You are here
নীড়পাতা > প্রতিবেদন > সঙ্কটে নির্ভরযোগ্য একজন জীবনসঙ্গী পাওয়া কঠিন

সঙ্কটে নির্ভরযোগ্য একজন জীবনসঙ্গী পাওয়া কঠিন

Your ads will be inserted here by

Easy Plugin for AdSense.

Please go to the plugin admin page to
Paste your ad code OR
Suppress this ad slot.

অদিতি ফাল্গুনী

হুমায়ূন আহমেদ-গুলতেকিন-শাওনকে নিয়ে ‘লিখব না- লিখব না’ ভেবেও একবার লেখার পর ভেবেছিলাম আর এজাতীয় বিষয় নিয়ে লিখব না- যেমন আমার রুচিশীল বন্ধুরা লেখেন না। কাজেই অপু বিশ্বাসের টিভি ক্যামেরার সামনে এসে, শিশু পুত্রকে দেখিয়ে ‘ঘর ফিরে’ পাবার জনদাবি, ফেসবুকের জন আদালত সব কিছু দেখে গেছি। লিখিনি। আজ অপুর তালাক পাবার ঘটনাটা দেখে উপমহাদেশের বড় নায়িকাদের আরো কিছু ঘটনা মনে পড়ে গেল।

১৯৮৩-৮৪ সালের দিকে ভারত-বাংলাদেশ-পাকিস্থানের নায়ক-নায়িকাদের নিয়ে একটি ঝকঝকে রঙীন ছবি হয়েছিল, মনে আছে? সে ছবিতে তিন জোড়া নায়ক-নায়িকার ভেতর (শর্মিলা ঠাকুর-শশী কাপুর/ববিতা-নাদিম ও পারভীন বাবি-রাজ বাব্বর- বাংলা, হিন্দী ও উর্দূ সহ মোট তিনটি ভাষায় ডাবিং করা হয়েছিল) নায়িকা হিসেবে শর্মিলা তখনো সুন্দরী তবে বয়সের ভাঁজ পড়তে শুরু করেছে। ববিতা মোটা হয়ে গেছেন। একমাত্র যে ছিপছিপে, দীঘল চুলের সতেজ মেয়েটি আমাদের বালিকা চোখে বিষ্ময় জাগিয়েছিল সেই পারভীন বাবির জীবন কাহিনী ভয়ানক মর্মান্তিক। ১৯৪৯ সালে জন্ম নেয়া এই নায়িকা উচ্চতায় ছিলেন ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি, ইংরেজি মাধ্যমে পড়া-শুনা করার জন্য সুন্দর এ্যাকসেন্ট ছিল আর পোশাকেও ছিলেন পুরোই পশ্চিমা ফ্যাশন অনুসরণকারী। ’৭০-এর দশক ও ’৮০-র শুরু অবধি ভারতের সেরা ও সবচেয়ে ব্যবসা সফল নায়িকাদের সারিতে ছিলেন। বেশ কিছু সুপার হিট ছবির এই নায়িকা ‘টাইম’ ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ হয়েছিলেন। সেই তিনিই ১৯৮৩ (৩৪ বছর বয়স তখন) সাল নাগাদ দেশের বাইরে বেড়াতে গিয়ে আর ফিরে আসেন না। ১৯৮৪ সালে আমেরিকার একটি বিমানবন্দরে অস্বাভাবিক ভাবে চলা-ফেরার কারণে তাঁকে ত্রিশ জন মানসিক সমস্যাগ্রস্থের সাথে এক কক্ষে রাখা হয়। তাঁকেও মানসিক বিকারগ্রস্থ মনে করা হয়েছিল। ভারতীয় দূতাবাসের কর্মকর্তারা দেশের এক জনপ্রিয় অভিনেত্রীর এই হাল দেখে ছুটে গেলেন তাঁর কাছে। তিনি স্বাভাবিক ভাবেই কথা বললেন। দেশে ফিরলেন আর ১৯৮৯ সালে। সবাই তাঁকে দেখে অবাক। ছিপছিপে মেয়েটি ভয়ানক মোটা হয়ে গেছে। আর অমিতাভ বচ্চন থেকে শুরু করে সিনেমা জগতের অধিকাংশ মানুষকে ভাবছেন তাঁকে হত্যা করা বা ক্ষতি করার ষঢ়যন্ত্রে লিপ্ত। রক্তের স্বজন, বন্ধু-বান্ধব থেকে শুরু করে সবার কাছ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিলেন অসম্ভব সুন্দরী তবে পরপর বেশ কিছু প্রেমে ব্যর্থ পারভীন বাবি। চূড়ান্ততম প্রতারণার শিকার হয়েছিলেন পূজা বেদীর বাবা কবির বেদীর কাছ থেকে। চির অবিবাহিতা পারভীনকে ২০০৫ সালে তাঁর ঘরের ভেতর মৃত পাওয়া যায় যখন এ্যাপার্টমেন্টের অন্যরা লক্ষ্য করে যে তিন দিন হয় তিনি দরজা খুলে সংবাদপত্র ও দুধের বোতল সংগ্রহ করছেন না। হ্যাঁ, সাধারণত: অভাবী ঘরের মেয়েরাই যেমন শোবিজে যায়, পারভীনের ভাল চাকুরে বাবা মেয়েকে ইংরেজি মাধ্যমে ভর্তি করালেও পরে তাঁর বেশ তরুণ বয়সেই মৃত্যু হয়েছিল।

