You are here
নীড়পাতা > প্রতিবেদন > রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবিরে শরণার্থীদের সঙ্গে কথা বলে কাঁদলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান ও জানিয়েছেন তিনি।

ক্যাম্পে শরণার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন শেখ হাসিনা। রোহিঙ্গাদের কষ্টের কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী আবেগে নারী-শিশুদের জড়িয়ে ধরেন। পরম মমতায় প্রধানমন্ত্রী তাদের বুকে টেনে নেন। আশ্রয় নেওয়া অসহায় রোহিঙ্গা নাগরিকরা তাদের ভাষায় প্রধানমন্ত্রীকে দুঃখ কষ্টের কথা বলেন। একজন দোভাষি পারস্পরিক কথাবার্তায় সহযোগিতা করেন।

তিনি, বলেছেন, ‘স্বজন হারানোর বেদনা আমি বুঝি। ১৯৭৫-এ বাবা-মা হারিয়ে আমাদেরও রিফিউজি হিসেবে বিদেশে থাকতে হয়েছে। ১৯৭১-এ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আমাদের ওপর এভাবেই অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়েছে। পাক হানাদার বাহিনী আমাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছিল, আমাদের দেশের মানুষকেও ভারতে আশয় নিতে হয়েছিল।

শেখ হাসিনা বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর গুলিতে অনেকের মৃত্যু হয়েছে। ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। নাফ নদীতে নারী-শিশুর লাশ পাওয়া যাচ্ছে। এই বর্বর হত্যাকাণ্ড মেনে নেওয়া যায় না।

তিনি বলেন, ঘরবাড়ি হারিয়ে যেসব রোহিঙ্গা এখানে (বাংলাদেশে) এসেছেন, তাঁরা সাময়িক আশ্রয় পাবেন। তাঁদের মিয়ানমারে ফিরে যেতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত রোহিঙ্গাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা যাতে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারেন, সে ব্যাপারে চেষ্টা চলছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে আহ্বান জানাচ্ছি। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে আমাদের যা করার দরকার, আমরা সেটি করব। আমরা শান্তি চাই।’

আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবিরে সংক্ষিপ্ত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

রোহিঙ্গাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানবিক দিক বিবেচনা করে আমরা আপনাদের আশ্রয় দিয়েছি। আমরা আপনাদের পাশে থাকব।’

বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। এর আগে সকাল সোয়া ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজে করে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।

গত ২৪ আগস্ট মিয়ানমারের পুলিশ পোস্ট ও সেনাবাহিনীর একটি ঘাঁটিতে রোহিঙ্গাদের বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) হামলার কথা তুল ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু লোক ঘটনা ঘটাল, তারপর সেখান থেকে তারা চলে গেল, এরপর সেখানে নিরীহ মানুষের ওপর অত্যাচার শুরু হলো। কিছু মানুষ ঘটনা ঘটায়, তারা তো ঘটিয়ে চলে যায় কিন্তু ভুক্তভোগী হয় কারা? শিশু-নারী, একেবারে নিরীহ মানুষ।

মিয়ানমার সরকারের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার সরকারকে বলব তারা যেন নিরীহ মানুষের ওপর কোনোরকম নির্যাতন না করে। নিরীহ মানুষের ওপর নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। যারা প্রকৃত দোষী তাদের খুঁজে বের করুন।

সূত্র: প্রথম আলো, কালের কণ্ঠ

 

 

Similar Articles

Leave a Reply