জীবন এক বহতা নদী (৯)

রোমেনা লেইস রূপাদের ছিলো একান্নবর্তী পরিবার। তিন চাচা-চাচী, চাচাত ভাই,বোন সবাই মিলে একসাথে বড় হয়েছে। জায়নামাজে নামাজ শেষে তসবিহ টিপতে টিপতে রূপার মা ওদের ডাকতেন। দোয়া পড়ে ফুঁ দিতেন। তারপর ওদের অনেক উপদেশ দিতেন। মা চুলে বিলি কেটে আদর করে করে বলতেন -ছেলেরা মেয়েদের কাছে আসতে চায় সবসময়।নিজের চারপাশে একটা সুরক্ষা

জীবন এক বহতা নদী (৮)

রোমেনা লেইস ক্যানসার জয়ী রূপা যেন হিমালয় পর্বত জয়ী তেনজিং। ফুলের পাহাড় তিয়ার ব্যালকনিতে। তিয়া মাকে ওর বাসায় কড়া নিরাপত্তার মধ্যে রেখেছে।দিনে তিনবার রুমটা ডেটল স্যাভলন দিয়ে মুছে দিচ্ছে। গ্লাভস মাস্ক ব্যবহার করা হচ্ছে। দেশের বাড়ি থেকে রূপার বড়ভাই ও দেশের বাইরে থেকে ছোটভাই এসেছে রূপাকে দেখতে। আত্মীয় স্বজনের ঢল নেমেছে।

জীবন এক বহতা নদী (৬)

রোমেনা লেইস ঐদিনই মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপতালে ভর্তি করা হয়ে গেলো। পরীক্ষা নিরীক্ষা শুরু হলো। বাংলাদেশের রিপোর্ট এখানকার পরীক্ষা নিরীক্ষার সাথে মিলে গেল।দ্রুত অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেয়া হলো।বড় মেয়ে তিন্নি ওর বাচ্চা ঈশানা আর বর শাহীনসহ সিঙ্গাপুর আসলো।সন্ধ্যা সাতটায় অপারেশন থিয়েটারে নেয়ার সময় সবাই খুব নরমাল থাকার চেষ্টা করছে।এসময় কর্নেল হক কল করলেন।তিয়া

জীবন এক বহতা নদী (৫)

রোমেনা লেইস অস্থির পায়চারী করছেন আজিজুল হক। মাত্র একমাস আগে প্রমোশন পেয়ে কর্নেল হয়েছেন তিনি।তার ছেলে মাসুম এখন ওহাইওর সিনসিনাটি ইউনিভার্সিটিতে পড়ায়। সে ইকনমিকস পড়েছে কেনটাকি ইউনিভার্সিটিতে। পরে পিএইচডি করেছে সিনসিনাটি ইউনিভার্সিটিতে। ওখানেই জয়েন করেছে। ঐ ইউনিভার্সিটির ইন্ডিয়ান এক মেয়ে মিত্রা চৌধুরীর সাথে এফেয়ার হয়। ওদের মা মনিরা অনেক পরহেজগার, তাই

জীবন এক বহতা নদী (৪)

রোমেনা লেইস রূপাকে একটা গাড়ি কিনে দিয়ে গেছে বড় মেয়ে। আর ড্রাইভারও রেখেছে। কোথাও যাবার দরকার থাকলে যায়। আজ সিএমএইচে যাচ্ছে ।শরীরটা খারাপ লাগছে। খাওয়ার রুচি নাই।ডায়রিয়ার মতো হয়েছে।মাথা ঘুরে পড়েই যাবে মনেহয়। এতো দূর্বল লাগছিলো। কুমিল্লা থেকে ঢাকায় আসার পরপরই অসুস্থ মাকে প্লেনে করে নিয়ে আসলো বড়ভাই।ও ছাড়া ঢাকায়

জীবন এক বহতা নদী (৩)

রোমেনা লেইস রূপা সাঁতার জানে না।বিয়ের কিছুদিন পর শ্বশুরবাড়ি বরিশালে গেলো লঞ্চে। আনিস ওকে লঞ্চের ডেক এ নিয়ে বলে, দেখো এ হচ্ছে মেঘনা নদী। বিশাল সে নদী দেখে আৎকে ওঠে রূপা। বলে, জানো আমি সাঁতার জানি না। চোখ ঢেকে ফেলে ভয়ে। আনিস ওকে অভয় দিয়ে বলে -তুমি ভয় পেও না। আমি

জীবন এক বহতা নদী (২)

রোমেনা লেইস রকিং চেয়ারে বসে আছে রূপা।রেকর্ডারে রবীন্দ্রসঙ্গীত বাজছে।মনোয়ারা বেগম রূপা।এখন ঊনপণ্চাশ বছর বয়স।চুলে পাক ধরেছে দশ বছর আগেই।আনিস একরাতে ঘুমের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়লো। তারপরেই সব শেষ।তখন রূপার ঊনচল্লিশ। বড়মেয়ে তিন্নির কেবল বিয়ে দিয়েছে।ডাক্তার পাত্র পেয়ে বিয়ে দিয়ে দেয় আঠারো বছরের মেয়ের। ও তখন হলিক্রস থেকে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা দিয়েছে।ছোট মেয়ে তিয়া

জীবন এক বহতা নদী (১)

রোমেনা লেইস বিকেলে বসে বসে পুরনো এলবাম গুলো ধুলো মুছে ঝেড়ে উঠাচ্ছিলো রূপা।মুছে মুছে ছবিগুলোয় চোখ রাখে। স্মৃতির দুয়ার খুলে য়ায়।ছবিগুলোই যেন এখন তার জীবনের অবলম্বন।ছবি গুলো দেখতে দেখতে স্মৃতি সামনে চলে আসে। ক্রিং ক্রিং ক্রিং ল্যান্ড ফোনটা বেজে উঠলো। -হ্যালো কে বলছেন? -হ্যালো আনিস ভাবী আমি কর্নেল হক বলছি।কেমন আছেন আপনি? -জ্বি ভাই ভাল

নিউমার্কেট (৬)

রোমেনা লেইস নিউমার্কেটের ভিতরে কয়েকবার চক্কর দিলো।ওরা হাঁটতে হাঁটতে কথা বলছে। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশ আর বর্তমান রাজনীতি- এই হলো বিষয় বস্তু। কথা হচ্ছে শিরিন আখতার এর সাথে। জাসদের কর্মকান্ডের সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন মিতিকে।মিতির এখন সেকেন্ড ইয়ার।শামসুন নাহার নামে জাসদের এক নেত্রী আর মুশতাক হোসেনের স্ত্রী বীনা শিকদার দুজনেই মিতিকে জাসদ

নিউমার্কেট (৫)

রোমেনা লেইস পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফিরেছে মিতি আজ এক সপ্তাহ। সেদিন হোস্টেলে ঢুকে চিঠিটা খুলে পড়লো।চিঠির প্রথম অংশ পড়েই মাথা ঘুরে জ্ঞান হারিয়ে পড়ে গেলো মিতি।শিউলি আর রানী রুমেই ছিলো ।ওরা এসে চোখে মুখে পানি ছিটিয়ে দিতে চোখ খুললো । ওদের জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলো।চোখের সামনে এক গাঢ় অন্ধকার পর্দা।স্মৃতিগুলো বারবার