‘নিজেরা করি’-তে কাজ করার সময় খুশি কবির বা খুশি আপাই বলেছিলেন যে, ‘তুমি লক্ষ্য করেছো যে পৃথিবীর খুব জনপ্রিয় নায়িকারা অধিকাংশ সময় স্যুইসাইড করে?’ আমি বিহ্বল হয়ে মাথা নেড়েছিলাম। মূল প্রসঙ্গে আসি।

ভারতীয় সিনেমার আজো অবিনশ্বর কিংবদন্তী নায়িকা মধুবালার জীবনও এমনটাই বেদনাদায়ক। তাঁর আসল নাম ছিল মুমতাজ জেহান বেগম দেহলভি (১৪/০২/১৯৩৩-২৩/০২/১৯৬৯)। ভারতীয় সিনেমার এই ‘ভেনাস’কে ৯ বছর বয়সে সিনেমায় নামতে হয়েছিল বাবাকে সাহায্য করার জন্য। তারকা খ্যাতি অর্জনের পরও সহশিল্পী (একই ধর্মাবলম্বী) দিলীপ কুমারের সাথে প্রণয় হলেও ইগোয়িস্ট বাবার সাথে দিলীপ কুমারের দ্বন্দজনিত কারণে সেই প্রেম ভেঙে যায়। হার্টের অসুখে অসুস্থ মধুবালা সেই ব্যথা ভুলতে জড়িয়ে পড়েন বিবাহিত কিশোর কুমারের সাথে। বিয়েও করেন দ্রুত। তবে, বিয়ের পর ‘অসুস্থ’ স্ত্রীর উপর থেকে মন উঠে যায় কিশোরের। দূর থেকে আর্থিক কিছু দায়িত্ব বহন ছাড়া প্রেম আর এক তিলও ছিল না কিশোরের। ৩৬ বছর বয়সে মারা যান তিনি।

১৯৩৮ সালে জন্ম নেয়া নায়িকা ওয়াহিদা রেহমানেরও সিনেমায় নামতে হয়েছিল সংসারের অভাব ঘুচাতেই। পরিচালক গুরু দত্তের সাথে প্রেমটি যতটা ‘প্রেম’ হিসেবে নাম করেছিল, ততটা বাস্তবে সফল হয়নি। কমল জিত রেখির সাথে পরে বিয়ে হয় তাঁর। বিয়েটা অবশ্য টিঁকেছে ও সন্তানও আছেন দু’জন। অভিনেত্রী নার্গিস সহশিল্পী, বিবাহিত রাজ কাপুরের কাছে আবেবগত ভাবে ব্যবহৃত হয়ে পরে জুনিয়র শিল্পী সুনীল দত্তকে বিয়ে করেছেন।

