You are here
নীড়পাতা > নারীর অগ্রযাত্রা > সিলেটের প্রথম নারী আলোক প্রক্ষেপক তিথি

সিলেটের প্রথম নারী আলোক প্রক্ষেপক তিথি

নিজস্ব প্রতিবেদক

তিথি খান। নাট্যনিকেতনের অভিনয় শিল্পী। ভূমিকণ্যা নাটকে নাম ভূমিকায় তার অভিনয় শৈলী প্রত্যক্ষ করেছেন সিলেটের দর্শকেরা। কিন্তু সে যে আলোক প্রক্ষেপনেও দক্ষ, এবার সেটাই দেখলো নগরবাসী। শতভিষা’র অভিষেক অনুষ্ঠানের দিন ‘নারীপুরাণ’ নাটকে প্রথমবারের মতো আলোকপ্রক্ষেপনের দায়িত্ব পালন করে এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন তিনি। নাটকটি মঞ্চাযিত হয় গত ৩ নভেম্বর।

তাছাড়া, পর পর দু’দিন মদনমোহন কলেজের নাট্য সংগঠন বিজিতকুমার ক্যাম্পাস থিয়েটার পরিবেশিত  ‘দুবড়ী’ নাটকে আলোকপ্রক্ষেপনের দায়িত্ব পালন করেছেন তিথি। তার আগে সিলেটের নাটকে আলোকপ্রক্ষেপনের দায়িত্ব পালন করেন নি কোনও নারী। প্রথমবারের মতো এই দায়িত্ব পালন করে তিথি নিজেও বেশ উচ্ছসিত।

তার বক্তব্য, অভিনয় করতে গিয়েই আলোকপ্রক্ষেপনের প্রতি ভালোলাগা। আর ভালোলাগা থেকে শেখা এবং দায়িত্ব পালন। এ জন্য চম্পক সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিথি।

আর এমন কীর্তি গড়ার নির্দেশক হতে পেরে সম্মিলিত নাট্য পরিষদের পরিচালক চম্পক সরকারও আনন্দিত। এ ব্যাপারে এ প্রতিবেদককে চম্পক সরকার বলেন, একজন দক্ষ নাট্যাভিনেতা হতে গেলে, একজন দক্ষ নাট্য পরিচালক হতে গেলে সব ব্যাপারেই কমবেশি জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। সে দীর্ঘদিন ধরে নাটকের পাশাপাশি আলোকপ্রক্ষেপন সম্পর্কে আমার কাছ থেকে খুটিনাটি বিষয় যেমন অবগত হয়েছে, তেমনি দলের সঙ্গে থাকায় হাতে কলমে শিখেছে অনেক কিছু। গত দুইদিন তিথি দায়িত্ব নিয়ে কাজটি করেছে। তিনি বলেন, এসব কাজের সঙ্গে যত বেশি তরুনর-তরুণীরা সম্পৃক্ত হবে, তত বেশি নিত্যনতুন আইডিয়া যুক্ত হবে। আমার বিশ্বাস তিথি অভিনয়ের পাশাপাশি আলোকপ্রক্ষপনেও ভালো করবে।

গত বুধ ও বৃহম্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় কবি নজরুল অডিটরিয়ামে মঞ্চস্থ  ‘দুবড়ি’ নাটকে আলোক প্রক্ষপনে তার সঙ্গে ছিলেন বদরুল আলম। চম্পক সরকার ছিলেন আলোক পরিকল্পনায়।

মদন মোহন কলেজের ছাত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ সোলেমানের জীবন কাহিনী নির্ভর এ নাটকটি রচনা করেছেন মু.আনোয়ার হোসেন রনি। নির্দেশনায় ছিলেন অরিন্দম দত্ত চন্দন ও আমিরুল ইসলাম বাবু। মুক্তিযুদ্ধে শহিদ সোলেমানের আত্মোৎসর্গের কাহিনী নিয়ে রচিত  ‘দুবড়ি’ ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে সুধিমহলে। নাটকে অভিনয় থেকে শুরু করে প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই সম্পৃক্ত ছিলেন কলেজের সাবেক ও বর্তমান ছাত্র-ছাত্রীরা। নাটক দেখে অভিব্যক্তি ব্যক্ত করতে গিয়ে বিজিতকুমার দে বলেছেন, এ নাটকের প্রায় সকল চরিত্রই জীবন্ত, প্রত্যেক অভিনেতাই শতভাগ সফল। কলেজের সাবেক এই অধ্যাপক বলেন, আমার ছাত্ররা মানুষ হয়েছে। প্রকৃত মানুষ হয়েছে। আজ আমার জীবন সার্থক।’

Similar Articles

Leave a Reply