মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ০৭:২৪ পূর্বাহ্ন

উত্ত্যক্তকারীদের সঙ্গে সেলফি তুলে যৌন হয়রানির প্রতিবাদ

উত্ত্যক্তকারীদের সঙ্গে সেলফি তুলে যৌন হয়রানির প্রতিবাদ

নেদারল্যান্ডসের রাজধানী আমস্টারডামে থাকেন ২০ বছরের তরুণী  নোয়া ইয়ন্সমা। তিনি একজন শিক্ষার্থী। কোনো কারণে রাস্তায় বেরোলেই বখাটে ছেলেপুলে শিস দেয়, উত্ত্যক্ত করে তাঁকে। তাও সেটা বেশি পরিমাণে। ইভটিজাররা তাঁকে নোংরা কথা তো বলেই, যৌন সংসর্গেরও প্রস্তাব দেয়।

নোয়ার একেবারে মাথা খারাপ হওয়ার জোগাড়। এমন বিদ্‌ঘুটে পরিস্থিতি থেকে পার পাওয়ার উপায় কী?

বাতচিত করে যে এসব আপদ দূর করা যাবে, তা নয়। বরং হিতে বিপরীত হতে পারে। তাই প্রতিবাদের নতুন পথ খুঁজে বের করেন নোয়া। উত্ত্যক্তকারীদের সঙ্গে সেলফি তুলে তা পোস্ট দিতে থাকেন ছবি শেয়ারের সামাজিক ওয়েসবাইটে।

বিবিসি অনলাইনকে নোয়া বলেন, অনেক পুরুষ রাস্তায় তাঁকে দেখে শিস বাজাত। কেউ কেউ আবার তাঁর পথ আগলে দাঁড়াত। তিনি বলেন, ‘আসলে কোনো পুরুষ এভাবে উত্ত্যক্ত করলে বা যৌন হয়রানি করলে কী করা উচিত, সে বিষয়ে আমার কোনো ধারণা ছিল না। আমি যদি সরাসরি এর বিরুদ্ধে যেতাম, তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতো। হয়তো তা হাতাহাতিতে গড়াত।’

কিন্তু এই বিষয়টি স্রেফ উপেক্ষা করতে পারছিলেন না নোয়া। কীভাবে একজন মানুষ আরেকজনের পথ আগলে যৌন হয়রানি করতে পারে—তা ভেবে ‘অদ্ভুত অনুভূতি’ হচ্ছিল তাঁর। একপর্যায়ে নোয়া উত্ত্যক্তকারীদের সঙ্গে সেলফি তোলা শুরু করেন।

প্রথম দিকে কেউ জিজ্ঞেস না করলে, নোয়া বলতেন না—কেন এই ছবি তোলা। কেউ জিজ্ঞেসও করত না। হয়তো নোয়ার সঙ্গে ছবি তুলে বিকৃত আনন্দ অনুভব করত তারা।

প্রায় এক মাস এভাবে উত্ত্যক্তকারীদের সঙ্গে সেলফি তুলে তা ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেছেন নোয়া। আগস্টের শেষ থেকে সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত এই কাজ করেছেন তিনি। এই সময়ের মধ্যে এক ব্যক্তিই কেবল এর কারণ জিজ্ঞেস করেছিলেন। নোয়া তাঁকে জানিয়েছিলেন যে, এই ছবি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করতে চান। তাতে অবশ্য আপত্তি করেননি ওই উত্ত্যক্তকারী।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর এক উত্ত্যক্তকারীর সঙ্গে সেলফি তোলেন নোয়া। ছবিটি ইনস্টাগ্রাম থেকে নেওয়া।

নোয়া বলেন, ‘আমার ছেলেবন্ধুরা কখনো চিন্তাও করতে পারবে না, আমরা কী সহ্য করি! এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এভাবে নারীদের যৌন হয়রানি বা উত্ত্যক্ত করা হয়। বিষয়টি খুব অদ্ভুত যে, পৃথিবীর অর্ধেক মানুষের (পুরুষ) কাছে এটি কোনো বিষয়ই নয়। আর প্রতিদিন আমাদের (নারী) এর মুখোমুখি হতে হয়।’

তবে ইনস্টাগ্রামে সেলফি পোস্ট করে উত্ত্যক্তকারীদের সামাজিকভাবে লজ্জা দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল না নোয়ার। তিনি শুধু এ ব্যাপারে নিজের বক্তব্য প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন। নোয়া বলেন, ‘যদি ওই ব্যক্তিরা আমাকে ছবিগুলো সরিয়ে ফেলতে বলত, তবে আমি তা করতাম। কারণ, তাদের জীবন ধ্বংস করা আমার উদ্দেশ্য ছিল না। আমার কাছে এটি ছিল আয়নায় মতো। রাস্তায় সবার সামনে তারা আমার ব্যক্তিগত বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেছে। তাই আমিও তাদের বিষয়টি সামনে এনেছি।’

নোয়া নিজের এক মাসের এই কাজের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী নারীদের মধ্যে যৌন হয়রানি ও উত্ত্যক্তের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করতে চান। তিনি বলেন, ‘আমি ইনস্টাগ্রামের এই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ভিন দেশের, ভিন্ন শহরের নারীদের দেখাতে চাই যে, এটি যেকোনো জায়গায় যে কারও সঙ্গেই হতে পারে।’

সূত্র: প্রথম আলো

 

নিউজটি শেয়ার করুন







© All rights reserved © 2015 womenwords.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