মুম্বাইয়ের আরো দুই নামী নায়িকা (একজন বাণিজ্যিক ঘরানার ও আর একজন সিরিয়াস ঘরানার) জিনাত আমান ও শাবানা আজমিও বিয়ে করে থিতু হয়েছেন। দু’জনেই স্ব-সম্প্রদায়ে বিয়ে করেছেন। জাভেদ আখতারের দ্বিতীয় স্ত্রী কি শাবানা? নিশ্চিত নই।

বাংলাদেশে আসি। ওপারে যেমন বিশেষত: উত্তর ভারতে দেশভাগ অবধি এলিট ক্লাস ছিল মুসলিম সামন্ত শ্রেণি এবং কাজেই সঙ্গত কারণেই দেশভাগের পরপর মুসলিম সম্প্রদায় থেকে একটি বিপুল সংখ্যায় উল্লেখযোগ্য অভিনেতা-নেত্রী দেখা গেছে, বাংলাদেশেও দেশভাগের পর প্রচুর অভিনেতা-নেত্রী-নির্মাতা এসেছিলেন তুলনামূলক ভাবে অগ্রসর হিন্দু সম্প্রদায় থেকেই। বিবাহিতা সুমিতা দেবী তাঁর প্রথম স্বামীকে ছেড়ে জহির রায়হানকে বিয়ে করলেও পরে জহির রায়হান তাঁকে ডিভোর্স দিয়ে সুচন্দাকে বিয়ে করেন। তাঁদের এক পুত্র সন্তান হলেন অনল রায়হান। চিত্রনায়িকা শবনম বা রত্না ঘোষ অবশ্য আজীবন পরিণয়বদ্ধ থেকেছেন সুরকার স্বামী রবিন ঘোষের সাথে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পরও বহুদিন বা বহুবছর এই ‘বাঙ্গালী হিন্দু’ দম্পতি পাকিস্তানে তাদের অভিনয় ও সুরসৃষ্টির বিপুল চাহিদার কারণে সেখানে থেকে গেছিলেন। অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরী বা সুজাতা- এই দু’জন ধর্মান্তরিত হয়েছেন। অভিনেতা প্রবীর বিশ্বাসের স্ত্রী-ও মুসলিম। অভিনেত্রী অঞ্জু ঘোষ এক প্রযোজক এফ,কবীরকে বিয়ে করেছিলেন বলে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল। ‘বেদের মেয়ে জোসনা’ ওপারেও হিট হবার পর তিনি ওপারে যান। তবে, সেদেশের সিনেমায় দাঁড়াতে পারেননি। যাত্রা শিল্পী হয়েছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে টিভি অভিনেত্রী শ্রাবস্তী দত্ত তিন্নি তুলনামূলক ভাবে সম্পন্ন, শিক্ষিত পরিবারের মেয়ে হয়েও শোবিজে এসে প্রথমে হিন্দোল ও পরে একই নামের আর একজনকে বিয়ে করেন। দু’জনেই মুসলিম। দু’জনের ঘরেই দু’টো সন্তান। এবং দু’টো বিয়েই বোধ করি ভেঙ্গে গেছে। তিন্নির সম্পর্কে নেশাসক্ত হবার অভিযোগ আছে যা তার কেরিয়ার, সম্পর্ক সব কিছু ভেঙ্গে দিয়েছে। তাঁর সচিব পিতাই বর্তমানে তাঁকে দেখছেন।

সবশেষে এই তালিকায় যুক্ত হলেন অপু বিশ্বাস। বিধবা মায়ের মেয়ে অপু সিনেমায় আসেন ১৫ বছর বয়সে। সহশিল্পী শাকিব খান কেরিয়ারে ভাল করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁকে বিয়ে করেন ১৮ বছর বয়সে। বিয়ের সময় ধর্মান্তরিত হতে হয় তাঁকে। বহু বছর বিয়ের খবর গোপণ রেখে গত বছর সন্তান জন্মদানের পর আর লুকাতে পারেননি তিনি। এদিকে শাকিব ততদিনে নতুন অভিনেত্রীর সাথে জড়িয়ে পড়েছেন। কাজেই ‘অপু গৃহিনী হচ্ছেনা- ধর্ম-কর্ম করছে না-অন্যত্র প্রেম করছে’ এমন নানা অভিযোগে শেষমেশ তালাকই দিলেন।

