মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৯:০৬ অপরাহ্ন

অন্তরালে (পর্ব:তিন)

অনন্যা হক

পারুল রাহেলাকে টেবিলে খাবার দিতে বলে এবং সবাইকে খেতে ডাকেরাহেলা কে বলে, যাও তোমার বাইরের কাজ সেরে গোসলে যাও

পারুল এই রীতি টা মেনে চলে সব সময়যখন নিজেরা  এক সাথে হয়, চোখের সামনে রাহেলার ঘুরঘুর করা তার পছন্দের নয়কারণ, প্রাইভেসি রক্ষা করে চলা তার  অন্যরকম পছন্দের বিষয়

টেবিলে সব দিয়ে সে নিজেও খেতে বসে তদারকি করতে গিয়ে পরে খাওয়া, সে নিজের বাসায় এসেই বাদ দিয়েছে আগে মা চাচী দের দেখেছে সবার পরে খেতে খেতে বিকেলে

শ্বশুর বাড়িতে যত দিন নিজে ছিল, সেখানেও তাই ছোট থেকেই তার নিজেকে দ্বিতীয় শ্রেণীর  অথবা ভিন গ্রহের বাসিন্দা মনে হত

পারুল দেখেছে, শফিক কখনও খেয়াল করে বলে না, তুমিও বস আমাদের সাথেকিন্তু পারুলের  এই বোধ টা টনটনে নিজের  অবস্থান  অন্য কে বুঝিয়ে না দিয়ে  আফসোস করা টা তার কাছে   এক ধরণের দুর্বলতা মনে হয়

শফিক আহমেদ তার স্বামীকাছেই অফিস, দুপুরে বাড়িতে খেতে আসে চার জন বসে খাচ্ছে

শফিক খেতে খেতে ছেলে কে বলে, পড়াশোনা ঠিক মত করছ তো বাবা  অভি, নাকি শুধু খেলা নিয়েই ব্যস্ত থাক? স্বাস্থ্য টাও তো ভাল হচ্ছে না, ঠিকমতো বোধহয় খাও না এই বয়সে সব খাবে ঠিকমতো,  না হলে মস্তিষ্কের গঠন ভাল হবে না, লেখা পড়ায় পিছিয়ে যাবে

বলে নিজের থালা থেকে মুরগীর কলিজা টা ছেলের পাতে উঠিয়ে দিয়ে বলে, এটা খাও, প্রতিদিন খাবে

পারুলের খাওয়া টা একটু ধীর হয়ে যায় মেয়ের মুখের দিকে তাকায় দেখে মেয়ে এক মনে খুব যত্ন করে মাখিয়ে ভাত খেয়ে যাচ্ছে,  কোন ভাবান্তর নেই

পারুল একটু কষ্ট পায়টেবিলে আরো একটা সন্তান আছে, এটা কেমন আচরণ? হোক ক্ষুদ্র ব্যাপার, কিন্তু মনে দাগ কাটেশফিকের মুখের দিকে অবাক চোখে  তাকায় তারপর বলে ওঠে,  আজ ভাইয়া খাবে, কাল চাঁপা খাবে, ঠিক আছে?

চাঁপাও বড় হচ্ছে, ক্লাস ফাইভে পড়েমেয়ে লেখা পড়ায় যথেষ্ট ভালশফিকের কি  এসব মাথায় নেই?

সে মেয়েকে ভালবাসে, আদর করে, ব্যস এই পর্যন্তইকিন্তু মনোযোগ আর গুরুত্ব যেন এক পাল্লায় গিয়ে পড়ে, আগেও খেয়াল করেছে

সেই একই চিত্র শুধু এক এক পরিবারে, ভিন্ন ভিন্ন লোকের মাধ্যমে প্রকাশ পায়

খাওয়া শেষে শফিক উঠে গেল বলতে বলতে গেল, চাঁপা আমার ঘরে  এক জগ পানি দিয়ে যেও

পারুল টেবিল গোছাতে গোছাতে বলে,দুজনেই ঘরে যাওহয় ঘুমোবে,  না হয় পড়বে অভি কিন্তু বিকেলের  আগে বাড়ি থেকে এক পাও বের হবে না

চাঁপা বলে, ভাইয়া চল লুডু খেলি

তোর সাথে কি খেলবো, তুই তো একটা গাধা ! বলে অভি মায়ের আঁচলে হাত মুখ মুছতে লাগলো।

মা দেখ ভাইয়া আমাকে সব সময় এমন করে কথা বলে

অভি , আর একবার যদি শুনি বলে পানির জগটা ছেলের হাতে ধরিয়ে দেয় যাও বাবার ঘরে  দিয়ে যেও

চাঁপা দাঁড়িয়ে থাকে মা, রাহেলা বুবু কই? আমি একটু কাঁচা আম পাড়বো, আম মাখা খেতে ইচ্ছে করছে পারুল বোঝে, চাঁপা তো ঘুমোবে না, মাথায় একটা বাহানা ঢুকে আছে

মা জানো, বাইরের উঠোনের একটা গাছের আম, কাঁচাই অনেক মজা কখন খেলি তুই?

কাল একটা পেড়ে খেয়েছি কেমন করে পাড়লি?

নীচের দিক থেকে ডাল উঠেছে মা, আমি একাই উঠেছিলাম

আজকাল এগুলোও করে বেড়াচ্ছো?

 আচ্ছা ঘরে যাও, এখন অনেক রোদরোদ পড়লে, দুজনে এক সাথে গিয়ে পাড়বো

মা তুমি গাছে উঠতে পার?

হ্যা পারিতোমার মত কালে, আমিও অনেক গাছে উঠেছি

চাঁপা ঘরের দিকে ছুটলো এখন যেন দৌড় ছাড়া চলতেই পারে না

চলবে…

গল্পের আগের অংশ পড়ুন

অন্তরালে (পর্ব দুই )

 

নিউজটি শেয়ার করুন







© All rights reserved © 2015 womenwords.com
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