You are here
নীড়পাতা > প্রতিবেদন > মুগ্ধ দর্শক, মুগ্ধ শ্রীকান্ত, জয় হোক সংস্কৃতির

মুগ্ধ দর্শক, মুগ্ধ শ্রীকান্ত, জয় হোক সংস্কৃতির

Aditi-sm

সিলেটে বেঙ্গল সংস্কৃতি উৎসবের সপ্তম দিনে মঙ্গলবার তিল ধারণের জায়গা ছিল না। সমবেত হয়েছিলেন ২৫ হাজারের অধিক মানুষ। এত লোকজন এসেছিলেন শুধুমাত্র ভারতের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী শ্রীকান্ত আচার্য্য’র গান শুনবেন বলে। ভক্তদের এমন সাড়া পেয়ে মঞ্চে মঞ্চে উঠেই শ্রীকান্ত বললেন, এর আগে এতো বেশি মানুষের সামনে আমি গান গাইনি। আমি ধন্য, আমি কৃতজ্ঞ।

শ্রীকান্ত যেমন মুগ্ধ হলেন দর্শকদের ভালোবাসায়, তেমনি দর্শকদের সিক্ত করলেন তাঁর গানে, কথায় আর বিনয়ে। সিলেটে শ্রীকান্ত প্রথমবার কোন লাইভ শোতে অংশ নিলেন। তাই দর্শকদের আবেগের মাত্রাও ছিল তীব্র। শুধু অনুষ্ঠানস্থলের ভিতরে নয়, বাইরে ছিল ভক্তদের বিশাল লাইন। স্থান সংকুলান হবে না দেখে শেষ দিকে আবুল মাল আবদুল মুহিত কমপ্লেক্সের মেইন গেইট বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন কর্তৃপক্ষ। তাই ব্যথিত মনে ফিরতে হয় অসংখ্য শ্রীকান্ত ভক্তকে। তাদের আফসোস, আহা এত কাছে এসেও দেখা হল না, শোনা হলনা প্রিয় শিল্পীর গান।

দর্শকদের তুমুল করতালির মাঝে রাত ১০ টার দিকে হাছন রাজা মঞ্চে ওঠেন শ্রীকান্ত। রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর লেখা বিখ্যাত সে গান- ‘আমার ভিতরে বাহিরে অন্তরে অন্তরে’ গানটি দিয়ে পরিবেশনা শুরু করেন। অসাধারণ কারুকার্যময় কণ্ঠে শোনান আধুনিক, রবীন্দ্র সঙ্গীত ও গজল ।

Srikanta 01 Women words

বাংলা ভাষা বিষয়ে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, আমি আপনাদের ঈর্ষা করি। আপনারা সবাই একই ভাষায় কথা বলেন। ভারতে অনেক ভাষা। কলকাতার নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা হয়তো জানেই না, এই বাংলা ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠায় কত মানুষকে প্রাণ দিতে হয়েছে।

দর্শকদের কমসংখ্যকই বসতে পেরেছিলেন, বেশিরভাগই দাঁড়িয়ে উপভোগ করেছেন অনুষ্ঠান। শুধু তাই নয়, শ্রীকান্তের আহ্বানে তাঁর সাথে কণ্ঠ মেলান র্শকরাও।

bengal utsob-7th day-womenwords

একে একে শ্রীকান্ত পরিবেশন করেন বন্ধু তোমার পথের সাথিকে চিনে নিও, আমার এই পথ চাওয়াতেই আনন্দ, আমায় প্রশ্ন করে নীল ধ্রুবতারা (হিন্দী ও বাংলাতে), নিজেকে সে আজ এমনি ভেজাবে বৃষ্টি এলে, এই পথ যদি না শেষ হয়, আমার সারাটা দিন মেঘলা আকাশ, কেন দূরে থাকো, যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, মেয়েটা ছিল শ্যামলা, তোমার জন্য, যখন তুমি এ গান শুনে সহ মনোমুগ্ধকর সব গান।

যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে-এই রবীন্দ্র সঙ্গীতটি যখন শ্রীকান্ত গাইলেন, হাজার হাজার ভক্তরা তখন কন্ঠ মিলালেন, তখন এক ভীন্ন আবহের সৃষ্টি হয়।

শ্রীকান্ত প্রায় প্রতিটি গান শুরুর আগে দর্শকদের সেই গান সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছেন । গানের স্রষ্টার কথা জানিয়েছেন। ধারণা দিয়েছেন গজলের নতুন রূপ সম্পর্কে।

শিল্পীদের তো এমনই হতে হয়। তারা মানেন না দেশ কালের সীমানা। তাইতো শ্রীকান্ত বললেন, আকাশের কোন সীমানা নেই, সীমানা নেই মাটির, সীমানা নেই জলের । কিন্তু কাঁটাতারের বেঁড়া দিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিভেদ তেরি করা হয়েছে।

প্রায় দেড় ঘণ্টা নিজের পরিবেশনা দিয়ে দর্শকদের বিমুগ্ধ করে মঞ্চ থেকে বিদায় নেন তিনি। বাড়ি ফেরার সময় কোন বাহন পাচ্ছিলেন না দর্শকরা। অনেকেই হেঁটে হেঁটে ফিরছিলেন। তবু তাদের মুখে হাসি। এ যেন শিল্পেরই জয়।

 

 

Similar Articles

Leave a Reply