You are here
নীড়পাতা > প্রতিবেদন > মুক্তিযুদ্ধে সিলেটের নারী (পর্ব: ৪)

মুক্তিযুদ্ধে সিলেটের নারী (পর্ব: ৪)

Your ads will be inserted here by

Easy Plugin for AdSense.

Please go to the plugin admin page to
Paste your ad code OR
Suppress this ad slot.

আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধকে ঘিরে এক কাতারে এসে দাঁড়িয়েছিল আবালবৃদ্ধবনিতা, ছাত্রশিক্ষক, কৃষকমুটেমজুরকুলি, পেশাজীবিশ্রমজীবী সবাই মুক্তির আকাঙ্খায় মুছে গিয়েছিল ধর্মবর্ণলিঙ্গঅবস্থানভেদ মুক্তিযুদ্ধে সংগ্রামের, ত্যাগের, সহ্যের, সাহসের এক অকৃত্রিম তুলনাহীন ভূমিকা পালন করেছিলেন আমাদের নারীরা মুক্তিযুদ্ধে সিলেট অঞ্চলের নারীদের ভূমিকা নিয়ে  ‘মুক্তিযুদ্ধে সিলেটের নারীশিরোনামের ধারাবাহিক প্রবন্ধটি উইমেন ওয়ার্ডস  এর পাঠকদের জন্য লিখেছেন

অপূর্ব শর্মা

সংগঠক ছিলেন যারা

মুক্তিযুদ্ধে নানাভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন নারীরা। কি দেশে, কি প্রবাসে-সবখানেই গতিশীল ছিলেন তারা। তাদের সেই অবদানের কথা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। তারপরও তারা থেকে গেছেন আড়ালে! মুক্তিযুদ্ধে পুরুষের অবদান যেভাবে উঠে এসেছে, ঠিক সেভাবে উঠে আসেনি নারীদের অংশগ্রহনের কথা। দুঃসময়ে নারীরা পুরুষের পাশাপাশি সমানতালে কাজ করেছেন নিজেদের শক্তি, সামর্থ অনুযায়ি। দেশ মাতৃকার প্রয়োজনে নারীদের যে যে কাজে নিয়োজিত করা হয়েছে তা তারা পালন করেছেন যথাযথভাবে। মুক্তিযুদ্ধে সংগঠককের ভূমিকা পালন করা নারীদের কথা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে এই পর্বে।

জোবায়দা খাতুন চৌধুরী

১৯২৮ সালে পর্দার আড়াল থেকে বের হয়ে সেই যে আন্দোলন-সংগ্রামের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন, আর পিছু হটেন নি। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, নানকার বিদ্রোহ, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলন এবং ১৯৪৭ সালে গণভোটের সময় সিলেটকে পাকিস্তানের সাথে অন্তর্ভুক্ত করার আন্দোলনে অগ্রভাগে ছিলেন জোবায়দা খাতুন চৌধুরী। কিন্তু পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর পূর্ব বাংলার সাথে পাকিস্তান সরকারের বৈরীতা তিনি মেনে নিতে পারেন নি। শোষণ ও নির্যাতনে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। ১৯৬২ সালের সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোল, ৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন এবং ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি ছিলেন রাজপথে। ’৭১-এর ২৫ মার্চের গণহত্যা তাঁকে বিচলিত করে তুলে। স্বাধীনতা ছাড়া গত্যন্তর নেই তা ভালোভাবেই অনুধাবন করেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধ সংগঠনে শুরু হয় তাঁর তৎপরতা। মুক্তিযুদ্ধের পুরোটা সময় মুক্তিযোদ্ধাদের যতরকম  সহায়তা করা তাঁর পক্ষে সম্ভব তা করেছেন তিনি। ক্যাম্পে ক্যাম্পে পাঠিয়েছেন খাদ্য, বস্ত্র, ওষুধপত্র ইত্যাদি। প্রয়োজনে মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়েরও ব্যবস্থা করেছেন। অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করেছেন মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তার জন্য নিবেদিত হতে। তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে এগিয়ে এসে স্বাধীনতার কাজে লেগেছেন অনেকেই।

স্বাধীনতা অর্জনের পর নতুন করে শুরু হয় তার কর্মতৎপরতা। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানে আটকে পড়া বাঙালিদের উদ্ধারে তিনি সোচ্চার হয়ে উঠেন। গঠন করেন একটি সমিতি। এই সমিতির মাধ্যমে পাকিস্তান থেকে শত শত বাঙালিকে দেশে ফেরত আনতে সক্ষম হন তিনি।

