ভালবাসায় ভরা এ পৃথিবী

রোমেনা লেইস একটা ছোট জীবন মানুষের। অনু পরমাণুর মতো জড়িয়ে আছি কতো মানুষের সাথে।বাবা, মা, দাদী, ফুপু,ফুপা, চাচা,চাচী,নানী, মামা, মামী, খালা, খালু-সব কাছের মানুষেরা।তারপর আছে ভাই,বোন, আপন বড় ভাইবোনের ভালবাসা। ছোটবোনের ভালবাসা। ফুপাত,চাচাত,মামাতো,খালাতো ভাইবোনের ভালবাসা। তারপর বন্ধু, ক্লাসমেট।স্কুলের বড় ক্লাসের আপুরা। শিক্ষক,শিক্ষিকা। বাবার বন্ধু, মায়ের বান্ধবীদের ভালবাসা। মানবজীবন বড় বিচিত্র। প্রতিদিন

বিনি সুতার মালা (শেষ পর্ব)

রোমেনা লেইস বিনির বাবা-মা এসে ডালাসে পৌঁছালেন। বিনিকে দেখে মায়ের কান্না  আর থামে না। বিনি হাসপাতালে থাকলো আরো এক সপ্তাহ। এই এক সপ্তাহ দ্রুত ইমপ্রুভ করলো বিনি।বিনির কাছে হসপিটালে সারাদিন থাকে অমিত। অমিত বিনিকে খাইয়ে দেয়, কবিতা শোনায়, গল্প করে। কী কী বই লিখলো বলে। শুধু বলে না একটা উপন্যাসের কথা।

বিনি সুতার মালা (৯)

রোমেনা লেইস বিনির সার্জারী  সাকসেসফুল হয়েছে। বিনয় আর শান্তনু রাতে এসেছিলো। -মাই ব্রেভ সিস্টার। একটুও ভয় পাসনি, রাইট? -দাদা আমি কিছু বুঝতেই পারিনি রে। -এখন কেমন? -আজ ওরা হাঁটতে বললো।দুজন ধরে হাঁটতে সাহায্য করলো। অল্প কয়েক স্টেপ। -শান্তনু সরি, বললো বিনি ঈষৎ ম্লান হেসে। -ইটস ওকে। তুমি তাড়াতাড়ি ভাল হয়ে যাও। বিনির হাতটা ধরে আস্তে করে বলে

বিনি সুতার মালা (৮)

রোমেনা লেইস অমিতের জন্য মন কেমন করে।গত তিন-চার বছর কী এক ভালবাসা জড়িয়ে রেখেছে বিনিকে।বিনি আর কোন ছেলের দিকে চোখ তুলেও তাকায়নি।মন প্রাণ ভরিয়ে দেয় অমিতের কথা। অমিতেরবই ওর নিত্যদিনের সাথী।এমন একটা দিন নাই অমিতের সাথে কথা হয়নি। অমিতকে না দেখলে কেমন পাগল পাগল লাগে নিজেকে।অমিত ছাড়া অন্য  কাউকে ওর জীবন

বিনি সুতার মালা (৭)

রোমেনা লেইস ডালাসের ফোর্ট ওয়ার্থ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে এমিরেটসের প্লেন নামলো। জানালায় চোখ রেখে বিনি দেখলো ধবধবে সাদা এক অন্যরকম জগত।মনে পড়ে, ও তখন এইটে পড়ে। সেদিন সন্ধ্যার আকাশ হঠাৎ কালো হয়ে গিয়েছিলো।আর প্রচন্ড শিলাবৃষ্টি হলো একঘন্টা ধরে। একসময় পুরাপুরি থেমে গেলো। পরিস্কার ঝকঝকে আকাশে মস্ত পূর্ণিমার চাঁদ উঠেছিলো। আকাশভর্তি তারা। বাপী

বিনি সুতার মালা (৬)

রোমেনা লেইস নায়লা নীচে আসতেই সিকিউরিটি গার্ড ফোন করে বলে, স্যার, ম্যাডাম আসছেন, সাথে মেহমান। -আচ্ছা। বিনিকে বলে, বিনি নায়লা এসেছে। নায়লা দরজা নক না করে হ্যান্ডেল ঘুরিয়ে দরজা খুলে ঢুকলো। -আছ তাহলে ? -আরে বাবা এ যে দেখি মেঘ না চাইতেই জল।আপা স্লামালাইকুম। -ওয়াসিমাআপা তোমার খুব ভক্ত।আজ কবিতা উৎসবের ওখান থেকেই নিয়ে আসলাম। -বসেন আপা।পরিচয়

বিনি সুতার মালা (৫)

রোমেনা লেইস অনীক বাপীর গলা জড়িয়ে ধরে বলে -বাপী মাম্মা তোমাকে বকে কেন? -আমি পঁচা তাই বকে। -না বাপী তুমি ভাল। তুমি হচ্ছো সেরা বাবা। -আচ্ছা এখন ঘুমাও। -তুমি কী আজ আমার কাছে ঘুমাবে? -হ্যা।আর কাল আমি তোমাকে স্কুলে নিয়ে যাব।আর কালতো শুক্রবার না? আমি তোমাকে স্কুল থেকে তুলে নিয়ে দূরে বেড়াতে যাব।আমরা আইসক্রীম খাব।পিৎজা খাব।চকোলেট

বিনি সুতার মালা ( ৪ )

রোমেনা লেইস বিনিকে নিয়েই সকাল দুপুর কাটে অমিতের। মেয়েটার নরম কোমল একটা ভালবাসা জড়িয়ে রাখে অমিতকে। অমিত শান্ত এই সরোবরে প্রতিদিন সাঁতার কাটতে চায়। কোনদিন আর বাড়ি ফিরতে ইচ্ছে করে না। ফোন করে বলে দেয় -হ্যালো নায়লা আমি আজ ফিরছি না। একটা লেখা শেষ করতেই হবে। -কাল যে অনীকের স্কুল ড্রেস বানাতে

বিনি সুতার মালা ( ৩ )

রোমেনা লেইস বিনি আর্ট কলেজে ইন্টেরিওর ডিজাইন এর ক্লাস করে সেদিন লাইব্রেরির কাছে আসতেই আচমকা পুরো পৃথিবী অন্ধকার হয়ে গেল। হসপিটালে কে কিভাবে নিয়ে আসলো কিছুই জানে না।চোখ খুলে দেখে মাথার কাছে বাবা মা। বিনির শরীরে রক্তস্বল্পতা ছোটবেলা থেকে।ওর বাবা নিজে এই রোগের বাহক। থ্যালাসেমিয়া।বিনি বাবার চেয়ে খারাপ পর্যায়ে আছে।ডায়াগনোসিস রিপোর্ট

বিনি সুতার মালা ( ২ )

রোমেনা লেইস বিনি যখন গেটে ঢুকতে যাবে তখনি পেছন থেকে রূপা আর জেসমিন ওকে ধরে প্রশ্ন করা শুরু করে। -এই তোকে কে নামিয়ে দিয়ে গেলরে? বিনি উত্তর না দিয়ে চোখ টিপে হাসে। --বল না । --সময় হলে বলবো। মনটা যেন ময়ুরের মত নেচে উঠলো। কী এক আনন্দ উপচে উঠছে যেন।রুমে গিয়ে চেঞ্জ করে বইটা নিয়ে বিছানায় শুয়ে