জীবন তরী (পর্ব: অতৃপ্তি )

অনন্যা হক জানালা দিয়ে সকালের আলো ঢুকতেই মিলির ঘুম ভেঙে যায়।কোন ঘড়ির এলার্ম লাগে না, যেন  মাথায়  একটা এলার্ম সেট করা আছে। কাল খুব বিষন্ন মনে ঘুমিয়েছে।ঘুম টা ভাল হয়নি, বেশ ভোরে ঘুম ভেঙে গেল। এপাশের ঘরে বিছানা থেকে দেখতে পেল, রিফাত বেঘোরে ঘুমিয়ে যাচ্ছে।কত নিশ্চিন্ত ঘুম, তার কেন একা এত

জীবন তরী (পর্ব: দ্বন্দ্ব )

অনন্যা হক বড় ছেলে জাভেদ চাকরি পাওয়ার পর আশরাফী বেগমের স্বামী মারা যান। জমিজমার আয় আর জাভেদের চাকরি দিয়ে সংসার চলতো।পরে রিফাতের ব্যবসা শুরু হয়।সংসারে কোন অভাব নেই। মায়ের ব্যাপারে ছেলেদের ভালবাসার কোন কমতি নেই। ছেলের বউদের ব্যাপারে মা খুব শক্ত অবস্থান রেখে চলে, যেন নিজের  অবস্থান টা টলে না যায়।বউদের বাবার

জীবন তরী (পর্ব: মাতৃত্ব)

অনন্যা হক বিবাহিত জীবনের আমেজ না কাটতেই, রিফাত তার  আপন ভুবনের  আকর্ষণে অনিয়মের জগতে ঢুকে গেল। এটা এখন প্রতি দিনের ব্যাপার হয়ে গিয়েছে। মিলি  এই বহির্মুখী আকর্ষণের কারণ জানতে পারে,  তার বড় জা এর কাছ থেকে। মিলি ছাদে দাঁড়িয়েছিল, বড় জা কাপড় তুলতে আসে।কৌতুহল দমন করতে না পেরে মিলি কথার ফাঁকে জিজ্ঞাসা

জীবন তরী (পর্ব: টানাপোড়েন )

অনন্যা হক সকালে  উঠেই রিফাত মিলি কে ডাকতে থাকে, মিলি  এদিকে  এস, আমার লুঙ্গি, তোয়ালে দিয়ে যাও। মিলি রান্না ঘরে, তার খাবার গুছিয়ে রাখছে টেবিলে। কোন উত্তর দেয় না, ঘরেও যায় না। এল প্যার্টানের বাড়ি,  রান্না ঘর থেকে তার ঘর দেখা যায়।দেখছে যে বারান্দায় তোয়ালে, লুঙ্গি নাড়া  আছে, কিন্তু  উঠে এসে

জীবন তরী (পর্ব: বৈপরীত্য )

অনন্যা হক জাভেদ কলেজে যাওয়ার আগে বারান্দায় বসে পেপার পড়ে, এখানে বসেই নাস্তা করে।আজও তেমনি পেপার পড়ছিল। তাঁর বউ রুমানা নাস্তা নিয়ে এল। নাস্তা টা টেবিলে রেখে বলে, রিফাত বাজার পাঠিয়ে দিয়েছে, আজ বাজারে যাওয়া লাগবে না তোমার। রুমানা চলে যাচ্ছিল, জাভেদ বলে বস এখানে একটু। রুমানা বলে, বাজার  এসেছে, রান্না ঘরে অনেক কাজ

জীবন তরী (পর্ব: দ্বিধা)

অনন্যা হক বিয়ের পরে এক মাস গেল আনন্দ হৈচৈ, দু বাড়ি মিলে আসা যাওয়া  এভাবে। মিলির সংসার জীবন শুরু হলো একটা নতুন ঘোর, নতুন মোহে আচ্ছন্ন হয়ে। রিফাত ঘুম থেকে দেরী করে  ওঠে আগাগোড়াই। এখন তো আরও, নতুন বউ ঘরে। সে যতক্ষণ থাকে, মিলি কে বের হতে দিতে চায় না।কিন্তু প্রথম কয়েক

জীবন তরী (পর্ব: বিয়ে)

অনন্যা হক মিলি বাবা মা এর কাছে বসে, মা তাকে ডেকে এনেছে, বাবা কথা বলবে।বাবা বলে, মা তুমিও আস কথা আছে।সবাই  এসে বসে, একটু চিন্তিত মনে। বাবা বলে, মিলির  একটা খুব ভাল সম্বন্ধ এসেছে শহর থেকে, তারা দেখতে আসতে চায় । দাদি বলে, একবারে দেখতে আসতে চায়, আগে কিছু বললি না, এ কেমন

মুক্তির অন্বেষণে

অনন্যা হক ভালবাসি মানুষ কে, ভালবাসতে পারিনা তাদের কিছু প্রবৃত্তি কে। সবার মতই ছিল বন্ধনহীন বল্গা হরিণীর মত একটা মন। এখনও তেমনটিই আছে। আমি এক মুক্ত মনা, স্বাধীন নারী।আজন্ম স্বাধীন। যদি থাকি নিভৃতে কিবা লোকারণ্যে, যখন যেখানে যে রুপেই থাকি না কেন, মনের লাগাম কি কেউ দিতে পারে? সে তো এক ডানা মেলা

এবার আমি নারীদের কে বলছি

অনন্যা হক ধর্ষণ, অত্যাচার, নিপীড়ন সব কিছুর বলি কারা? আমরা নারীরা। জন্মেছিলাম কোন কুক্ষণে না শুভ ক্ষণে? শুনেছিলাম, জন্মেছিলাম এক পূর্ণিমার রাতে। আমার দাদি আমার নাম রেখেছিলেন  পূর্ণিমা। সে নাম শুধুই এক আদরের নাম। জন্মের পর থেকে বুঝেছি, জেনেছি, জীবন দেখে শিখেছি-আমরা সব মেয়েরাই পূর্ণিমা। অমাবস্যায় ঢেকে থাকা পূর্ণিমা ! বড় হয়েছি

শারীরিক নির্যাতন

অনন্যা হক সহমরণ বন্ধ হয়েছিল, বিধবা বিবাহ চালু হয়েছিল একসময়।নারীদের কে তখন জন্তু, জানোয়ারের মত এবং শুধু মাত্র ভোগ্য পণ্য হিসেবে গণ্য করা হতো। একই মানুষ, শুধু শারীরিক গঠনে ভিন্ন বইতো আর কিছু না। মানুষের মধ্যে কতটা পশু প্রবৃত্তি থাকলে, এসব বর্বরতা করা সম্ভব! অন্দরমহলে নারীদের  অব্যাহত লড়াই তো ছিলই, আর কিছু গভীর