একটা বিষয়: ভিন্ন ধর্মের পুরুষ বলেই এমনটা হচ্ছে তা’ কিন্ত নয়। ওপার বাংলায় প্রসেনজিত-দেবশ্রীর সংসার ভেঙ্গেছে। ঋত্বিক রোশন-কঙ্গনা রনৌতের সম্পর্ক ভেঙেছে। ভেঙেছে বিপাশা বসু-জন আব্রাহামের সম্পর্ক। অসংখ্য উদাহরণ দেয়া যাবে। রেখা-অমিতাভ, সালমান-ঐশ্বরিয়া-বিবেক…কত কত ঘটনা! আমার বক্তব্য অন্যত্র। আমাদের দেশেরই টিভি জগতের মুসলিম অভিনেত্রী শ্রাবন্তী আর বৌদ্ধ গায়ক ও অভিনেতা পার্থ বড়ুয়ার কাহিনীটাও বেশ দু:খজনকই ছিল।

নাচ-গানের সিনেমা থেকে বহু দূরের আর অনেক ‘সম্মানিত, গুরুগম্ভীর’ এক পৃথিবী, সাহিত্য ভুবনের মেয়ে আমি। ছ’মাস হয় শুধু রাতের বেলা ফেসবুক খোলা রেখে ১৪,০০০ অনুসারী আমার। তাতে আমি সুন্দরী অভিনেত্রী বা মডেল নই। তাহলে ‘সাহিত্য’ জিনিসটি একদম অপাংক্তেয় কিছু নয়, আমাদের দেশে যেমনটা ভাবা হয়? ১৯৯৪ সালে ২০ বছর বয়সে প্রথম গল্প ছাপা থেকে আজ অবধি কি দেখেছি আমি এ ভুবনে? নানা কিছুই দেখেছি। এখানে অনেক টাকা পুঁজি সিনেমার মত লগ্নী হয়না বলে নানা পাশবিকতা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। তাই বলে ‘সাহিত্য ভুবন’ই কি খুব বিশুদ্ধ? দ্রুত কেরিয়ার বা তারকা খ্যাতির আশায় বাংলা বাক্যগঠন ঠিকভাবে না শেখা কোন তরুণী নিজেকে ব্যবহৃত হতে দিয়ে দ্রুত লাইম লাইট পেয়ে হারিয়ে গেছেন আবার সংসারটাও ভেঙ্গে গেছে- এমন কাহিনী কি একদম ঘটতে দেখিনি? আবার ব্যবহৃত হতে না দিলে খুব শ্লথ বা শম্বুক গতিতে অগ্রসর হবার unnerving লড়াইও আছে কারো কারো। তবে, একটা বিষয় ‘খ্যাতি’ মেয়েদের বড় শত্রু। বিয়ের আগেই- ২৫ হতে না হতে ‘খ্যাতি’ পেলে বিপদ। শত শত অনুরাগী হবে- তবে সঙ্কটে নির্ভরযোগ্য একজন জীবনসঙ্গী পাওয়া কঠিন। আছে সুযোগ-সন্ধানী পুরুষ। খুব সতর্কতার সাথে শীতল দূরত্ব রেখেই তাদের হাত থেকে আত্মরক্ষা প্রয়োজন। সংখ্যালঘুত্ব কি একটি ফ্যাক্টর? কেরিয়ারে উঠতে হলে মেয়েদের আপোষ দরকার? মেজরিটি-মাইনরিটি যাই হোক? ভুল। খুব পরিশ্রম করলে কিছুই বাঁধা নয়। ব্যক্তিগত ভাবে আমার জীবনে আমি এক-আধবার প্রেমে পড়লেও সেই অর্থে কোন খুব বিত্তবান, খ্যাতিমান বা ক্ষমতাশালী কারো প্রেমে পড়িনি। বরং তুলনামূলকভাবে ‘অপ্রতিষ্ঠিত’ কারো কারো প্রেমে পড়েছি একাধিকবার। এতটাই ‘অপ্রতিষ্ঠিত’ তারা যে তাদের ক্ষেত্রে আর সংখ্যাগুরুত্ব বা লঘুত্ব নয়- অপ্রতিষ্ঠাই দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। তবে, বিপদ আছে। সো-কলড ‘অপ্রতিষ্ঠিত’ ছেলে নিজেই একটি মোটামুটি কর্মক্ষম, জনপ্রিয় বা খ্যাতিময়ী মেয়ের সামনে পুরুষ হিসেবে এত হীনন্মন্যতা বোধ করে যে সম্পর্কটি শুরুই হতে পারে না। আবার ‘ক্ষমতাবান’ পুরুষদের ‘খুশি’ করার স্বভাব কোনদিনই আয়ত্ত হয়নি বলে অনেক বৈষম্যও পেয়েছি। তারপরও একদম অযাচিত ভাবে কোন কোন ‘পুরুষ’ কখনো আমার কাজের প্রশংসা করেননি তা’ নয়। বোধ করি একদম কাজের প্রশংসা হিসেবেই সেটা তারা করেছেন। মেয়ে হিসেবে তার কোন ‘গোপণ বিনিময় মূল্য’ চুকাতে হয়েছে? উহুঁ- একদম না। এসব না দিয়ে ‘বিখ্যাত’ হওয়া যায় না? খুব যায়। তবে অনেক বৈষম্য আর দশগুণ বেশি পরিশ্রমের জন্য তৈরি হয়ে থাকেন। ‘বিখ্যাত’ হবার জন্য ‘ক্ষমতাবান’দের তুষ্ট করতেই হবে? করতে হতে পারে। বিখ্যাত হবেনও। তবে দ্রুতই অপু বিশ্বাসের মত হাল হবে। সে হিন্দু-মুসলিম যা হোন না কেন।