জোবায়দা খাতুন চৌধুরীর জন্ম ১৯০১ সালে। তাঁর পৈত্রিক নিবাস গোলাপগঞ্জ থানার ঢাকা দক্ষিণ ইউনিয়নের শিলঘাট গ্রামে। পিতা সরাফত আলী চৌধুরী ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা। মাতা গৃহিনী নূরজাহান বেগম। পিতার কর্মস্থল ভারতের আসাম রাজ্যের জোড়হাট জেলা শহরে তিনি জন্মগ্রহন করেন। ১৯১৯ সালে হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ থানার পানিউমদা গ্রামের আবদুর রহিম চৌধুরীর সাথে তাঁর বিয়ে হয়। ১৯৮৫ সালের ২৫ জানুয়ারি নিভে যায় তাঁর জীবনপ্রদীপ।

সিরাজুন্নেসা চৌধুরী

প্রগতির পথের অভিযাত্রী সিরাজুন্নেসা চৌধুরী মুক্তি সংগ্রামের সময় বলিষ্ট ভূমিকা গ্রহণ করেন। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন এবং পর্দা প্রথার বিরুদ্ধে তিনি যেভাবে সোচ্চার ছিলেন ঠিক তেমনি দেশ মাতৃকাকে রক্ষায় তিনি ছিলেন অন্তপ্রাণ। তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে অসংখ্য মানুষ।

মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পর পরই পাকবাহিনীর দখলে চলে যায় সিলেট। স্বাধীনতার পক্ষের অনেকেই আটকা পড়েন শহরে। চোখে অন্ধকার দেখেন তারা। এই পরিস্থিতিতে তাদের সহায়তায় হাত বাড়িয়ে দেন সিরাজুন্নেসা চৌধুরী। সিলেটে শহরে আটকে পড়া ডাক্তার, ব্যাংকার, অফিসার, আত্মীয়-অনাত্মীয়দের রক্ষায় তিনি দুঃসাহসিকতার পরিচয় দেন। মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে তিনি বিভিন্ন পেশার বিপন্ন লোকজনদের ১৭টি গাড়ি বোঝাই করে নিজের চা বাগান মৌলভীবাজারের সিরাজ নগরে নিয়ে যান। সেখানে একশরও  অধিক মানুষকে তিনি শুধু আশ্রয়দান করেননি, তাদের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নিয়ে পাকবাহিনীর নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা করেন। শুধু তাই নয়, তাঁর নির্দেশে পুত্র হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী পাক রাষ্ট্রদূতের পদ ত্যাগ করে ভারতে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব গ্রহন করেন। আর আমীনূর রশীদ চৌধূরী পালন করেন সংগঠকের ভূমিকা।

স্বাধীনতা উত্তরকালেও বহু দুঃস্থ নারীর পুনর্বাসনে এগিয়ে আসেন এই মহিয়সী। তাঁর সহায়তায় নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখে অসহায় নারীরা।

সিরাজুন্নেসা চৌধুরী ১৯১০ সালের ২৭ নভেম্বর মৌলভীবাজার জেলার ইটা পরগনার রাজনগরে জন্মগ্রহন করেন। তার পিতার নাম দেওয়ান আব্দুল করিম চৌধুরী, মাতা আসমাতুন্নেসা চৌধুরী। ১৯২৬ সালে সুনামগঞ্জের পাগলা এলাকার দুর্গাপাশা গ্রামের অতিরিক্ত সহকারী কমিশনার আব্দুর রশীদ চৌধুরীর সাথে বিয়ে হয় তাঁর। ১৯৭৪ সালের ২৪ জুন তাঁর মৃত্যু হয় এই মহিয়সীর।

সুহাসিনী দাস

মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে যখন অগণিত বাঙালি নিরাপত্তার জন্য ওপারে পাড়ি জমায় তখন, সেবা ব্রতের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী সুহাসিনী দাস দেশ মাতৃকাকে ছেড়ে কোথাও না যাওয়ার সংকল্প করেন। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের এই নেত্রী মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহনের জন্য সাধারণ মানুষকে উদ্ধুদ্ধ করতে থাকেন। তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে অনেকেই ঝাপিয়ে পড়ে য্দ্ধু জয়ে।

