সহযাত্রী-২

রোমেনা লেইস 'ওগো আজ তোরা যাসনে ঘরের বাহিরে'। সকাল থেকে আকাশের রঙ কাকের ডিমের মতো। তুবা কখনো কাকের ডিম দেখেনি কিন্তু আকাশ কালো করে মেঘ জমলে, গুরু গুরু দেয়া ডাকলে মা বলতেন, আকাশ দেখেছো কাকের ডিমের মতো রঙ ধরেছে। আজ আকাশ কালো।বৄষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টিতে ভিজে ক্লাসে গিয়েছিলো। ফিরেছেও কাকভেজা হয়ে।রুমমেট লোপা

ধূসর পথের বাঁকে (পর্ব: আটাশ)

অনন্যা হক অখিলের এই অনাচার শুরু হওয়ার পর শ্রাবণী কতবার চেয়েছে তার জীবন, সংসার থেকে সরে চলে যেতে, আবার কখনও অতি জেদ আর অভিমানে এই পৃথিবী থেকে চিরতরে বিদায় নিতেও মন চেয়েছে। কিন্তু মাঝখানে এসে দাঁড়িয়েছে শুভ।এই এত বড় পৃথিবীতে, জীবন সমুদ্রে তার ছেলে একা পথে হাঁটছে ভাবলে বুকের ভেতরে একটা

সহযাত্রী

রোমেনা লেইস মেয়েটি বই এর পাতায় নিমগ্ন। হালকা হলুদ রঙ এর সালোয়ার কমিজ পরেছে।ওড়নাটা লাল, হলুদ আর সবুজ ফুলেল প্রিন্টের। কপালে লাল ছোট্ট টিপ। ডিম আকৃতির মুখাবয়বে কালো এক ঢাল চুল।বাস ছাড়ার পর থেকে বার বার চোখ টানছে সেদিকে।দীপন ঢাকায় পড়ে।বাবার টেলিগ্রাম পেয়ে বাড়ি যাচ্ছে।ওর বাবা বগুড়ার পিডিবিতে প্রকৌশলী। রংপুরগামী বাসটিতে সীট

ধূসর পথের বাঁকে (পর্ব:সাতাশ)

অনন্যা হক অখিল বের হয়ে যায় বাসা থেকে।আগে হলে তার সাজ পোশাকের একটা অন্য রকম তোড়জোড় থাকতো।কিন্তু আজ খুব একটা মনোযোগ দেখা গেল না এসবে।বেশ সাদামাটা ভাবে বের হয়ে গেল। শ্রাবণীর মন বলে, সে হেনার কাছে যাচ্ছে।ভাবে,কতদিন আর এমন হাত পা গুটিয়ে ঘরে বসে থাকতে পারবে, জীবন আবার জীবনের গতিতে চলতে শুরু

ধূসর পথের বাঁকে ( পর্ব:ছাব্বিশ )

অনন্যা হক শ্রাবণী কিছুটা অন্যমনস্ক হয়ে গিয়েছিল, তরকারির ঝোল টা শুকিয়ে চড়চড় শব্দ করছে শুনতে পেয়ে সম্বিত ফিরে আসে।রাজু শাক ধুয়ে, ওদিকে বাগানে গিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, তারও মন খারাপ খুব।ঘুরে ফিরে নানীর কাছে গিয়ে বসতো,গল্প করতো কত কিছু নিয়ে।অসুস্থ্য হওয়ার পর নানী তার উপর আগের মত রাগ করতো না বরং তাকে

আমার আনকালচার্ড বউ

মতিউর রহমান রিয়াদ বাসর রাতে সে আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলো, আমাকে আপনার পছন্দ হয়েছে? আমি তাকে শুধু এটুকুই বলেছিলাম, শুধু রঙ ধবধবে সাদা হলেই তাকে সুন্দরী আর স্মার্ট বলে না।দাঁতে প্রচণ্ড ব্যথা ছিল, তাই বিয়েতে রাজি না থাকার কথা পরিবারে বলতে পারি নি, এর জন্য তোর কপালে আমি জুটেছি, তুই তোর মতো থাকবি

ধূসর পথের বাঁকে (পর্ব:পঁচিশ)

অনন্যা হক অখিল চা শেষ করে কাপ হাতে রান্না ঘরের কাছে এসে দাঁড়ায়। -চাবি টা কোথায় বলতে পারবে? -আমার কাছে আছে, এখনই লাগবে তোমার? -দাও, ওখানে কিছু জরুরী কাগজপত্র ছিল, চেক করে দেখতে হবে ঠিক আছে কিনা। -ঘরে যাও,আমি আসছি। অখিল ঘরে গিয়ে নিজের বিছানায় শুয়ে পড়ে।মোবাইল টা বালিশের পাশে ছিল, হাতে নিয়ে দেখে কোন কল

ধূসর পথের বাঁকে ( পর্ব:চব্বিশ )

অনন্যা হক বাড়ি থেকে একটা মানুষ চিরতরে বিদায় নিল। হিমানীর বয়সের পঁয়ষট্টি বছর কেটেছে এই সংসারে। সেই পনেরো বছর বয়সে এসেছিল এই সংসারে। তার বিদায় উপলক্ষে কত মানুষের সমাগম হলো এ কদিন ধরে এ বাড়ি তে।দুই মেয়ে, নাতি পুতিরা এসেছে। যারা কখনও মনে করে বেঁচে থাকতে দেখতে আসেনি, সেই বাবার বাড়ি, শ্বশুর

ধূসর পথের বাঁকে (পর্ব:তেইশ)

অনন্যা হক রাত চারটা বাজে তখন। শ্রাবণীর ঘুম বরাবরই হালকা।হঠাৎ তার কানে ঝন্‌ করে কিছু একটা পড়ে যাওয়ার আওয়াজ আসে। চোখ খুলে কান সজাগ করে সে। একটা ভারি কিছু পড়ে মেঝেতে গড়িয়ে যাওয়ার শব্দ পায় সে। গা টা ছমছম করে ওঠে ভয়ে, আবার চোরের উপদ্রব হলো নাকি। চকিতে ভাবে, আজ দরজা লাগানো

দর্শকের হৃদয় জয় করল ‘হাছনজানের রাজা’

রেজা ঘটক নাট্যদল প্রাঙ্গণেমোর-এর ১৩তম প্রযোজনা ‘হাছনজানের রাজা'র উদ্ধোধনী মঞ্চায়ন হলো গতকাল শুক্রবার। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় রেকর্ডসংখ্যক  হাউজফুল দর্শকের উপস্থিতিতে নাটকটি মঞ্চস্থ হলো। আজ শনিবার (২১ এপ্রিল)  শিল্পকলার এক্সপারিমেন্টাল হলে অনুষ্ঠিত হবে নাটকটির দ্বিতীয় মঞ্চায়ন। ‘হাছনজানের রাজা' নাটকটির রচয়িতা নাট্যকার শাকুর মজিদ ও নির্দেশক অনন্ত হিরা। মরমী গীতিকবি, মিস্টিক দার্শনিক ও