বিয়ের জন্য কনে অপহরণ করে ধর্ষণও অপরাধ নয় যেখানে!

নিউজটি শেয়ার করুন

সেখানকার রাস্তা দিয়ে হেঁটে যেতেও ভয় পান অবিবাহিত নারীরা। আর চেহারা একটু সুন্দর হলে সেই ভয় বেড়ে যায় কয়েকগুণ। ইলজাত কাজাকবেভা নামের এক তরুণীরও সেই ভয় ছিল। তার পরেও বাড়ির বাইরে নিজের নানা প্রয়োজনে তাকে বের হতে হয় তাকে।

পাঁচ বছর আগে একদিন বাড়ির বাইরের রাস্তায় বের হওয়ার পর আর ফিরে যাওয়া হয়নি তার। কয়েকজন তরুণ তাকে তুলে নিয়ে যায় বিয়ের জন্য। অবশ্য কিরগিজস্তানের মতো জায়গায় এটা অন্যায় নয়।

সেখানে অবিবাহিত তরুণীকে বিয়ের জন্য অপহরণের পর ধর্ষণ এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন করাও অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করাা হয় না। যদিও এ ধরনের ঘটনা আরমেনিয়া, ইথিওপিয় এবং কাজাখস্তানেও ঘটে।

২০১৩ সাল থেকে কিরগিজস্তানে বিয়ের জন্য কোনো তরুণীকে অপহরণ ও ধর্ষণের ঘটনাকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে এখনো সেই প্রচলন বন্ধ হয়নি।

নারীদের অপহরণের পর ধর্ষণ করলেও তেমনভাবে বিচারের আওতায় নিয়ে আসা যায় না। উল্টোদিকে কোনো নারীকে অপহরণের পর নির্যাতন শেষেও সে যদি বিয়েতে রাজি না হয়, তাহলে মেয়েরই দোষ খোঁজে পরিবার।

কিন্তু ২০১৮ সাল থেকে এ প্রথার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়ে আসছেন সচেতন নতুন প্রজন্ম। গত বছর ২০ বছর বয়সী বুরুলাই নামের এক মেয়েকে অপহরণের পর নির্যাতনে মেরে ফেলার ঘটনার পর তোলপাড় শুরু হয়।

তাকে হত্যার দায়ে ২০ বছরের কারাদণ্ড হয় দোষী ব্যক্তির। সেই ঘটনার পর কিরগিজস্তানে বিয়ের জন্য অপহরণবিরোধী আন্দোলন গতি পায়। এ বছরও সেই আন্দোলন চলছে।

মলদোসেভা নামে এক তরুণী বলেন, আমাদের দেশে কি এ ধরনের অত্যাচারের বিরুদ্ধে আমরা মেয়েরা রুখে দাঁড়াতে পারি না? বিয়ের পাত্রী অপহরণ করা আমাদের প্রথা হতে পারে না। এটা বন্ধ করা দরকার।

বিয়ের পাত্রী অপহরণের বিরুদ্ধে করা আন্দোলনের অংশ হিসেবে ফ্যাশন শোর আয়োজন করা হয়। তাতে ১২ জন মডেল অংশ নেন। এতে অংশ নিয়ে গর্বিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন মডেলরা।

পাঁচ বছর আগের বিভৎসতা প্রসঙ্গে কাজাকবেভা বলেন, আমার মনে হচ্ছিল যে, আমি কোনো জন্তু। আমি কোথাও যেতেও পারছিলাম না, আবার কিছুই করারও ছিল না।

তিনি আরো বলেন, সবচেয়ে সমস্যায় পড়েছি দাদিকে নিয়ে। তিনি প্রথা খুব মানতেন। তিনি মনে করেন যে, আমি যদি অপহরণ হওয়ার পরেও ওই ছেলেকে বিয়ে নাকি করি, সেটা হবে অকল্যাণের। সে কারণে তিনিও আমাকে বিয়েতে রাজি হওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন।

বর্তমানে এই নারী অপহরণ করে বিয়ের প্রথাবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন। ওই ঘটনার পর আর বিয়ে করেননি। কোনো পুরুষকেই তিনি আর বিশ্বাস করতে পারেন না। কারণ, তিনি যে ধরনের নির্যাতন সহ্য করেছেন, সেটাতে মানসিক এক ধরনের সমস্যাও তৈরি হয়েছে। সেটা কাটিয়ে উঠতে পারছেন না তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *