সোমবার, ২২ অক্টোবর ২০১৮, ১২:০৫ অপরাহ্ন

ফিরোজা

শেখ মাহফুজা রশিদ

আমি যখন জীবন অধ্যায়ের সবচাইতে খারাপ সময় পার করছিলাম তখন আমার সবচাইতে ভালো বন্ধুটি আমাকে উপেক্ষা করে যাচ্ছিলো,মাঝেমধ্যে যদিও বা তার সাথে এটা সেটা নিয়ে কথা হয় বা হচ্ছিলো এবং বেশিরভাগই সময় আমি তার কাছ থেকে একটু ‘সময়’ আশা করতাম কারণ এই একটা মানুষই আমাকে শান্তির বার্তা দিতো। কিন্তু তখনই দেখা গেলো তার এড়িয়ে যাওয়ার অসাধারন ক্ষমতার প্রকাশ। এইভাবেই দিন যায়, কথাগুলো জমা হয়, জমা হয় মান অভিমান; এর মধ্যে দিয়েই আমি বার বার তাকে কল দিতাম, মেসেজ করতাম কোনো উত্তর আসতো না, আমি অপেক্ষায় থাকতাম উত্তর অবশ্যই আসবে আসতেই হবে।
একটা মানুষ যে আমার করে দেওয়া প্ল্যান নিয়ে আশাবাদী হয়ে উঠছিলো,জীবনের পথ চলতে শুরু করেছিলো,সময়গুলো কাজে লাগাতে শুরু করছিলো,প্রচন্ড পজিটিভ ধারণা নিয়ে তার একটা একটা দিনকে অর্থবহুল করে তোলার সিড়িতে পা দিয়ে চলা আরম্ভ করেছিলো, যার গুরুত্বপূর্ণ ডিসিশন আমার জন্য তুলে রাখা হতো, এমনকি তার পরিবারের একান্ত ব্যক্তিগত সমস্যাও আমিই এনালাইসিস করতাম, সে আমার ডাকে সাড়া দিবেই দিতেই হবে,আমি জানি সে আমাকে প্রচন্ড ভালোবাসে, আমি তার একেবারে অন্তঃস্থলের বন্ধু, সেও এটাই জানে যে আমিও তাকে ভালোবাসি।
তাহলে হঠাৎ এতো বদলে যাবে কেনো?
এতো তীব্রতম ভালোবাসা,সরল বিশ্বাস,অসাধারণ বোঝাপড়ার আন্দোলন থেকে জীবনের শেষ মুহূর্তের আগ পর্যন্ত কেউ ছিটকে পড়তে পারে না,কোনোভাবেই না, এই ভাবনা থেকেই উত্তর আসার অপেক্ষা নিয়ে দিনের পর দিন মাসের পর মাস বসে থাকতাম;কিন্ত হায় সবই বৃথা হয়ে গেলো যখন আমার অপেক্ষা শুধু দীর্ঘায়িত হচ্ছিলো; কোনো উত্তর আসছিলো না।
আমি ভেতরে ভেতরে খুব ভেঙে পড়তে শুরু করলাম।জীবন থেকে অজস্র সময় চলে যাচ্ছে আর আমি বর্তমান থেকে পিছিয়ে যাচ্ছি।
আমি মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত এটাও বুঝতে পারলাম কিন্তু এই অবস্থা থেকে উত্তরণের কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছিলামনা।
একটা সময় পর একজন মানুষের এতো নিরুত্তাপ থাকাটা আমাকে আঘাত করতে শুরু করলো,আমার ব্যাক্তিত্ব,আমার আত্মমর্যাদাবোধ,আমার খারাপ লাগা এবং ভালোলাগাতে খুব আঘাত করতে থাকলো। অতঃপর –
আমি হিসাব মিলাতে বসলাম এবং স্পষ্টতই দেখলাম আমার জীবনে তার কোনো অবদান নেই বরং তার জন্য আমি আমার নিজেকে গুরুত্ব দেয়া কমিয়ে দিচ্ছিলাম।
আমি আঁতকে ওঠলাম এবং আমার সমস্ত সত্তা খুব জোরে চিৎকার করে উঠলো, হেই কোমলপ্রাণ, তুমি নিজেকে হারাতে বসেছো কেনো?
যাও ফিরে তোমার একান্ত নিজস্ব ভাবনার কেন্দ্রবিন্দুতে, নিজেকে সময় দাও,নিজের জন্য ভাবো, নিজেকে গড়ে তোল,শুধু নিজের জন্য বাঁচো!
আমি একটু একটু করে আমার বন্ধুটাকে ভুলে যেতে শুরু করলাম এবং আমার নিজস্ব পৃথিবীতে তার অনুপ্রবেশ বন্ধ করে দিলাম।
অনেকদিন পর আবারো দেখলাম, অনুভব করলাম আমি খুব আত্মবিশ্বাসী একজন মানুষ এবং আমার নিজের দেখাশুনা নিজেই করতে পারি।
বাহ্ পৃথিবী অনেক সুন্দর, আমি নিজের হাতে চা বানালাম এবং চায়ের মগ হাতে নিয়ে ছাদে গেলাম; তখনই জীবনানন্দ এসে বললেন “বনলতা সেন” একটি কাল্পনিক চরিত্র।
চায়ের মগ খালি হওয়ার অব্যবহিত পরে আমি ঠিক করলাম আমি যুদ্ধে যাবো,এবং আমি হয়তো এটাই চেয়েছিলাম।

 

নিউজটি শেয়ার করুন







© All rights reserved © 2015 womenwords.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