সুহাসিনী দাস মুক্তিযুদ্ধের প্রায় পুরোটা সময় কুলাউড়ার রঙ্গিরকুল আশ্রমে ছিলেন। দুর্যোগময় দিনগুলোতে তিনি তাঁর বিচক্ষণতা দিয়ে আশ্রমটিকে রক্ষা করেন। পাকবাহিনী যখন দেশজুড়ে গণহত্যা চালাচ্ছিল তখন সুহাসিনী দাস রঙ্গিরকুল আশ্রমে থেকে মানুষের সেবায় রত ছিলেন। একাধিকবার পাকবাহিনী আশ্রমে হানা দিলেও প্রতিবারই তিনি আশ্রম ও নিজেকে রক্ষা করতে সক্ষম হন। স্বাধীনতার পর সুহাসিনী দাস সক্রিয় রাজনীতি ছেড়ে সমাজ সেবায় যুক্ত হন। মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতিতা নারীদের পুনর্বাসনে এগিয়ে আসেন। নিকুঞ্জ বিহারী গোস্বামী ও সুহাসিনী দাস মিলে গঠন করেন ‘শ্রীকৃষ্ণ সেবা সদন’। ১৯৭২ সালে পঞ্চাশজন নির্যাতিতা নারীকে আশ্রয় দেওয়া হয় সেবা সদনে। এই অসহায় নারীদের বিপর্যয়ের মুখ থেকে রক্ষায় সুহাসিনী দাস গ্রহন করেন অনন্য ভূমিকা। তাদের কর্মসংস্থানেরও ব্যবস্থা করে দেন তিনি। অনেককে করেছেন পাত্রস্থ।

সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলায় বাংলা ১৩২২ সালে তিনি জন্মগ্রহন করেন। তাঁর পিতার নাম প্যারী মোহন রায়, মাতা শোভা রায়। তাঁর বয়স যখন ষোল বছর তখন সিলেট শহরের জামতলার অধিবাসী কোটিচাঁদ প্রেস ও লাইব্রেরির মালিক কুমুদচন্দ্র দাসের সাথে তাঁর বিয়ে হয়। ২০০৯ সালের ৩০ মে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

প্রীতিরানী দাশ পুরকায়স্থ

প্রীতিরাণী দাশ পুরকায়স্থ ১৩২৬ বাংলায় জন্মগ্রহন করেন। তাঁর পিতার নাম দিন দয়াময় দাশগুপ্ত এবং মাতা সুরেশ নন্দিনী দাশগুপ্ত। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নেতা বিশ্বনাথ থানার দিঘলী গ্রামের হেমেন্দ্রকুমার দাশপুরকায়স্থের সাথে তাঁর বিয়ে হয়। স্বামীর সহচর্য তাঁকে মুক্তির পথে অগ্রসর হতে আকুন্ঠ সাহায্য করে। হেমেন্দ্রকুমার দাশপুরকায়স্থের চাকুরীর সুবাদে আসামে অবস্থানকালীন সময়ে মহাত্মা গান্ধী এবং নেতাজী সুভাষ বসুর সংস্পর্শে আসার সৌভাগ্য হয় প্রীতিরাণীর। এই দুই মহান নেতার আদর্শে অনুপ্রানিত হয়ে নিজের জীবন চলার পথকে গতিশীল করেন তিনি। বিপ্লবী জীবনসঙ্গীর উৎসাহ অনুপ্রেরণায় প্রীতিরাণী নিজেকে অধিষ্ঠিত করেন অনন্য উচ্চতায়।

মুক্তিযুদ্ধে প্রীতিরাণীর রয়েছে বিশেষ ভূমিকা। শুধু সংগঠকই ছিলেন না অনেকগুলো গুরুদায়িত্ব তিনি পালন করেছেন অত্যন্ত দক্ষতার সাথে। এর মধ্যে অন্যতম ছিল মহিলা মুক্তিফৌজের দায়িত্ব। মুক্তিযুদ্ধে ৫ নম্বর সেক্টরের অধীন চেলা সাব-সেক্টরে গঠিত মহিলা মুক্তিফৌজের সভানেত্রী ছিলেন তিনি। ’৭১ সালের ৫ জুলাই ছাতকের বাঁশতলায় হেমেন্দ্রকুমার দাশপুরকায়স্থের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় ‘মহিলা মুক্তিফৌজ’-এর কমিটি গঠিত হয়। এই কমিটির প্রায় ৫০ জন নারী মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদান রাখেন। তারা মুক্তিযোদ্ধাদের সব ধরনের সাহায্য সহযোগিতা করেন দুঃসময়ে। এরমধ্যে অন্যতম ছিল চিকিৎসা সহায়তা প্রদান। তাঁর নেতৃত্বে ক্যাম্পে ক্যাম্পে গিয়ে আহত মুক্তিযোদ্ধাদেরকে চিকিৎসা দিয়েছেন নারীরা। মহিলা মুক্তিফৌজের উদ্যোগে চেলায় স্থাপন করা হয় একটি অস্থায়ী হাসপাতাল। সেখানে নিযুক্ত ছিলেন দু’জন চিকিৎসক।