তাই বলে অপুকে কেউ ঘৃণা করবেন না দয়া করে। যে ১৫ বছরের বাবা হারা মেয়েকে সংসার চালাতে ঢাকায় এসে ‘সিনেমা’য় নামতে হয়- আরো সে সংখ্যালঘু- তাকে এই প্রতারণা আর দু:খ যেন পেতেই হবে। এটাই ভাগ্য।

বেশ তাড়াহুড়ো করে লেখা।

এবার মেয়েদের জন্য কয়েকটি টিপস:

১. সবসময় নিজের কাজের প্রতি ফোকাসড থাকবেন। কাজ ছাড়া আর কেউ বন্ধু নয়- মাথায় রাখবেন।

২. প্রেম না করলে প্রযোজক/পরিচালক/প্রকাশক/সাহিত্য সম্পাদক সাহায্য করবে না? কম করবে। ১০০-র জায়গায় ১০ পাবেন, তবে কিছু পাবেন।

৩. খ্যাতির জন্য অনেক ছেলেরই অস্বস্তি হতে পারে? আপনি হাজার অনুগত বা বিশ্বস্ত হলেও সবসময় সন্দেহ করে? আপনার থেকে সাধারণ মেয়ের কাছে যেতে চায়? যেতে দিন। তাই বলে পারভীন বাবির মত হতাশ হবেন না। অপু বিশ্বাসও হবার দরকার নেই। কাজকে ভালবাসুন, শরীর ঠিক রাখুন (পরিমিত আহার ও ব্যায়াম- সিনেমার নায়ক বা নায়িকা না হলেও)।

৪. যদি আজীবন সিঙ্গেল থাকতে হয়? থাকবেন। তবু বাজে বা ভুল বিয়ে/ভুল প্রেম করবেন না।

৫. যৌনতার চাহিদা? এইটা ভাই আসলেই বলা কঠিন। কারণ ব্যক্তিত্বভেদে চাহিদা ভিন্ন ভিন্ন হয়। কেউ কেউ যেমন অনেক উত্তাপে ভরপুর, কেউ কেউ জন্মগত ভাবেই শীতল প্রকৃতির। তবে শীতল বা তপ্ত যাই হোন, মেয়ে হিসেবে মানসিক ভাবে যত খুশি কাতর হোন- প্রেমিককে নিয়ে গান বা কবিতা লেখেন, দৈহিক ভাবে নিজেকে সহজলভ্য না করাই ভাল। হাজার হোক আমরা জন্মগত ভাবে পশ্চিমা না। সেই স্মার্টনেসও আমাদের নাই। কাজেই কিছু করার পর গ্লানিবোধে ভোগার থেকে সংযত থাকাই ভাল।

 

Similar Articles

Leave a Reply