অন্তরালে (পর্ব: চৌদ্দ)

অনন্যা হক ছোট ছেলের বাড়িতে এসে ভালই লাগছে শাহিদা বেগমের। এক জায়গায় পড়ে থেকে একেবারে শেকড় গজিয়ে গিয়েছিল যেন। কোথায় আর ঘুরবে এই বয়সে। বাবার ভিটা তো শেষ, ভাই বোনেরা যার যার বাড়িতে। তারাই এখন পরনির্ভর, হাত পা ছাড়া জীবন। যদি কেউ  আসে তো দেখা হয়। সবারই বয়স হয়েছে, অসুখ বিসুখে

অন্তরালে (পর্ব: তেরো)

অনন্যা হক সোমার বিয়ে শেষ করে ফিরে এলো সবাই। পারুল শাশুড়ি কে সাথে নিয়ে এসেছে। ছেলের বাড়িতে অনেক দিন পরে এলেন তিনি। বাড়ি থেকে কোথাও যেতে চান না সহজে। শাশুড়ির নাম শাহিদা বেগম। বয়স সত্তরের কোঠায়। তার চলন বলনে বোঝা যায়, আদি বনেদী ঘরের মেয়ে। উনাকে দেখে মনেই হয় না, উনি অল্প

অন্তরালে (পর্ব: বারো)

অনন্যা হক আজ ছুটির দিন। সকালে সবাই একসাথে নাস্তা করছে। শফিক বললো, সোমার বিয়ে ঠিক হয়ে গিয়েছে, আজ বড় ভাই খবর দিল। তোমরা প্রস্তুতি শুরু কর, দশ-বার দিনের মধ্যে যাব। তো আগে বলবে না বাবা, সোমা আপুর বিয়ে, যেতে তো চাই, কিন্তু ছুটি তো মিলিয়ে নিতে হবে, বলে উঠলো চাঁপা । কয়েক দিন

অন্তরালে (পর্ব: এগারো)

অনন্যা হক ঠিক বিকেল পাঁচটায় চাঁপা বাড়িতে ঢুকলো। আগে মায়ের রুমে গেল। পারুল তার ঘরেই ছিল। মনের মধ্যে চিন্তাটা চেপে গল্পের বই পড়ছিল। এতক্ষণ একাই ছিল। এ সময় শফিক অফিসে থাকে। ছেলেও ফেরেনি। মেয়ের উপস্থিতিতে তার একাকীত্ব কিছু টা ঘোচানোর চেষ্টা করে। চাঁপা দেখলো, মায়ের মুখটা ভার হয়ে আছে। বুঝতে পারলো, এমনই হওয়ার কথা।

অন্তরালে (পর্ব: দশ)

অনন্যা হক বাবা মা চলে গিয়েছে, বাসাটা একটু ফাঁকা লাগে কিছু দিন। আবার সংসার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে পারুল। বেশ কিছু দিন ধরে পারুল দেখছে, চাঁপা কেমন যেন একটা দুরত্ব বজায় রেখে চলছে মায়ের সাথে। কথাও আগের থেকে কম বলে, একটু অন্যমনস্ক থাকে। পারুলের মনে একটা উৎকণ্ঠা কাজ করে। প্রায়ই একটা ফোন আসে,

অন্তরালে (পর্ব: নয়)

অনন্যা হক পারুলের বাড়ির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দোতলা বাড়ি, উপরে দুটো রুম করে খোলা ছাদ রেখেছে। বাড়ির সামনের জায়গায়  অনেক রকম গাছ, সাথে বিভিন্ন পছন্দের ফুল গাছ লাগিয়েছে। বাড়িটা সাজিয়েছে তার মনের মত করে । বাড়ির কর্তার সাথে তার মনের দূরত্ব আর ঘুচলো না ।কিন্তু এই বাড়ির প্রতিটা কোণে কোণে তার বসতি। শফিকেরও

অন্তরালে (পর্ব: আট)

অনন্যা হক সংসারের কাজে মন বসাতেই পারছে না পারুল ।দুপুরে শুয়ে আবীরের সাথে জড়িত বিভিন্ন স্মৃতি মনে  ওলটপালট করছিল। আবীরের অতি আপন মুখটা চোখের সামনে ভেসে ওঠে। এমনিতেই একটা দেয়াল ছিল শফিকের সাথে, দেয়ালটা যেন আরও শক্ত ভাবে  উঠে গেল দুজনের মধ্যে। একই শহরে তার বড় বোন থাকে।ঠিক করে আজই বোনের বাসায় যাবে। এই

অন্তরালে (পর্ব: সাত)

অনন্যা হক পারুল বাচ্চা দের কথা ভেবে মন শক্ত করে ওঠে। সংসার তো এটুকু ছাড় দেবে না যে সে এই বিধ্বস্ত মন নিয়ে পড়ে থাকবে। রাতে সবাই কে খাবার দেয়, নিজে কিছু না খেয়ে চলে  আসে ঘরে। রাতে মেয়ের ঘরেই  থাকে । সারা রাত কেঁদে, না ঘুমিয়ে,  একটু ছেড়া ছেড়া ঘুমের ভেতরে দুঃস্বপ্ন

অন্তরালে (পর্ব:ছয়)

অনন্যা হক অভি মাঠে খেলতে যাবে ।বারান্দা থেকে চেঁচিয়ে বললো, মা রাহেলা বুবু কই, আমার জুতাটা মুছে দিতে বল।পারুল ঘর থেকে বেরিয়ে এসে বললো, বাবা  ঐ দ্যাখ জুতার তাক, ওখান থেকে নিজে নিয়ে পরে যাও। আর কখনও এত ছোট কাজের জন্য, কাউকে ডাকবে না। অভি লক্ষী ছেলের মত চলে গেল । শফিক ঘরের মধ্যে

অন্তরালে (পর্ব:পাঁচ)

অনন্যা হক   পারুল আর চাঁপা এক বিছানায় শুয়ে ছিল ।পারুল গল্পের বই পড়তে পড়তে, একটু  তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে গিয়েছিল ।উঠে দেখে মেয়ে নেই পাশে । পারুল জানে, কতদূরেই বা যাবে । এই বাড়ি ময় ঘুরবে ,না হলে তিথীর সাথে,  আশেপাশে খেলবে। তাই তাকে না খুঁজে ছাদে যায় ।ছাদে কিছু ক্ষণ সময় কাটায় । নিজের