়নি কেউ।
’৭১ সালের ৬ মে আমিনূর রশীদ চৌধূরীকে আটক করে পাকবাহিনী। নির্যাতন কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে তাঁর উপর অমানুষিক অত্যাচার চালায়। অন্যদিকে হাউজ এরেস্ট করে রাখা হয় ফাহমীদা রশীদ চৌধূরীসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের। ১৬ সেপ্টেম্বর কাকতালীয়ভাবে মুক্তি পেয়ে তারা লন্ডনে চলে যান। সেখানে প্রথম অস্থায়ী বাংলাদেশ মিশন অফিস চালু করতে ভূমিকা রাখেন ফাহমীদা রশীদ চৌধুরী। অস্থায়ী বাংলাদেশ মিশন অফিস প্রতিষ্ঠায় তিনি ঘুরে ঘুরে চাঁদা সংগ্রহ করেছেন অন্যান্যদের সাথে। দেশ স্বাধীন হলে ফিরে আসেন মাতৃভূমিতে। শুরু করেন পুনর্গঠনের কাজ।
ফাহমীদা রশীদ চৌধুরী ১৯৩৮ সালের ১৭ জুন সিলেট শহরের ছড়ার পাড় এলাকায় পৈতিক নিবাসে জন্মগ্রহন করেন। তাঁর পিতার নাম মোহাম্মদ ইব্রাহিম, মাতা হামিদা বানু। ১৯৫৭ সালে বিট্রিশ বিরোধী আন্দোলনের নেতা সিলেটবন্ধু আমীনূর রশীদ চৌধূরীর সাথে তাঁর বিয়ে হয়।

খোদেজা কিবরিয়া

সিলেটে মহিলা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন তিনি। উত্তাল মার্চে সিলেটে মহিলা পরিষদের উদ্যোগে নারীদের যে মিছিল অনুষ্ঠিত হয় সেই মিছিল আয়োজনের উদ্যোক্তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন খোদেজা। মিছিলের অগ্রভাগে থেকে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন।
মুক্তিযুদ্ধের পুরোটা সময় দেশেই ছিলেন খোদেজা। সিলেট শহরের মীরাবাজারে অবস্থিত তাদের বাসায় অনেক মুক্তিযোদ্ধা আশ্রয় পেয়েছিলেন দুঃসহ সময়ে। মুক্তিযোদ্ধাদের খাদ্য ও অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন তিনি। তাছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে গোপনে যোগাযোগ রেখে তাদেরকে প্রয়েজনীয় তথ্য সরবরাহ করেছেন। নিজের জীবনের ঝুকি নিয়ে দেশ-মাতৃকাকে রক্ষায় তিনি ছিলেন তৎপর। রাজনীতিক স্বামীর সহচর্যে রীয়া হয়ে উঠেছিলেন অনন্য।
খোদেজা কিবরিয়া রীয়া ১৯৩৯ সালের ১১ ফেব্র“য়ারি জন্মগ্রহন করেন। তাঁর পিতার নাম আবু জাফর আব্দুল্লাহ। মাতা সৈয়দা রফিকুন্নেসা। ১৯৬০ সালে এডভোকেট দেওয়ান কিবরিয়া চৌধুরীর সাথে তাঁর বিয়ে হয়। ১৯৭৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

আবেদা চৌধুরী

নারী নেত্রী আবেদা চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধের অগ্নিগর্ভ সময়ে রাজপথে ছিলেন। স্বাধীকারের দাবীতে সিলেটের নারীদের উজ্জীবিত করতে যে ক’জন নারী মুখ্য ভূমিকা পালন করেন তিনি তাদের মধ্যে অন্যতম।
আবেদা চৌধুরী পারিবারিকভাবেই রাজনীতি সচেতন ছিলেন। পারিবারিক প্রাগ্রসরতা তাঁকে মুক্তিসংগ্রামে অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ করে। আবেদা চৌধুরীর নেতৃত্বে সিলেটে মহিলা আওয়ামীলীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯৭১ সালের মার্চ মাসে বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিনি সিলেটের নারীদের অসহযোগ আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। মার্চের উত্তাল দিনগুলোতে সিলেটে যে ক’টা মিছিল, সভা, র‌্যালী অনুষ্ঠিত হয় সেগুলোতে নারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। পাশাপাশি চাঁদা সংগ্রহের জন্য ঘুরে বেড়িয়েছেন শহরের এ প্রান্থ থেকে অন্য প্রান্থ। সে সময় মানুষ আট আনা, এক টাকার বেশি চাঁদা দিতনা। আট আনা এক টাকা করে প্রায় ৬ হাজার টাকা সংগ্রহ করে তিনি আওয়ামীলীগের ফাণ্ডে জমা দেন।
সিলেট শহর হানাদারদের দখলে চলে গেলে আত্মরক্ষার্থে গোলাপগঞ্জের কানিশাইলে চলে যান আবেদা চৌধুরী। কূলে ৩ মাসের শিশু ও অপর ছোট্ট দুই সন্তান নিয়ে নিকটাত্মীয় ইনাম উদ্দিন চৌধুরীর বাড়িতে অবস্থান করেন। সেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়মত যাতায়াত ছিল। হানাদার ও তাদের এ দেশীয় দূসরদের অবস্থান সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে তাদের তথ্য সরবরাহ করতেন তিনি। বিষয়টি স্বাধীনতার বিপক্ষের লোকজন অবগত হলে তাঁকে সেই স্থান ত্যাগ করতে হয়। তিনি সিলেট শহরে অবস্থিত হযরত শাহজালার (র.) এর দরগাহ এলাকায় অবস্থিত বোনের বাসায় আশ্রয় নেন। মুক্তিযুদ্ধের পুরোটা সময় সেখানেই ছিলেন। দেশ স্বাধীন হলে পুনর্গঠনের কাজে আত্মনিয়োগ করেন।
আবেদা চৌধুরীর জন্ম ১৯৪০ সালের ৫ মে। তাঁর পিতার নাম হুমায়ূন বখত চৌধুরী। মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার কানিশাইল ইউনিয়নের হাজিপুর গ্রামে তাদের বাড়ি। মুক্তিযুদ্ধের ৮ বছর পূর্বে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের মোস্তফাপুর গ্রামের ইছসত আহমদ চৌধুরীর সাথে বিয়ে হয়। দেশ স্বাধীনের পর সংরক্ষিত মহিলা আসনে আওয়ামীলীগের সাংসদ মনোনীত হন তিনি।

