বীরাঙ্গনাকাব্য

শবনম সুরিতা ডানা এক. ঘরে ঢুকলেই ছোট ছোট হাতের দল এগিয়ে এসে আমায় ছুঁতে চায়। আমি তাদের স্পর্শ গ্রহণ করি। আমার রোজকার স্পন্দনহীনতা দিয়ে বুঝতে চেষ্টা করি যুদ্ধ পেরিয়ে আসা ছ’বছরের আয়েশার দৃষ্টিকে। আমি বুঝিনা, পদে পদে ভুল করি। উল্টো দিকে থাকা শিশুদের অনেক ধৈর্য্য। তারা সযত্নে আমায় বোঝায়। গবেষণার সাথে সাথে সময়

কতটা উন্নাসিক হলে ‘অবাঙালি’ শব্দ আবিষ্কার করতে পারে

শবনম সুরিতা ডানা গতকাল হলভর্তি ইরানী, জার্মান ও রাশিয়ান নারীদের সামনে বাংলা ও উর্দু গান গাইলাম। কেউ আমার ভাষা বোঝেনি, অথচ সবাই শুনেছে। প্রসাদকাকুর তৈরী করা 'আমি তোমারি নাম গাই'- গানের হিসেবে কী বলতে চায়, তা কেউ বোঝেননি, অথচ গায়নের, সুরের ও সময়ের আবেগ তাঁদের কাছে পৌঁছতে বেগ পায়নি মোটেও। আমার

ভালোবাসা কেবলই ‘সব ভালো’-র উদযাপনের মুখোশে দুর্বলতাকে অস্বীকার

শবনম সুরিতা ডানা আমাদের জীবনে সেরকমভাবে দেখতে গেলে ছন্দপতন একটা অস্বাভাবিকতা। যা চলছে, যেমনভাবে চলছে, তা যতই অস্বস্তির, নোংরা বা অন্যায় হোক না কেন, তালে তাল মিলিয়ে চলে যেতে পারলেই, সব ঠিক আছে। মোটামুটি ভদ্রস্থ পড়াশোনা, একটা চাকরি, একটা সংসার, বছর ঘুরলে পুরী-দার্জিলিং-সব মিলিয়ে এই বেশ ভালো আছি। 'ভালো লাগছে না'

চিত্তরঞ্জন লেনের ‘যুগশক্তি’ বাড়িটা

শবনম সুরিতা ডানা গ্রীষ্মকাল হোক কিবা শীতের দিন। ছোটবেলার ছুটি মানেই ছিল ধূলো উড়িয়ে, ঘাম ঝরিয়ে দল বেঁধে করিমগঞ্জে দাদুর বাড়িতে হানা দেওয়া। ভারতবর্ষের একটি নিতান্ত প্রান্তিক শহরের তস্য প্রান্তিক কোণে সরু হাড় জিরজির করতে থাকা ‘চিত্তরঞ্জন লেন’। সেই গলিতে নাক বরাবর হাঁটলে খান কতক বাড়ি পেরোলেই টিমটিম করা একটি নীচু

কর্ম যখন প্রবল আকার

শবনম সুরিতা ডানা এক. সাদা কাগজের দিকে ঠায় তাকিয়ে আছি। তাকিয়ে থাকতে আজকাল আর সাহস লাগে না। চোখ ফেরাতে তাও ধক লাগে অনেক। এখন মানুষের মুখের থেকে চোখ ফেরানো কঠিন। তুলনায় অমানুষদের সাথে বাক্যালাপ বরং অনেক সহজ। ঠিক যেভাবে প্রসাদকাকুর থেকে চোখ ফিরিয়ে নিতে পেরেছি আমি। বুঝেছি, ওখানে একটা মানুষ ছিল একটু

বিস্মৃতি

শবনম সুরিতা ডানা দুম করে সেদিন একজন জিজ্ঞেস করে বসলেন, “আচ্ছা, আপনার সবচেয়ে বেশি অস্বস্তি কীসে?” এমন প্রশ্নেরও যে কোন উত্তর হয়, বা এমন যে আদৌ কোন প্রশ্ন হতে পারে সেটা তার আগে আমার জানা ছিল না। স্বভাবতই ঘাবড়ে গেলাম। উত্তর দিতে পারলাম না। কিন্ত প্রতিবারের মত এবারো প্রশ্নটা মাথায় গেঁথে

শুভশ্রীর প্রতিদিন…

শবনম সুরিতা ডানা শুভশ্রীকে দেখতে বেশ। সে যে রঙের কাপড়ই গায়ে মেলে ধরুক না কেন, তাতে রঙের না শুভশ্রীর কার ঔজ্জ্বল্য আসলে বাড়ে, তা বলা মুশকিল। সে ঘরে এসে ঢুকলে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ কথোপকথনেরা খানিক হলেও থেমে দীর্ঘশ্বাস ফেলে। শুভশ্রীর ফিরে তাকানোর ওপর অন্তত জনা দশেক মানুষের নিত্যরাতের ঘুম নির্ভর করে চলে।

নাম-মাহাত্ম্য

শবনম সুরিতা ডানা মানুষের নাম দু'ধরনের হয়। এক, যে নাম জিজ্ঞেস করার আগেই মানুষ আন্দাজ করে নেয়। আর দুই, যে ধরনের নাম দশবার জপলেও ঠোঁটের বশ মানতে চায়না। সৌভাগ্যবশত আমি এই দ্বিতীয় দলে পড়ি। এই নামের কাছে আমি আমৃত্যু ঋণী হয়ে থাকব জানি। কেন তা বলছি একটু পরেই। শোনা যায় আমার জন্মের

অবিশ্বাসের ভাইরাস

শবনম সুরিতা ডানা জন্মের পর চোখ ফুটতে সময় লাগে বেশ কয়েক ঘন্টা। কোন কোন ক্ষেত্রে কয়েক দিনও লেগে যেতে পারে। চোখ মেলে চারদিক দেখতে থাকি আমরা, আর আস্তে আস্তে বোঝার চেষ্টা করি দুনিয়াটা আসলে কী জিনিস। চাইলেই আশেপাশের সবকিছু নিজেদের মত করে এক একটা নাম দিতে পারতাম হয়ত, কিন্ত তেমন নিয়ম

ভেতরকার পার্টিশন বাঙালিকে বাঁচতে দেবে তো?

শবনম সুরিতা ডানা সময়ের সাথে বাড়ছে বয়স। সাথে তাল মিলিয়ে অবসরও। আমার অবসর মস্তিষ্কেই বিবিধ চিন্তা ভালো খেলে সাধারণত। এমনই কোন অলস দুপুরে ফ্যানের দিকে তাকিয়ে অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ নিয়ে ঢালাও ভাবনা-চিন্তা সাজাচ্ছিলাম, একান্তে। যুক্তি দিয়ে বুঝতে চাইছিলাম কেন আমাদের সামাজিক চিন্তা বরাবরই অতীত আর ভবিষ্যতেই সীমাবদ্ধ। বর্তমানের ভূমিকা কেন সেখানে