You are here
নীড়পাতা > প্রতিবেদন > সিলেটে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণ বিরোধী সাংস্কৃতিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত

সিলেটে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণ বিরোধী সাংস্কৃতিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত

Your ads will be inserted here by

Easy Plugin for AdSense.

Please go to the plugin admin page to
Paste your ad code OR
Suppress this ad slot.

‘বেজে উঠলো কি সময়ের ঘড়ি?এসো তবে আজ বিদ্রোহ করি,আমরা সবাই যে যার প্রহরী,উঠুক ডাক’, এই শ্লোগানে সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেটের আয়োজনে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন বিরোধী প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকেল ৪ টায় সিলেট কেন্দ্রিয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

ইন্দ্রানী সেন শম্পার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতেই ‘জাগো নারী জাগো বহ্নিশিখা’ গানটির সাথে উদ্বোধনী নৃত্য পরিবেশন করে ছন্দ নৃত্যালয় সিলেট।

প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার ড. মোছাম্মাৎ নাজমানারা খানুম বলেন, শুধুমাত্র আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নারী নির্যাতন সহ ঘৃণিত অপরাধ সমূহ দূর করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি সামাজিক মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে সমাজকে জাগ্রত করতে হবে। সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা অর্জনে প্রাধান্য দিতে হবে।

তিনি বলেন- সরকার ধর্ষণ, নারী নির্যাতন সহ সমস্ত অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে কাজ করছে। এক্ষেত্রে সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে এবং সামাজিকভাবে নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে পরিবর্তন আনতে নাট্য ও সংস্কৃতিকর্মী দের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে সম্মিলিত নাট্যপরিষদ, সিলেট বিভাগে এই কর্মসূচীকে ছড়িয়ে দিতে পারে। তিনি তৃণমূল পর্যায়ে সাংস্কৃতিক জাগরণের মধ্য দিয়ে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টির আহ্বান জানান।

প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশে আলোচনা পর্বে সভাপতিত্ব করেন- সম্মিলিত নাট্য পরিষদের সভাপতি মিশফাক আহমেদ চৌধুরী মিশু। আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রবীণ লোকসঙ্গীত শিল্পী সুষমা দাস, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফারজানা সিদ্দিকা রনি, সাংস্কৃতিক সমাবেশে আয়োজকদের পক্ষে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন মূরারী চাঁদ কলেজের রাষ্ট্র বিজ্ঞানের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক শামীমা চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন- সম্মিলিত নাট্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্ত।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফারজানা সিদ্দিকা রনি বলেন, প্রযুক্তিগত ভাবে আমরা উন্নত হচ্ছি, নতুন নতুন ইমারত নির্মাণ করছি। কিন্তু কমে যাচ্ছে আমোদের লাইব্রেরির সংখ্যা।লাইব্রেরির সংখ্যা বাড়ানোর দিকে আমাদের উদ্যোগী হতে হবে।

তিনি বলেন, আগে এলাকা ভিত্তিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ছিল, এখন সেগুলো দেখা যায়না।তাই সংস্কৃতির চর্চাও কমে গেছে।সংস্কৃতির চর্চা ছাড়া সঠিক মূল্যবোধ তৈরি হওয়া সম্ভব নয়।

বৃষ্টি বিঘ্নিত বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন বিরোধী সাংস্কৃতিক পরিবেশনা তুলে ধরে- বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী সিলেট জেলা সংসদ, নৃত্যশৈলী সিলেট, থিয়েটার সিলেট, নগরনাট সিলেট, নবশিখা নাট্যদল সিলেট, আবৃত্তি পরিবেশন করেন- জ্যোতি ভট্টাচার্য্য।

অনুষ্ঠানে সংহতি জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন- সুজন সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সহ-সভাপতি মোকাদ্দেছ বাবুল, বাপা সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম।

এছাড়াও নাট্য পরিষদের পরিচালক চম্পক সরকার, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনামুল মুনির, সম্মিলিত নাট্য পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামছুল বাছিত শেরো, সাবেক সহ-সভাপতি খোয়াজ রহিম সবুজ, নাট্য সংগঠক বাবুল আহমেদ, গণজাগরণ মঞ্চ সিলেটের মুখপাত্র দেবাশীষ দেবুসহ বিভিন্ন নাট্য সংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিত্বশীল ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

Similar Articles

Leave a Reply