ধূসর পথের বাঁকে ( পর্ব:আট )

অনন্যা হক প্রায় সন্ধ্যা হয়ে আসে।শ্রাবণী বলে, দে পেয়ারা গুলো ধুয়ে দেই।শ্রাবণীর হাতে দিয়ে মাধবী বলে, তুই ধুয়ে নে, আমি কল চেপে দেই।মাধবী কল চাপে, শ্রাবণী পেয়ারা ধুতে থাকে, এক সময় হেসে ওঠে জোরে। -কিরে হাসছিস যে? -এরকম কত দিন করেছি বল,একবার তুই কল পাড়ে পড়ে গিয়েছিলি।আজ পঁয়ত্রিশ বছর পর আবার সেই একই

বিনি সুতার মালা ( ৩ )

রোমেনা লেইস মালা আর্ট কলেজে ইন্টেরিওর ডিজাইন এর ক্লাস করে সেদিন লাইব্রেরির কাছে আসতেই আচমকা পুরো পৃথিবী অন্ধকার হয়ে গেল। হসপিটালে কে কিভাবে নিয়ে আসলো কিছুই জানে না।চোখ খুলে দেখে মাথার কাছে বাবা মা। বিনির শরীরে রক্তস্বল্পতা ছোটবেলা থেকে।ওর বাবা নিজে এই রোগের বাহক। থ্যালাসেমিয়া।বিনি বাবার চেয়ে খারাপ পর্যায়ে আছে।ডায়াগনোসিস রিপোর্ট

রাজকুমারী ও আমি ( পর্ব: ৭ )

শেখ লুৎফর গুরুর ছক্কা শেষ রাতে এখন চাঁদ মাঝ আকাশ ছুঁই ছুঁই করছে।  মাথা উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ছোট ছোট ঝোপগুলোকে লাগছে একেকটা টিলা। দূরে মিটিমিটি জ্বলছে বিদ্যুতের বাতি। রাজমিন দেখে বিশাল বিশাল মাঠগুলো শুয়ে আছে অন্ধকারের চাদর মুড়ি দিয়ে। নিমিনিম জোনাকির আলো আর হঠাৎ হঠাৎ কঁকিয়ে ওঠা কোনো প্রাণি যেন উড়ে

ধূসর পথের বাঁকে ( পর্ব:সাত )

অনন্যা হক শ্রাবণী শাশুড়ি কে বলে কাজের ছেলেটা কে ডাক দিল। ছোট একটা মা মরা ছেলেকে কাছে রেখেছে। তাকে বুঝিয়ে বললো, তোর দিদি মা কে দেখিস, আর দাদা বাবু এলে বলবি বন্ধুর সাথে বের হয়েছে, ফিরতে দেরী হবে। দরজাটা ঠিক মত লাগিয়ে দিয়ে যা। বসে দিদি মার ঘরে টিভি দেখ। শ্রাবণী মাধবীকে বলে,

রাজকুমারী ও আমি ( পর্ব: ৬ )

শেখ লুৎফর আগুন ছুঁয়ে দেখার নেশা আমার বড় ছেলে তখন পেটে এসেছে। দাদির জ্বর-টর একটা কী জানি হয়েছিল। একদিন সকালে গেলাম দেখতে। গিয়ে দেখি জ্বর ছেড়ে দিয়েছে। বুড়ি খুঁটিয়ে খঁটিয়ে নানান কিছু জানতে চায়। ফিরবার সময় সবার শেষে এসে কানে কানে বলে, আমার রাজকুমারীরে, বয়স একটা বারুদ, হেরে সামলায়া রাখতে অয়। তারপরে

প্রিয় বসন্ত

নাহার শাওন প্রিয় বসন্ত এসেছিলে বৃক্ষের তরুছায়ায় জন্মানো সদ্য নতুন পাতা হয়ে, সেদিন আনন্দে মেতে উঠেছিলাম। হয়েছিলো শুরু তোমায় ভালো লাগা, সবুজে সবুজে ভরে ছিলো চারিদিক। রোদের সাথে যখন সখ্যতা হতো না, তখন ছায়াতলে বসে ভুলে যেতাম অবসাদ সব যা ছিলো। হাজার কবিতারা প্রাণ পেয়েছিলো তোমার আগমনে। প্রিয় বসন্ত তবে আজ কোথায়

বিনি সুতার মালা ( ২ )

রোমেনা লেইস বিনি যখন গেটে ঢুকতে যাবে তখনি পেছন থেকে রূপা আর জেসমিন ওকে ধরে প্রশ্ন করা শুরু করে। -এই তোকে কে নামিয়ে দিয়ে গেলরে? বিনি উত্তর না দিয়ে চোখ টিপে হাসে। --বল না । --সময় হলে বলবো। মনটা যেন ময়ুরের মত নেচে উঠলো। কী এক আনন্দ উপচে উঠছে যেন।রুমে গিয়ে চেঞ্জ করে বইটা নিয়ে বিছানায় শুয়ে

ধূসর পথের বাঁকে ( পর্ব: ছয় )

অনন্যা হক কত সহজ করে বলে যায় শ্রাবণী। মাধবী ভাবে, জীবনের পথে চলতে চলতে কত রকম ভাবে একই মানুষ কে জীবন টা কে চিনতে হয়! তবুও কত স্থির শ্রাবণী এখনও, সে হলে কি এমন স্থির থাকতে পারতো! হয়তো উপর থেকে দেখে তাকে স্থির মনে হচ্ছে, কিন্তু ভেতর টা ঘুণ পোকা কেটে যাওয়ার

রাজকুমারী ও আমি ( পর্ব: ৫ )

শেখ লুৎফর পাগল বাড়ি শুনেছি,হিন্দুরা যখন ছিল তখন গ্রামের মানুষ এই বাড়িটাকে ডাকতো 'বড়বাড়ি'। আমার শ্বশুররা দখল নেওয়ার পরেও তাইছিল। কিন্তু এখন  ‘পাগল বাড়ি' না বললে এলাকার কেউ চিনবে না। এই বাড়িটাতে অদ্ভুদ অদ্ভুদ সব ঘটনা ঘটেছে। চোর-বদমাশদের চোখে বাড়িটা রীতিমত একটা আতঙ্ক। আমার বিয়ের তিনদিনের দিন রাতে একটা লোক গাছের

ধূসর পথের বাঁকে ( পর্ব: পাঁচ )

অনন্যা হক মাধবী স্তব্ধ হয়ে শোনে শ্রাবণীর পোড় খাওয়া মনের সরল স্বীকারোক্তি গুলো। ভাবে এত কিছু বুকের মধ্যে ধারণ করে আবার মানুষের কাছে কত সুন্দর করে অভিনয় করে দেখাতে হয় শ্রাবণী কে, না, সব ঠিক আছে। এর নাম কি জীবন? এখনও অখিল ফেরেনি সেখান থেকে? আগের মত জোর করে মুখের উপর কিছু বলে