প্রীতিরাণীর বুদ্ধিদীপ্ত নেতৃত্বের ফলে সেই দুঃসহ সময়ে এক ঝাক নারী যেভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন তা সত্যিই বিরল। তাঁর নেতৃত্বাধীন পরিচালিত এই সংগঠনের তৎপরতা প্রত্যক্ষ করেন প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামরুজ্জামান ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এজি ওসমানী।

প্রীতিরাণী দাশ পুরকায়স্থ ২০০৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

হেনা দাস

অসহযোগ আন্দোলন চলাকালে পূর্ব পাকিস্তান শিক্ষক সমিতির অন্যতম নেত্রী ছিলেন হেনা দাস। এই আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত ছিলো সমিতি ও শিক্ষক সমাজ। শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে হেনা দাসকে অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি তৈরী ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি তা যথাযথভাবে পালন করেন। এ কারনে পাক সরকার তাঁকে কালো তালিকাভুক্ত  করে।

মুক্তিযুদ্ধ  শুরুর পর মে মাসের মাঝামাঝি নারায়নগঞ্জের ৪শ জনের একটি গ্রপের সাথে তিনি ভারতে চলে যান। প্রথমে আগরতলা এবং পরবর্তীতে কলকাতায় অবস্থান নেন। কলকতার পার্কসার্কাসে সে সময় কমিউনিষ্ট পার্টির কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের পুরোটা সময় সেখানেই ছিলেন হেনা দাস। কলকাতায় অবস্থান করে শরণার্থী এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। মহিলা পরিষদের নেত্রী হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের শুভানুধ্যায়ীদের সহায়তায় নারী ও শিশুদের পোশাক এবং প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সংগ্রহ করে বিতরণ করেন তিনি।

সেই সময়, শরনার্থী হিসেবে ভারতে অবস্থানরত শিক্ষকদের কর্মসংস্থান এবং শিবিরগুলোতে ছেলে মেয়েদের মধ্যে শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি’ নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই সংগঠন ‘ক্যাম্প স্কুল প্রজেক্ট’ নামে একটি প্রকল্প গ্রহন করে। এই প্রকল্পের অর্থায়ন করে বিদেশি একটি সাহায্য সংস্থা। এই সাহায্য দিয়ে ৫০ টি শরণার্থী শিবিরে বিদ্যালয় চালু করা হয়। শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নেয়া ৫শ শিক্ষককে এসব স্কুলে নিয়োগ দেয়া হয়। তাদের প্রতিমাসে দেড়শ থেকে দুইশ’ টাকা করে সম্মানী ভাতা দেয়া হতো। স্কুলগুলোতে লেখাপড়ার পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীদের স্বাধীন বাংলাদেশের আদর্শ ও দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করা এবং তাদের মুক্তিযুদ্ধের সহায়ক শক্তি হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালাতেন শিক্ষকরা। ঐ স্কুলগুলোর প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেন হেনা দাস।

১৯২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি হেনা দাস সিলেট শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম সতীশ চন্দ্র দত্ত, মাতা মনোরমা দত্ত। তাঁর পিতা ছিলেন সিলেট বারের একজন নামকরা উকিল। ১৯৪৮ সালের ২৮ জুন কমরেড রোহিনী দাসের সাথে তাঁর বিয়ে হয়। ২০০৯ সালের ২০ জুলাই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

আগের অংশ পড়ুন

মুক্তিযুদ্ধে সিলেটের নারী (পর্ব ৩: ২য় খন্ড)

 

 

Similar Articles

Leave a Reply