You are here
নীড়পাতা > প্রতিবেদন > সিলেটে বাংলাদেশ নারীমুক্তি সংসদ’র জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত

সিলেটে বাংলাদেশ নারীমুক্তি সংসদ’র জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত

Your ads will be inserted here by

Easy Plugin for AdSense.

Please go to the plugin admin page to
Paste your ad code OR
Suppress this ad slot.

‘ওরে হত্যা নয় আজ, সত্যাগ্রহ শক্তির উদ্বোধন’ এই শ্লোগানকে প্রতিপাদ্য করে সিলেটে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ নারীমুক্তি সংসদ এর জেলা সম্মেলন। সংগঠনটির সিলেট জেলা কমিটির আয়োজনে শুক্রবার বিকেলে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ নারীমুক্তি সংসদ, সিলেট জেলা কমিটির সভাপতি ইন্দ্রানী সেন শম্পার সভাপতিত্বে ও সাধারন সম্পাদক সায়েদা আক্তারের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হাজেরা সুলতানা এমপি। সভার উদ্বোধক ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা ও শব্দ সৈনিক রোকেয়া বেগম। প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য ও সিলেট জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সিকান্দর আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নারীমুক্তি সংসদ, কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি ফজিলাতুন নাহার ও সহ সাধারন সম্পাদক শিউলি সিকদার।

narimukti songsod 3-womenwords

 

সিকান্দর আলী বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী, সংসদের বিরোধী দলীয় নেত্রী ও সরকারের বাইরে থাকা প্রধান রাজনৈতিক দলের নেত্রী হলেন নারী। তারপরেও নারীদের অবস্থানের সেরকম কোন পরিবর্তন হয়নি। প্রতিদিন পত্রিকা খুললেই দেখা যায় ধর্ষণ, যৌতুকের জন্য নির্যাতন। আর শহরের বস্তি এলাকাগুলোতে গেলে দেখা যায় স্ত্রী-সন্তান থাকা সত্ত্বেও স্বামী তৃতীয় বা চতুর্থ বিয়ে করে অন্য কোথাও চলে গেছে। ফেলে গেছে স্ত্রী-সন্তানদেরকে। তখন সেই নারীর জীবন হয়ে ওঠে দুর্বিষহ।

তিনি বলেন, নারী নীতি প্রনয়ন হয় কিন্তু নারী নির্যাতন কমেনা। ধর্ষণের বিচার হয়না, যৌতুকের কারণে যে অত্যাচার হয়, সেগুলোর বিচার হয়না। নারীদের ভোটে যারা এমপি হোন, তারা নারীদেরকেই অবহেলা, অসম্মান করেন।

প্রধান বক্তা আরও বলেন, নারীদেরকে নিয়ে যেসব তেতুল হুজুররা ফতোয়া দেন, তারাই নারীদের ট্রেনিং দিয়ে আত্মঘাতী বানাচ্ছেন। যুগের পর যুগ ধরে নারীরা ভোগের সামগ্রী হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছেন। টিভি, সিনেমা, বিলবোর্ডে মেয়েদেরকে উলঙ্গ বা অর্ধ উলঙ্গ করে উপস্থাপন করে ব্যবসা চলছে। তাই ঘরে বা এই হল রুমে নয় নারীদের রাজপথে নেমে আন্দোলন করতে হবে।

সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হাজেরা সুলতানা এমপি বলেন, বেগম রোকেয়া বলেছিলেন, গাড়ির একটি চাকা যদি ভাঙ্গা থাকে, তাহলে আরেক চাকা দিয়ে গাড়িটি চলতে পারেনা। তাহলে আজকে ১০০ বছর পরে নতুন জেনারেশন উপলব্ধি করতে পেরেছে এই ভাঙ্গা গাড়িটিকে যদি সত্যিকার ভাবে দ্রুতগতিতে চালাতে হয়, তাহলে তার আরেকটি চাকা মেরামত করতে হবে, দুটো চাকা সচল করে সমাজ নামক গাড়িটিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে। নারীকে উন্নয়ন কর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে।

তিনি বলেন, নারী পুরুষের সমতা ছাড়া সমাজ সুন্দর হয়না, সমাজে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়না। আমরা এই সমাজে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হরতে চাই, নারী অধিকার নয়। নারীরা যে মানুষ, সেটা আমরা প্রমাণ করতে চাই, সেই মানুষের অধিকার আমরা আদায় করতে চাই। নারী মুক্তি সংসদ-এই সংগঠনটি সেই লক্ষ্যে আমরা গঠন করেছি। সংগঠনটির জন্মলগ্ন থেকে আজকের দিন পর্যস্ত আমরা বহু আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছি। যৌতুক বিরোধী আইন পাশের জন্য মিছিল করে আমরা পার্লামেন্টে স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছিলাম।

ইন্দ্রানী সেন শম্পা বলেন, শ্রমজীবি, মেহনতি মানুষ, যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে- সেইসব নারীদেরকে নিয়ে একটি অগ্রবর্তী সমাজের দিকে এগিয়ে  যাওয়া। সংখ্যার আধিক্য দিয়ে নয়, বোধের চেতনা দিয়ে আমরা সমাজের সকল অসমতাকে বিলীন করব এই আহবান রেখে আজকের এই আলোচনা সভার সমাপ্তি ঘোষণা করছি। সেই সাথে আহবান জানাচ্ছি আসুন আমরা সবাই মিলে একটি সুন্দর, সম্পৃক্ত ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ গড়ে তুলব।

সভা শেষে বাংলাদেশ নারীমুক্তি সংসদ, সিলেট জেলার নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।

সবশেষে ছিল একটি সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই বিকেল পৌনে ৪ টার দিকে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা ও সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করা হয়।

 

 

Similar Articles

Leave a Reply