জেবুন্নেসা হক
১৯৬২ সালে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত হন সৈয়দা জেবুন্নেসা হক। ছাত্রলীগে নিজের অবস্থান তৈরী করে নিতে তেমন একটা বেগ পোহাতে হয়নি তাঁকে। কিছুদিনের মধ্যেই তিনি ছাত্রলীগের অন্যতম নেত্রী হিসেবে আবিভূত হন। ১৯৬২ সালের সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন, ৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন এবং ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি রাজপথে ছিলেন প্রতিবাদমুখর। এই আন্দোলন সংগ্রামে তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে রাজপথে নেমেছেন অনেক ছাত্র-ছাত্রী।
অসহযোগ আন্দোলনেও গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা ছিল তাঁর। প্রতিটি মিছিল সমাবেশে তাঁর উপস্থিতি নারী সমাজকে উজ্জীবিত করেছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশেই ছিলেন এই নারী নেত্রী। দেশের অভ্যন্তরে থেকে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদেরকে নানা তথ্য উপাত্ত দিয়ে সহায়তা করেছেন। দেশ স্বাধীনের পর নির্যাতিতা নারীদের পুনর্বাসনে আত্মনিয়োগ করেন তিনি। তাঁর সহায়তায় অনেক নারী নতুন করে শুরু করেন জীবন চলার পথ।
জেবুন্নেসা হকের জন্ম ১৯৪৪ সালের ১ ফেব্র“য়ারি মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার লস্করপুর গ্রামে। তাঁর স্বামীর নাম এনামুল হক। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ৩ পুত্র ও ৩ কণ্যা সন্তানের জননী। েেজবুন্নেসা হক বর্তমানে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য।

ফাতেমা চৌধুরী
ফাতেমা চৌধুরী ১৯৪৪ সালের ৪ আগস্ট সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার রণকেলী গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। তাঁর পিতার নাম আব্দুল হামিদ চৌধুরী ও মাতা সাঈদা খাতুন চৌধুরী। ১৯৬৩ সালে তাঁর বিয়ে হয় ফুলবাড়ির আবুল বশর চৌধুরীর সাথে। স্বামীর সাহচর্য্য তাঁকে জীবন চলার পথে প্রেরণা যুগিয়েছে।
পারিবারিক রাজনৈতিক সচেতনতাই রাজনীতির প্রতি তাঁকে আকৃষ্ট করে তুলে। ১৯৬৯ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উপস্থিতিতে মহিলা আওয়ামীলীগে যোগদান করেন তিনি। ’৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ’৭০ এর নির্বাচন এবং অসহযোগ আন্দোলনে রাজপথে সোচ্চার ছিলেন। ১৯৭১ সালে মার্চ মাসে সিলেটে অনুষ্ঠিত আওয়ামীলীগের সকল মিছিল সমাবেশে অংশগ্রহন করেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের সব রকমের সহায়তা করেছেন। ফাতেমা চৌধুরী শুধু নিজেই সম্পৃক্ত ছিলেন না স্বাধীকার লড়াইয়ের আন্দোলনে, ছোট ভাই ইয়ামিন চৌধুরীকে মুক্তিযুদ্ধে সম্পৃক্ত হতে প্রেরণা যুগিয়েছেন। মাত্র ২১ বছর বয়সে ইয়ামিন চৌধুরী যুদ্ধের ময়দানে ঝাপিয়ে পড়েন। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য ইয়ামিন চৌধুরীকে বীর বিক্রম উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
দেশ স্বাধীনের পর ফাতেমা চৌধুরী আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। বিএনপি থেকে তিনি ১৯৭৯, ১৯৯১ এবং ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনে মনোনীত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০০ সালের ২৫ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরন করেন।

