You are here
নীড়পাতা > প্রতিবেদন > রাজার মহল ছিলনা, তবুও মেয়েটা রাজকন্যা ছিল বাবার

রাজার মহল ছিলনা, তবুও মেয়েটা রাজকন্যা ছিল বাবার

রিংকি সাহা

তারপর? তারপর মেয়েটার জীবন,ডায়েরির পাতা থেকে আটকে গেল দরজায় দরজায়। এইযে একটা সাবান রাখেন, এইযে একটু শ্যাম্পু নেবেন? এই তেলটা বেশ ভাল। সোজা বাংলা ভাষায় হকারি জীবন! মাত্র তিনদিনের মাথায় তার কেবল মনে হতে লাগলো সে একটা ধার করা জীবন গায়ে ঝুলিয়ে বেড়াচ্ছে। এ জীবন তার না!! সকাল বিকাল কেবল অন্য কেউ সেজে থাকার মিথ্যে অভিনয়! দম বন্ধ হয়ে আটকে আসতে লাগলো। অথচ হকারে ভরে আছে সারাটা দেশ। ডাক্তারের চেম্বারের সামনে চায়ের দোকানের পসরা সাজানো। একটা আস্ত শোরুম খোলা যায় এত্তোগুলো মোটরবাইক। রিপ্রেজেন্টিভ! তারাও হকার! অথচ মেয়েটার দম বন্ধ হয়ে আসছে।

আচ্ছা মেয়েটার কি ধৈর্য কম? তার কেবলই মনে হতে লাগলো দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে প্রায়, আর এক চুল ও দাঁড়াবার জায়গা নেই! নাকি মেয়েটা অতৃপ্ত? একটা ব্যার্থ জীবন তার! আলসেমিতে কেটে যাওয়া ২২টা বছর! প্রেম এসেছিলো নীরবে! ক্লাস ফাইভ! তারপর এই সেই হেন তেন করে ঈশ্বর ও কেমন মিলিয়ে দিলো! প্রেম হয়ে গেল তারই সাথে একদম সত্যিকারের! তারপর? ঝড়! টানা ৬বছরের প্রেম এক ঝড়ে কাত করে পড়ে গেল! জীবন থেমে থাকেনি প্রেম এসেছিলো আবার, তবে মেয়েটার কপালের ডানপাশের কাটা দাগটা? যেন ভেতর থেকে ঈশ্বর টেনে দিয়েছিলো! হাহাহা! সে প্রেম ও টেকেনি! ভেঙে গেল এক ঝটকায়!! তারপর? মেয়েটা পড়তে চাইতোনা একদম! অনার্স পরীক্ষার আগের রাতে কাঁদতো ভীষণ। মাকে জড়িয়ে ধরে বলতো, পড়বোনা আর! আদুরে মেয়েটাকে মা বুঝিয়ে সুঝিয়ে পাঠাতো কলেজে!

ধাক্কা আরেকটা! রাজার মহল ছিলনা ঠিকই তবুও মেয়েটা রাজকন্যা ছিল বাবার! ধাক্কাটা এবার রাজমহলে রাজার ওপর! একটা এক্সিডেন্ট মানুষকে অকেজো বানিয়ে দেয় কাগজে কলমে! অফিস থেকে নোটিশ আসে, বয়স তার পেরিয়ে গেছে চাকরির!! রাজা রাজা ছিলই বটে, খায়দায় ঘুমায়, জমানোর নাম নেই এতোটুকুও! পেল একটা সাদাসিধে চাকরি খুব কষ্টে। এ বয়সে রাজাকে চাকরি দেওয়ার মতোন ছিলনা কেউ! মাস গেলে খাওয়া খরচ আর বার বাড়ির খরচ এই চলতো! বিলাসিতা ভুলে গেছিলো রাজা। তবুও তার মেয়ে রাজকন্যা! তারপর? তারপর কোনমতে মেয়েটার অনার্স শেষ হলো। যেই মা বুঝিয়েসুঝিয়ে রাজকন্যাকে স্কুলে পাঠাতো, কলেজে পাঠাতো, সেই মা কেঁদে বললো সেই কাঙ্ক্ষিত কথা। মা রে তুই তো আর পড়তে চাইতিনা এ পর্যন্তই থাকুক। রাজকন্যা বেজায় খুশি! তবুও তিনদিনের মাথায় তার দম বন্ধ হলো! মাস্টার্স মাত্র একটা বছর। শেষ না হলে কপালের দাগের মতোন দাগ রয়ে যাবে আজীবন। অথচ রাজকন্যা চায়না রাজাকে চাপ দিতে! তারপর? তারপর? তারপর মেয়েটার জীবন, ডায়েরির পাতা থেকে আটকে গেল দরজায় দরজায়। এইযে একটা সাবান রাখেন, এইযে একটু শ্যাম্পু নেবেন? এই তেলটা বেশ ভাল। রাজকন্যা হয়ে গেল হকার! শব্দটা কিন্তু খারাপ না। ভাল বেশ ভাল। তবুও রাজকন্যার মন আটকে থাকে ডায়েরির ভাজে, কলমের রঙে!! একটা ব্যার্থ জীবন, ব্যার্থ মেয়ে, ব্যার্থ প্রেমিকা আর ব্যার্থ কর্মী। মেয়েটা খুব বুঝেছে দেয়ালে পিঠ ঠেকেছে জায়গা নেই এক চুল ও!

 

Similar Articles

Leave a Reply