You are here
নীড়পাতা > সংবাদ > বাংলাদেশ > যশোর রোডের শতবর্ষী গাছ কাটায় ছয় মাসের স্থিতাবস্থা

যশোর রোডের শতবর্ষী গাছ কাটায় ছয় মাসের স্থিতাবস্থা

ঐতিহ্যবাহী যশোর রোডের শতবর্ষী গাছ কাটার সিদ্ধান্ত ছয় মাসের জন্য  স্থগিত করে দিয়েছে হাইকোর্ট। আইনজীবীরা বলছেন, একটি রিট আবেদনের প্রেক্ষাপটে গাছ কাটার ওপর আজ বৃহস্পতিবার এ স্থগিতাদেশ দিয়েছে আদালত।

বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে এ আজ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন।পাশাপাশি গাছ কাটার সিদ্ধান্তকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না মর্মে রুল জারি করে সরকারের ব্যাখ্যাও চেয়েছে আদালত।

মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ রিট আবেদনটি করে। আজ শুনানির জন্য তা আদালতে ওঠে। রিটের পক্ষে শুনানি করেন মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মনিরুজ্জামান।

আদেশের পর মনজিল মোরসেদ বলেন, যশোর-বেনাপোল মহাসড়কে শতবর্ষী শতাধিক গাছ রক্ষায় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে রিটটি করা হয়। গাছ কাটার ওপর ৬ মাসের স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। এর ফলে এসব গাছ কাটা যাবে না। রুলে যশোর-বেনাপোল সড়কে অবস্থিত গাছগুলো আইন অনুসারে রক্ষায় বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ৪ লেনে উন্নীত করার ক্ষেত্রে গাছগুলো সংরক্ষণ করে বিকল্প হিসেবে সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তুত করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু বিভাগের সচিব, পরিবেশ সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, সড়ক ও জনপদ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী, যশোরের জেলা প্রশাসক, বেনাপোল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও ওসিসহ বিবাদীদের ২ সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদেশের পর মনজিল মোরসেদ বলেন, যশোর-বেনাপোল মহাসড়কে শতবর্ষী শতাধিক গাছ রক্ষায় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে রিটটি করা হয়। গাছ কাটার ওপর ৬ মাসের স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। এর ফলে এসব গাছ কাটা যাবে না। রুলে যশোর-বেনাপোল সড়কে অবস্থিত গাছগুলো আইন অনুসারে রক্ষায় বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ৪ লেনে উন্নীত করার ক্ষেত্রে গাছগুলো সংরক্ষণ করে বিকল্প হিসেবে সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তুত করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী গাছগুলো এখন যে অবস্থায় আছে সে অবস্থায়ই থাকবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

সড়কটি সম্প্রসারণের জন্য ওই সড়কের দু পাশে থাকা গাছগুলো কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো স্থানীয় প্রশাসন, এর পরই এ নিয়ে শুরু হয় তীব্র প্রতিবাদ।

জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল বলছিলেন জেলা প্রশাসনের ডাকা সভায় সর্বসম্মতভাবেই গাছ কাটার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে গাছ কাটার পর নতুন সড়কের দু পাশে বনায়ন করা হবে।

যশোর রোডের এসব গাছের মধ্যে ১৭৪ বছরের পুরোনো যশোরের তৎকালীন জমিদার কালী পোদ্দারের লাগানো তিন শতাধিক মেঘ শিরীষও রয়েছে। বর্তমানে যশোর রোড মানেই এই সব প্রাচীন বৃক্ষের সমাহার। যশোর রোড নামে পরিচিত সড়কটি কোলকাতা থেকে যশোর পর্যন্ত বিস্তৃত।

পেট্রাপোল থেকে কোলকাতা পর্যন্ত সড়ক চার লেন হয়েছে। তবে সে অংশে জনমতের চাপে ও আদালতের আদেশে গাছগুলো অক্ষত রাখা হয়েছে।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় এ পথেই দেশ ছেড়েছিলো লাখ লাখ শরণার্থী, পরে তারা ফিরেও আসেন এ পথেই।

সূত্র: প্রথম আলো

 

 

Similar Articles

Leave a Reply