ধূসর পথের বাঁকে ( পর্ব:আট )

অনন্যা হক প্রায় সন্ধ্যা হয়ে আসে।শ্রাবণী বলে, দে পেয়ারা গুলো ধুয়ে দেই।শ্রাবণীর হাতে দিয়ে মাধবী বলে, তুই ধুয়ে নে, আমি কল চেপে দেই।মাধবী কল চাপে, শ্রাবণী পেয়ারা ধুতে থাকে, এক সময় হেসে ওঠে জোরে। -কিরে হাসছিস যে? -এরকম কত দিন করেছি বল,একবার তুই কল পাড়ে পড়ে গিয়েছিলি।আজ পঁয়ত্রিশ বছর পর আবার সেই একই

ধূসর পথের বাঁকে ( পর্ব:সাত )

অনন্যা হক শ্রাবণী শাশুড়ি কে বলে কাজের ছেলেটা কে ডাক দিল। ছোট একটা মা মরা ছেলেকে কাছে রেখেছে। তাকে বুঝিয়ে বললো, তোর দিদি মা কে দেখিস, আর দাদা বাবু এলে বলবি বন্ধুর সাথে বের হয়েছে, ফিরতে দেরী হবে। দরজাটা ঠিক মত লাগিয়ে দিয়ে যা। বসে দিদি মার ঘরে টিভি দেখ। শ্রাবণী মাধবীকে বলে,

ধূসর পথের বাঁকে ( পর্ব: ছয় )

অনন্যা হক কত সহজ করে বলে যায় শ্রাবণী। মাধবী ভাবে, জীবনের পথে চলতে চলতে কত রকম ভাবে একই মানুষ কে জীবন টা কে চিনতে হয়! তবুও কত স্থির শ্রাবণী এখনও, সে হলে কি এমন স্থির থাকতে পারতো! হয়তো উপর থেকে দেখে তাকে স্থির মনে হচ্ছে, কিন্তু ভেতর টা ঘুণ পোকা কেটে যাওয়ার

ধূসর পথের বাঁকে ( পর্ব: পাঁচ )

অনন্যা হক মাধবী স্তব্ধ হয়ে শোনে শ্রাবণীর পোড় খাওয়া মনের সরল স্বীকারোক্তি গুলো। ভাবে এত কিছু বুকের মধ্যে ধারণ করে আবার মানুষের কাছে কত সুন্দর করে অভিনয় করে দেখাতে হয় শ্রাবণী কে, না, সব ঠিক আছে। এর নাম কি জীবন? এখনও অখিল ফেরেনি সেখান থেকে? আগের মত জোর করে মুখের উপর কিছু বলে

ধূসর পথের বাঁকে ( পর্ব:চার )

অনন্যা হক বাঁশের খুঁটি, মাথার উপর টিনের শেড আর চারিদিকে ছোট করে দেয়াল দিয়ে ঘেরা রান্না ঘরের বারান্দাটা লাগোয়া খাওয়ার ঘরে গিয়ে উঠেছে।মাধবী বাঁশের খুঁটিটা ধরে দাঁড়িয়ে আছে।কিছু টা পেছন থেকে শ্রাবণী কে দেখছে। পরনে একটা হলুদ পাড়ের কমলা রঙের শাড়ি।একটা লো কাটের, বড় গলার ব্লাউজ পরা।অনেক খানি কোমর বেরিয়ে আছে।দেখে মনে

ধূসর পথের বাঁকে ( পর্ব: তিন )

অনন্যা হক মাধবী বাড়ি তে এসেছে।এক সময়ের গমগমে বাড়িটা এখন একদম ফাঁকা। বাড়ি তে শুধু বাবা মা আর কাজের লোক।ভাই বোন গুলো যার যার সংসারে। মাধবীর এই শুনশান নিরিবিলি বাড়ি ভাল লাগে না।পায়ে পায়ে শুধু স্মৃতি চিহ্ন। দুপুরের পর মা কে দেখলো তার বিছানায় শুয়ে ঘুমিয়ে আছে। পাশের ঘরে বাবা শুয়ে টিভি দেখছে।বাবা

ধূসর পথের বাঁকে ( পর্ব:দুই )

অনন্যা হক মাধবী ফিরে এল শ্রাবণীর কাছ থেকে।ফিরে আসার পর থেকে শ্রাবণীর জীবন ইতিহাস তার মনে একটা কাঁটার মত বিঁধে থাকে।মাঝে মাঝে মনে হয় না জানলেই ভাল ছিল বন্ধুর এই পরিহাসের জীবন। ছেলে মেয়ে রা বড় হয়েছে তাদের, হাঁটতে হাঁটতে চলে এসেছে দুপুর পেরিয়ে। আর সামনে দেখতে ইচ্ছে করে না।শুধু পথের পেছন

ধূসর পথের বাঁকে ( পর্ব:১ )

অনন্যা হক কেমন আছিস শ্রাবণী? কি রে চিনতে পারছিস না, ভুলে গেছিস চেহারা? দরজায় দাঁড়িয়ে রাখবি, দরজা টা পুরো খোল, ভেতরে গিয়ে বসি। শ্রাবণী দরজা টা খোলে। এই প্রথম মাধবী তার প্রাণের বন্ধু, শ্রাবণীর সংসারে পা রাখলো। শ্রাবণী মাধবী কে দু হাতে জড়িয়ে ধরলো বুকে।যেন বিশ বছরের ভালবাসার আর ত্রিশ বছরের দূরত্ব  আর

অপেক্ষা ( পর্ব: দুই )

অনন্যা হক বিভা বিছানা ছেড়ে ওঠে। ওয়াশ রুম থেকে বের হয়ে ঘরের দখিনা বারান্দার দরজাটা খুলে দেয়। এক ঝাঁক রোদ যেন হাসতে হাসতে ঢুকে পড়ে তাকে ঠেলে সরিয়ে। একটা মৃদু বাতাস গায়ে মুখে এসে লাগে। শান্ত শরীর আর স্নিগ্ধ মন নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে কিছুক্ষণ। এরপর জানালার পর্দা সরিয়ে দেয় কিছুটা, ঘরে আলো

অপেক্ষা ( পর্ব: এক )

অনন্যা হক বিভা দুই মাস হলো নিজের বাসায় এসেছে।বিয়ে হয়েছে একবছর, যার দশ মাস শ্বশুর বাড়ি, বাবার বাড়ি করে কাটিয়ে এসেছে।রহিতের চাকরির টানাপোড়েন, আজ এখানে কাল ওখানে করে, বাসা ঠিক করে বিভা কে আনতে দেরী হয়ে গেল।বিভার মনে এটা নিয়ে বড় ক্ষোভ। ছুটির দিনে ওরা দুজনেই একটু বেলা করে ঘুম থেকে ওঠে।