ব্যবধান (পর্ব: আট)

অনন্যা হক সেদিন রাত এগারোটা বেজে গেল মায়ের বাসা থেকে ফিরতে। সাজিদ এলো দেরি করে, এসে আর বসবে কি, একটু দেখা করেই বেরিয়ে গেল সবাইকে নিয়ে। শিপা মাকে আলাদা করে ডেকে, কিছু টাকা হাতে দিয়ে বললো, এটা রাখো। বলে গেল, আর কিছু  কিছু প্রয়োজন হলে বল। বাসায় ফিরে বাচ্চারা বেশি সময় নিল না

ব্যবধান (পর্ব: সাত)

অনন্যা হক সাজিদ শিপাকে তার মায়ের বাসায় নামিয়ে দিয়ে চলে গেল। সাজিদের হাতে সময় কম ছিল বলে গাড়ি থেকে আর নামলো না।বলে গেল, থাকো, ফেরার সময় বসে যাব। তোমার কি দেরী হবে, জানতে চায় শিপা গাড়িতে থেকেই। সাজিদ বলে, ওখানে গিয়ে বুঝতে পারবো। মিটিং এর পরে ডিনার  আছে তো, তোমরা এখানে খেয়ে

ব্যবধান (পর্ব: ছয়)

অনন্যা হক অফিস বন্ধ বলে সাজিদের যেন কিছু নেই।আজ ছুটির দিন তবুও  কি এক মিটিং এ যাবে দুপুরের পরে। শিপা চোখে পড়ার মত অফ মুডে ছিল, যেটা সাজিদের চোখ এড়িয়ে যেতে পারলো না। সাজিদ তাকে জিজ্ঞাসা করে,কি ব্যাপার শিপা,তোমাকে খুব ডিস্টার্ব মনে হচ্ছে, কোন সমস্যা? তোমাদের বাড়ির সব ঠিক আছে তো? আজকাল

এ ট্রিবিউট টু জটিলেশ্বর মুখোপাধ্যায়

বাংলার সংগীত জগতে গীতিকার থেকে সুরকার, তারপর শিল্পী হয়ে ওঠার পথটি যাঁর মোটেও মসৃণ ছিল না। অজস্র জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা সেই সুরসম্রাট জটিলেশ্বর মুখোপাধ্যায়। দেশ কাল ও বহু দশকের সীমান পেরিয়ে যাঁর কথা আমাদের হৃদয়ে চিরদিন জাগরুক থাকবে। গতকাল কলকাতার আর এন টেগোর হাসপাতালে ৮৩ বছর বয়সে সুরলোকে গমন করেন

জীবন এক বহতা নদী (৮)

রোমেনা লেইস ক্যানসার জয়ী রূপা যেন হিমালয় পর্বত জয়ী তেনজিং। ফুলের পাহাড় তিয়ার ব্যালকনিতে। তিয়া মাকে ওর বাসায় কড়া নিরাপত্তার মধ্যে রেখেছে।দিনে তিনবার রুমটা ডেটল স্যাভলন দিয়ে মুছে দিচ্ছে। গ্লাভস মাস্ক ব্যবহার করা হচ্ছে। দেশের বাড়ি থেকে রূপার বড়ভাই ও দেশের বাইরে থেকে ছোটভাই এসেছে রূপাকে দেখতে। আত্মীয় স্বজনের ঢল নেমেছে।

ব্যবধান ( পর্ব:পাঁচ )

অনন্যা হক শিপা সকালের নাস্তা করে এসে কেবলই বারান্দায় বসেছে।একটা নরম রোদের আলতো ছোঁয়া লাগছে গায়ে।আজ সকালে কুয়াশা ছিল বাইরে।ধীরে ধীরে কুয়াশা কেটে রোদ উঁকি দিল। এমন হলে তার ঘুরতে যেতে ইচ্ছে করে গ্রামের বাড়িতে। বাবা বেঁচে থাকা অবস্থায় দাদি বাড়িতে যেত। মফস্বল শহরে দাদি বাড়ি, এখন জীবন থেকে সে পর্ব উঠে

ব্যবধান (পর্ব: চার)

অনন্যা হক বেশ কিছু দিন হয়ে গেল অরুণ  ফোন করেনি আর। কিন্তু শিপার মন উন্মুখ হয়ে থাকে, হয়তো ফোনটা বেজে উঠবে যখন তখন। শিপা ভাবে, এমন করে কোন ভুলে জড়িয়ে যাচ্ছি নাকি? কেন মন চাইছে অরুণ ফোন করুক। সাজিদ বাসা থেকে বেরিয়ে যায় নয়টার ভেতরে আর ফিরতে ফিরতে সেই রাত ৯টা- ১০টা

ব্যবধান (পর্ব: তিন)

অনন্যা হক সাজিদ  আজ বাসায় ফিরে এল রাত নয় টার দিকে। শিপা তখন টেলিভিশন দেখছিল, সাজিদ ঘরে ঢুকলো। শিপা তাকলো বরের দিকে, নীল একটা শার্ট পরেছে, ভাল লাগছে দেখতে। যেটা বেরিয়ে যাওয়ার সময় খেয়াল করেনি। যথেষ্ট সুপুরুষ স্বামী তার। এখন বয়স পঁয়তাল্লিশ হবে।বিয়ে যখন করেছিল, তখন বয়স ছিল ত্রিশ। আজ পনেরো বছর

ব্যবধান (পর্ব: দুই)

অনন্যা হক সাজিদের নিজের বাড়ি এটা। ডুপ্লেক্স বাড়ি, পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া। সাজিদ একা দেশে থাকে, অন্য ভাই বোনেরা বিদেশে থাকে। বাবা মারা গিয়েছেন পাঁচ বছর হলো। মা সব ছেলে মেয়েদের কাছে ঘুরে ফিরে থাকে। শিপার জীবনটা একেবারে নির্ঝঞ্ঝাট, প্রতিপত্তির কোন অভাব নেই। জীবনের জৌলুস বলতে যা বোঝায়, কোন কিছুরই অভাব নেই। শিপার

ব্যবধান (পর্ব: এক)

অনন্যা হক শিপা বরাবরই বেশ সৌখিন। পোশাক  আর সাজসজ্জায় নিজেকে ছাড়িয়ে জাঁকজমক তার কখনও ভাল লাগে না। তার সৌখিনতা ছিল যেন নিজের মনকে ঘিরে বেশি। কত পোশাকের চল এল গেল এ যাবতকাল ধরে, কিন্তু শাড়ির প্রতি তার দুর্বলতা যেন একটা মোহের মত।শাড়ির মত শৈল্পিক পোশাক তার আর কিছুকে লাগে না। সংসারের ঝামেলায়