জাহানারা আফসার
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় জাহানারা আফসার ছাত্রইউনিয়েনর সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। মার্চের উত্তাল দিনগুলোতে হাতেগুনা যে দু’চারজন নারী হবিগঞ্জ শহরে মিছিল, মিটিং সমাবেশের সাথে যুক্ত ছিলেন তাদের মধ্যে জাহানারা আফসার অন্যতম।
হবিগঞ্জ শহরের রাজনগরে অবস্থিত তাদের বাসাটি রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের অঘোষিত অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হত। স্বামী আফসার আহমেদ ছিলেন ভাসানী ন্যাপের সভাপতি। সে কারনে উত্তাল মার্চের দিনগুলোতে করণীয় নিয়ে অনেকগুলো মিটিং অনুষ্ঠিত হয় তাদের বাসায়। প্রতিটি সভাতেই জাহানারা আফসার উপস্থিত থাকতেন। সেই সাথে হবিগঞ্জ শহরে শিরিশতলাসহ অন্যস্থানে অনুষ্ঠিত সভাগুলোতেও অংশ নিয়েছেন তিনি। র‌্যালীতে ছিলেন অগ্রভাগে।
হবিগঞ্জ শহর ছেড়ে যখন ভারতের কৌলাশহরে আত্মীয়ের বাসায় স্বামীসহ আশ্রয় নেন, তখন মুক্তিযোদ্ধাসহ হবিগঞ্জের নেতৃস্থানীয়দের অনেকে সেখানে আসতেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হচ্ছেন, এনামুল হক মোস্তফা শহীদ, কমাণ্ডেন্ট মানিক চৌধুরী, মোস্তফা আলী, রাজা সাহেব প্রমুখ। কাঙ্খিত লক্ষ্য কিভাবে অর্জন করা যায় তা নিয়ে তাদের বাসায় আলোচনা চলতো ঘন্টার পর ঘন্টা।
জাহানারা আফসারের জন্ম ১৯৪৮ সালে। তাঁর পিতার নাম মীর আমজাদ হোসেন। স্বামী হবিগঞ্জ জেলা বারের আইনজীবি আফসার আহমেদ।

তথ্যসূত্র
১. তাজুল মোহামম্মদ, জোবায়দা খাতুন চৌধুরী: সংগ্রামী নারীর জীবনালেখ্য, সাহিত্য প্রকাশ, ঢাকা ২০০৮
২. ফাহমীদা রশীদ চৌধুরী ও অপূর্ব শর্মা সম্পাদিত, সিরাজুন্নেসা চৌধুরী জন্মশতবর্ষ স্মারকগ্রন্থ, ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ, ঢাকা ২০২০
৩. সুহাসিনী দাস সংবর্ধনা গ্রন্থ, সম্পাদনা পরিষদ, সিলেট ১৯৯৯
৪. শামসাদ হুসাম ও মাসুম রহমান আকাশ, কালের ক্যানভাসে যারা, শেকড়ের সন্ধানে, সিলেট, ২০০২
৫. রনেন্দ্র তালুকদার পিংকু, সুনামঞ্জে মুক্তিযুদ্ধ, প্রকাশক সামছ উদ্দিন সামাদ, ২০০৮
৬.তাজুল মোহাম্মদ, হেনা দাস: জীবন নিবেদিত মুক্তির প্রয়াসে, সাহিত্য প্রকাশ, ঢাকা ২০০৯
৭. হেনা দাস, স্মৃতিময় ’৭১, সাহিত্য প্রকাশ, ঢাকা ১৯৯১
৮. ছায়াতরু, ঊষা দাশপুরকায়স্থ স্মৃতি রক্ষা পরিষদ, সিলেট, ২০০৮
৯. এ.জেড লায়লা জেবীন (শামীমা), আমার মা, অপ্রকাশিত প্রবন্ধ, ২০১২
১০. মুক্তিপথের অভিযাত্রী: আমীনূর রশীদ চৌধূরী, সাহিত্য প্রকাশ, ঢাকা ২০১১
১১. সমাজ সেবী ও মহিলা পরিষদ নেত্রী খোদেজা কিবরিয়ার, রোখসান সীমা শবনম, ঢাকা, ২০১২
১২. জাহানারা আফসার-এর সাক্ষাৎকার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১২
১৩. একাত্তরের বিজয়িনী, দৈনিক কালের কন্ঠ, ৯ মার্চ ২০১১
১৪. রতœা চক্রবর্তীর সাক্ষাৎকার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১২
১৫. নিবেদিতা দাশের সাক্ষাৎকার, ৯ নভেম্বর, ২০১২
১৬. আমাদের একাত্তর, সম্পাদনা তাজুল মোহাম্মদ, উৎস প্রকাশন, ঢাকা ২০০৯

আগের অংশ পড়ুন

মুক্তিযুদ্ধে সিলেটের নারী (পর্ব:৫)

 

নিউজটি শেয়ার করুন







© All rights reserved © 2015 womenwords.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