অন্তরালে (পর্ব: চৌদ্দ)

অনন্যা হক ছোট ছেলের বাড়িতে এসে ভালই লাগছে শাহিদা বেগমের। এক জায়গায় পড়ে থেকে একেবারে শেকড় গজিয়ে গিয়েছিল যেন। কোথায় আর ঘুরবে এই বয়সে। বাবার ভিটা তো শেষ, ভাই বোনেরা যার যার বাড়িতে। তারাই এখন পরনির্ভর, হাত পা ছাড়া জীবন। যদি কেউ  আসে তো দেখা হয়। সবারই বয়স হয়েছে, অসুখ বিসুখে

জীবন এক বহতা নদী (৪)

রোমেনা লেইস রূপাকে একটা গাড়ি কিনে দিয়ে গেছে বড় মেয়ে। আর ড্রাইভারও রেখেছে। কোথাও যাবার দরকার থাকলে যায়। আজ সিএমএইচে যাচ্ছে ।শরীরটা খারাপ লাগছে। খাওয়ার রুচি নাই।ডায়রিয়ার মতো হয়েছে।মাথা ঘুরে পড়েই যাবে মনেহয়। এতো দূর্বল লাগছিলো। কুমিল্লা থেকে ঢাকায় আসার পরপরই অসুস্থ মাকে প্লেনে করে নিয়ে আসলো বড়ভাই।ও ছাড়া ঢাকায়

অন্তরালে (পর্ব: তেরো)

অনন্যা হক সোমার বিয়ে শেষ করে ফিরে এলো সবাই। পারুল শাশুড়ি কে সাথে নিয়ে এসেছে। ছেলের বাড়িতে অনেক দিন পরে এলেন তিনি। বাড়ি থেকে কোথাও যেতে চান না সহজে। শাশুড়ির নাম শাহিদা বেগম। বয়স সত্তরের কোঠায়। তার চলন বলনে বোঝা যায়, আদি বনেদী ঘরের মেয়ে। উনাকে দেখে মনেই হয় না, উনি অল্প

জীবন এক বহতা নদী (৩)

রোমেনা লেইস রূপা সাঁতার জানে না।বিয়ের কিছুদিন পর শ্বশুরবাড়ি বরিশালে গেলো লঞ্চে। আনিস ওকে লঞ্চের ডেক এ নিয়ে বলে, দেখো এ হচ্ছে মেঘনা নদী। বিশাল সে নদী দেখে আৎকে ওঠে রূপা। বলে, জানো আমি সাঁতার জানি না। চোখ ঢেকে ফেলে ভয়ে। আনিস ওকে অভয় দিয়ে বলে -তুমি ভয় পেও না। আমি

অন্তরালে (পর্ব: বারো)

অনন্যা হক আজ ছুটির দিন। সকালে সবাই একসাথে নাস্তা করছে। শফিক বললো, সোমার বিয়ে ঠিক হয়ে গিয়েছে, আজ বড় ভাই খবর দিল। তোমরা প্রস্তুতি শুরু কর, দশ-বার দিনের মধ্যে যাব। তো আগে বলবে না বাবা, সোমা আপুর বিয়ে, যেতে তো চাই, কিন্তু ছুটি তো মিলিয়ে নিতে হবে, বলে উঠলো চাঁপা । কয়েক দিন

অন্তরালে (পর্ব: এগারো)

অনন্যা হক ঠিক বিকেল পাঁচটায় চাঁপা বাড়িতে ঢুকলো। আগে মায়ের রুমে গেল। পারুল তার ঘরেই ছিল। মনের মধ্যে চিন্তাটা চেপে গল্পের বই পড়ছিল। এতক্ষণ একাই ছিল। এ সময় শফিক অফিসে থাকে। ছেলেও ফেরেনি। মেয়ের উপস্থিতিতে তার একাকীত্ব কিছু টা ঘোচানোর চেষ্টা করে। চাঁপা দেখলো, মায়ের মুখটা ভার হয়ে আছে। বুঝতে পারলো, এমনই হওয়ার কথা।

অন্তরালে (পর্ব: দশ)

অনন্যা হক বাবা মা চলে গিয়েছে, বাসাটা একটু ফাঁকা লাগে কিছু দিন। আবার সংসার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে পারুল। বেশ কিছু দিন ধরে পারুল দেখছে, চাঁপা কেমন যেন একটা দুরত্ব বজায় রেখে চলছে মায়ের সাথে। কথাও আগের থেকে কম বলে, একটু অন্যমনস্ক থাকে। পারুলের মনে একটা উৎকণ্ঠা কাজ করে। প্রায়ই একটা ফোন আসে,

অন্তরালে (পর্ব: নয়)

অনন্যা হক পারুলের বাড়ির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দোতলা বাড়ি, উপরে দুটো রুম করে খোলা ছাদ রেখেছে। বাড়ির সামনের জায়গায়  অনেক রকম গাছ, সাথে বিভিন্ন পছন্দের ফুল গাছ লাগিয়েছে। বাড়িটা সাজিয়েছে তার মনের মত করে । বাড়ির কর্তার সাথে তার মনের দূরত্ব আর ঘুচলো না ।কিন্তু এই বাড়ির প্রতিটা কোণে কোণে তার বসতি। শফিকেরও

জীবন এক বহতা নদী (২)

রোমেনা লেইস রকিং চেয়ারে বসে আছে রূপা।রেকর্ডারে রবীন্দ্রসঙ্গীত বাজছে।মনোয়ারা বেগম রূপা।এখন ঊনপণ্চাশ বছর বয়স।চুলে পাক ধরেছে দশ বছর আগেই।আনিস একরাতে ঘুমের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়লো। তারপরেই সব শেষ।তখন রূপার ঊনচল্লিশ। বড়মেয়ে তিন্নির কেবল বিয়ে দিয়েছে।ডাক্তার পাত্র পেয়ে বিয়ে দিয়ে দেয় আঠারো বছরের মেয়ের। ও তখন হলিক্রস থেকে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা দিয়েছে।ছোট মেয়ে তিয়া

ইউনিভার্সেল থিয়েটারের পরিচ্ছন্ন প্রযোজনা ‘মহাত্মা’

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটিশদের কাছ থেকে ভারতের স্বাধীনতার প্রশ্নে ব্রিটিশরা ভারতীয় উপমহাদেশে এক স্থায়ী কলহ ও অশান্তির বীজ বপন করে গেছে। সেই পরিকল্পনার সুদূরপ্রসারী দুর্ভোগের ফলাফল এখনো এই উপমহাদেশের মানুষকে ভোগ করতে হচ্ছে। 'অহিংসা পরম ধর্ম'  এই ব্রত নিয়ে মহাত্মা গান্ধী ব্রিটিশদের সেই কূটনৈতিক কৌশলকে অনেকটা বসে আনতে পেরেছিলেন বলেই