মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ০৮:১৯ পূর্বাহ্ন

জীবন যখন যেমন

রোমেনা লেইস

অভিজ্ঞতাটা শেয়ার না করে পারছি না। আমি আর আমার হাজবেন্ড রিলাক্স মুডে জ্যাকসন হাইটস্ এর প্রিমিয়ামে খেতে এসেছি।সাতটা পার হয়ে গেছে।দুই চক্কর দেয়ার পর জুৎসই একটা পার্কিং পাওয়া গেল। Fire hydrant থেকে আট ফিট দূরে ।বার কয়েক চেক করে সব ঠিকঠাক দেখে আমরা সুন্দর একটা টেবিল বেছে নিয়ে বসে পড়লাম।মনমত খাবার অর্ডার দিয়ে বসে কতো কী গল্প করছি।খাবার দিয়ে গেলে বেশ মজা করে খেলাম।তারপর চা নিলাম।এদের চা খুব ভালো বানায়। আয়েশ করে চা খেয়ে বিল আনতে বললাম ।বিল পরিশোধ করে মিষ্টি নিলাম বাসায় নেয়ার জন্য ।ওখান থেকে বের হয়ে মান্নান গ্রোসারী থেকে আরো কিছু টুকিটাকি জিনিস কেনাকাটা করলাম আর কিনলাম ‘প্রথম আলো’।

এরপর আমরা যেখানে গাড়ি পার্ক করা আছে সেখানে গেলাম। কিন্তু আমাদের গাড়ি কই?গাড়ি নাই।মনে হচ্ছে যাদুমন্ত্র বলে ভেনিস হয়ে গেছে গাড়ি। আমার হাজবেন্ড বললো -চুরি হয়ে গেলো নাকি? -নাকি টো করে নিয়ে গেল। গাড়ি নাই। সাথে সাথে মনে পড়লো আমাদের নিউজার্সীতে থাকা এক আত্মীয়ের কথা ।যিনি গাড়ি রেখে মান্নান গ্রোসারী তে শপিং করে ফিরে এসে দেখেন গাড়ি নাই! আমরা ডানে বামে তাকিয়ে হঠাৎই আবিষ্কার করলাম উপরে লেখা আছে ‘নো স্ট্যান্ডিং এনি টাইম’। আরে পার্ক করার সময়ত বারবার দুইজনে ভাল করে চেক করলাম। তারপর দেখি আবার একজনের ড্রাইভ ওয়েও কিছুটা ব্লক করেছিলো আমাদের গাড়ি। ইস আমরা কী এতো বেশী ক্ষুধার্ত ছিলাম! যে তখন এগুলো চোখে পড়েনি!এসব আমাদের চোখ এড়িয়ে গিয়েছিলো আগে । আমি একটা বাড়ির সিঁড়ির ধাপে বসে পড়লাম । আনন্দময় সময়টুকু একমূহুর্তে আমার কাছে অসহ্য কালোয় ঢেকে গেলো। নিজের চুল নিজে রাগে দুঃখে ছিড়তে ইচ্ছে করছে।বিষাদে মন ভরে গেল। আমার হাজবেন্ড ৩১১ এ কল দিলেন। -টো হয়ে গেছে আমার কার। দশমিনিট পনেরো মিনিট ফোনালাপ চলছে।আমি সিঁড়িতে বসে দোয়া ইউনুস পড়ছি।

নদার্ন বুলভার্ডে যে পুলিশ প্রিসিন্ট ওখানে যেতে বললো। আর বললো যে তোমার গাড়ির কোনো তথ্য এখনো আমরা পাইনি। তুমি হোল্ড করো আমি সিস্টেমে চেক করে দেখি। আমি আমার হাজবেন্ডকে বললাম -আমরা কী সাবওয়ে দিয়ে যাব? -না না আমরা কার সার্ভিস নিয়ে যাব। ঐ সময় আমি আমার মেমোরী রিকল করে মনে পড়লো, ও আমাকে পার্কিং করার সময় পেছনের গাড়ি বের হতে পারবে কিনা নেমে দেখতে বলেছিলো।কিন্তু সেই গাড়িটিও ওখানে নেই ।এটি একটি মিনি ভ্যান। হঠাৎ আমি পেছনের ব্লকের দিকে হাঁটতে শুরু করলাম। আমাদের ভুল হচ্ছে । আমাদের ভুল হচ্ছে বলতে বলতে পেছনে দৌড়াচ্ছি ।আমার হাজবেন্ডও আমাকে ফলো করছে। আর ক্রসওয়াকে রেডলাইটে দাঁড়িয়ে দেখি আর চিৎকার করে বলি –ঐ যে আমাদের গাড়ি! ঐ যে ওখানে আমাদের গাড়ি।

নিউজটি শেয়ার করুন







© All rights reserved © 2015 womenwords.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