ধূসর পথের বাঁকে (পর্ব: আটাশ)

অনন্যা হক অখিলের এই অনাচার শুরু হওয়ার পর শ্রাবণী কতবার চেয়েছে তার জীবন, সংসার থেকে সরে চলে যেতে, আবার কখনও অতি জেদ আর অভিমানে এই পৃথিবী থেকে চিরতরে বিদায় নিতেও মন চেয়েছে। কিন্তু মাঝখানে এসে দাঁড়িয়েছে শুভ।এই এত বড় পৃথিবীতে, জীবন সমুদ্রে তার ছেলে একা পথে হাঁটছে ভাবলে বুকের ভেতরে একটা

ধূসর পথের বাঁকে (পর্ব:সাতাশ)

অনন্যা হক অখিল বের হয়ে যায় বাসা থেকে।আগে হলে তার সাজ পোশাকের একটা অন্য রকম তোড়জোড় থাকতো।কিন্তু আজ খুব একটা মনোযোগ দেখা গেল না এসবে।বেশ সাদামাটা ভাবে বের হয়ে গেল। শ্রাবণীর মন বলে, সে হেনার কাছে যাচ্ছে।ভাবে,কতদিন আর এমন হাত পা গুটিয়ে ঘরে বসে থাকতে পারবে, জীবন আবার জীবনের গতিতে চলতে শুরু

ধূসর পথের বাঁকে ( পর্ব:ছাব্বিশ )

অনন্যা হক শ্রাবণী কিছুটা অন্যমনস্ক হয়ে গিয়েছিল, তরকারির ঝোল টা শুকিয়ে চড়চড় শব্দ করছে শুনতে পেয়ে সম্বিত ফিরে আসে।রাজু শাক ধুয়ে, ওদিকে বাগানে গিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, তারও মন খারাপ খুব।ঘুরে ফিরে নানীর কাছে গিয়ে বসতো,গল্প করতো কত কিছু নিয়ে।অসুস্থ্য হওয়ার পর নানী তার উপর আগের মত রাগ করতো না বরং তাকে

ধূসর পথের বাঁকে (পর্ব:পঁচিশ)

অনন্যা হক অখিল চা শেষ করে কাপ হাতে রান্না ঘরের কাছে এসে দাঁড়ায়। -চাবি টা কোথায় বলতে পারবে? -আমার কাছে আছে, এখনই লাগবে তোমার? -দাও, ওখানে কিছু জরুরী কাগজপত্র ছিল, চেক করে দেখতে হবে ঠিক আছে কিনা। -ঘরে যাও,আমি আসছি। অখিল ঘরে গিয়ে নিজের বিছানায় শুয়ে পড়ে।মোবাইল টা বালিশের পাশে ছিল, হাতে নিয়ে দেখে কোন কল

ধূসর পথের বাঁকে ( পর্ব:চব্বিশ )

অনন্যা হক বাড়ি থেকে একটা মানুষ চিরতরে বিদায় নিল। হিমানীর বয়সের পঁয়ষট্টি বছর কেটেছে এই সংসারে। সেই পনেরো বছর বয়সে এসেছিল এই সংসারে। তার বিদায় উপলক্ষে কত মানুষের সমাগম হলো এ কদিন ধরে এ বাড়ি তে।দুই মেয়ে, নাতি পুতিরা এসেছে। যারা কখনও মনে করে বেঁচে থাকতে দেখতে আসেনি, সেই বাবার বাড়ি, শ্বশুর

ধূসর পথের বাঁকে (পর্ব:তেইশ)

অনন্যা হক রাত চারটা বাজে তখন। শ্রাবণীর ঘুম বরাবরই হালকা।হঠাৎ তার কানে ঝন্‌ করে কিছু একটা পড়ে যাওয়ার আওয়াজ আসে। চোখ খুলে কান সজাগ করে সে। একটা ভারি কিছু পড়ে মেঝেতে গড়িয়ে যাওয়ার শব্দ পায় সে। গা টা ছমছম করে ওঠে ভয়ে, আবার চোরের উপদ্রব হলো নাকি। চকিতে ভাবে, আজ দরজা লাগানো

ধূসর পথের বাঁকে (পর্ব:বাইশ)

অনন্যা হক এত সহজে রাজী হয়ে যাবে অখিল, ভাবেনি শ্রাবণী। সে আর কথা না বাড়িয়ে বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়ে।অখিল টিভি বন্ধ করে ঘরের লাইট অফ করে পাশের ঘরে মা কে দেখতে যায়।গিয়ে দেখে মা গভীর ঘুমে। একটা ডিম লাইট জ্বলছে ঘরে।হালকা আলো তে দেখে, মা কেমন জড়সড় হয়ে ঘুমিয়ে আছে। একটু দাঁড়িয়ে

ধূসর পথের বাঁকে (পর্ব:একুশ)

অনন্যা হক শ্রাবণীর মনে হয়, আরও অনেক কিছু করার আছে তার জীবনে। সংসারের বাইরেও অনেক জীবন থাকে, যেখান থেকে অন্য রকম অনেক কিছু পাওয়ার থাকতে পারে। এই কদিন ভাবছে, সে এতদিন ধরে অখিল আর তার সংসার ঘিরে সব ভাল লাগা খুঁজতে গিয়ে ভুল করেছে। এখন এই বাঁধন টা তাকেই ছিঁড়তে হবে। একটু

ধূসর পথের বাঁকে (পর্ব:বিশ)

অনন্যা হক শ্রাবণী হিমানীর ভাত মাখাতে গিয়ে দেখে ভাত টা শক্ত রয়েছে। সে বেশ ঝাঁঝালো স্বরে বলে, এতদিন হলো এ বাড়ি তে আছিস, শুধু ভাত টাও রান্না করতে শিখিতে পারলি না। রাগে কি বলছে এত হিসাব থাকে না, সেই তো কোনদিন তাকে শেখাতে চেষ্টা করেনি। করলে নিশ্চয় পারতো। সব কিছুতে বেশী দায়িত্ব

ধূসর পথের বাঁকে ( পর্ব:উনিশ )

অনন্যা হক অখিল বের হয়ে রাস্তায় বিপর্যস্ত মনে হাঁটতে থাকে, যেন কত মূল্যবান জিনিস হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে তার।সাঙ্গ হতে চলেছে বোধহয় তার এতদিনের এই নিষিদ্ধ অভিসার। নিষিদ্ধ বলেই এত টান ছিল, এই ক বছরে এতটুকু চিড় ধরেনি তাতে। আজ পাঁচ বছর ধরে তার কাছে গিয়ে কত অন্তরঙ্গ মুহুর্ত কাটিয়েছে। হঠাৎ এমন করছে