You are here
নীড়পাতা > প্রতিবেদন > মুক্তির অন্বেষণে

মুক্তির অন্বেষণে

অনন্যা হক

ভালবাসি মানুষ কে, ভালবাসতে পারিনা তাদের কিছু প্রবৃত্তি কে। সবার মতই ছিল বন্ধনহীন বল্গা হরিণীর মত একটা মন। এখনও তেমনটিই আছে। আমি এক মুক্ত মনা, স্বাধীন নারী।আজন্ম স্বাধীন।

যদি থাকি নিভৃতে কিবা লোকারণ্যে, যখন যেখানে যে রুপেই থাকি না কেন, মনের লাগাম কি কেউ দিতে পারে? সে তো এক ডানা মেলা পাখি।

বেড়ে  ওঠার পর থেকেই, ছিল শাসনের বেড়াজাল, সমাজের  আবদ্ধ কঠিন বেষ্টনী।বারণ আর বারণ। জানালায়, বাড়ির  আনাচে, ছাদে কিংবা বাইরে, যেখানেই  একটু খোলার ছোঁয়া,  একটু বাতাসের ঘ্রাণ ,সেখানেই রক্ত চক্ষুর বেষ্টনী,  এই বুঝি গেল গোল্লায়!

কোথাও দাঁড়ানো যাবে না, কথা বলা যাবে না, চোখ তুলে তাকানো যাবে না। কেন? তোমরা তো তাকিয়ে গ্রাস করে ফেলছো দুনিয়ার তাবৎ  আলো, হাওয়া,  সৌন্দর্য। চোখের স্বাধীনতা টুকুও থাকতে নেই বুঝি? ছিল  আধুনিকতা,  প্রগতি,  ছিল শিক্ষা, রুচি,  সব নিজেদের বেলায়। ছিল না শুধু মেয়েদের বেলায়।

দেখেছি  বাবা, মা, অভিভাবক সমাজ, বিয়ের পরে শ্বশুর বাড়ি, শাশুড়ির স্বাধীনতা খর্ব করার  অনেক  অনেক রঙ বেরঙের কৌশল। শুধু বাইরে না,  অন্দরমহলেও চলে মনের স্বাধীনতা খর্ব করার বিভিন্ন  অপচেষ্টা।

খর্ব করতে পেরেছে কি? পারেনি। হয়তো চিনতে বা বুঝতে, ভুল করে মানুষ। তখন নিজেকে চেনানোর দায়িত্বটা নিজের  উপর বর্তায় ।

নিজের লাগাম নিজে টেনে যুদ্ধ করাটাই সমীচীন মনে করি আমি।এভাবেই  এত পথ পাড়ি দিয়ে  এসেছি। আজ মনে হয়, পথটা খুব  একটা মসৃণ ছিল না।কত প্রতিকূলতা, প্রতিবন্ধকতা পায়ে পায়ে, মনে পড়ে সব। কিন্তু এভাবে লড়াই করে জিতে যাওয়ার একটা  আনন্দ আছে। মন কে স্বাধীন করার জন্য, প্রতিকূলতাও বোধহয় জরুরী, এতে করে নিজের লাগাম টানার শক্তিটা বেশ জোরালো হয়। এই প্রতিবন্ধকতা বুঝিয়েছে স্বাধীনতার সুখ।

মানুষের কিছু প্রবৃত্তিতে জ্বলে পুড়ে খাক হয়েছি, হতে হয়। তবুও আপন ভেবে মানুষকে ভালবেসে যাই।কিছু প্রবৃত্তি তে, নারীদেরকে জ্বলতে হয় আজন্ম জ্বালায়।

এতদূর হেঁটে এসেও মুক্ত হতে পারে না নারী।মানুষই তাদের নিরাপত্তার প্রধান  অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। ঘরে হোক, বাইরে হোক, শিক্ষা থাক, চাকরি থাক, মানুষের প্রবৃত্তি থেকে মুক্ত হতে পারে না নারী। সেই প্রতিকূলতা আসে পুরুষ থেকে  নারী তে, নারী থেকে নারী তে, সমাজ থেকে নারী তে। এ যেন এক আজন্ম টানাপোড়েন, বৈপরীত্যের রেষারেষির খেলা।

কেন, উত্তর খুঁজে পাই না ।

আমি বলি, উত্তর খুঁজতে যেও না। অর্জন করে নাও, মনের স্বাধীনতা, সন্মান  আর মর্যাদার স্বাধীনতা।

স্বাধীনতা মানে  উচ্ছৃঙ্খলতা নয়। পুরুষের সাথে পাল্লা দেয়া অনর্থক মনে হয়। কেন হতে চাব তাদের মত? তারা কি চায় আমাদের মত হতে?

স্বাধীনতা মানে উচ্ছৃঙ্খলতা কে আকড়ে ধরলে, পিছিয়ে যেতে হবে আরও অনেক পেছনে, উঠে আসার শক্তি থাকে সঠিক জায়গা ধরে রাখা তে।একজন পুরুষ যখন বুঝতে পারবে, উপলব্ধি করতে পারবে, তুমি তার জন্য কত খানি অপরিহার্য, সেই অবস্থান টা তৈরি করতেও একটা জীবন যুদ্ধ লাগে, যা কিনা  অবলীলায় হয় না। যে যুদ্ধে জেতার জন্য লাগে কিছু  আপোষ, কিছু আত্মত্যাগ, কিছু সহমর্মিতা।শুধু মাত্র বৈপরীত্য, রেষারেষির খেলা কোন অর্জনের  হাতিয়ার হতে পারে না।

নারীর সৌন্দর্য, শক্তি  নারী তেই বিদ্যমান। আমার চোখে  এবং অভিজ্ঞতায় নারী  অনেক শক্তিশালী। কিন্তু সে সেই শক্তি কোন প্রেক্ষাপটে কাজে লাগাতে চায়, সেটা  একটা  মূখ্য বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। প্রেক্ষাপট যদি ইতিবাচক হয়, তখন নারীর শক্তি  এক অন্যতম অবদান রাখতে পারে।

নিজের লাগাম অন্য কে টানতে দেয়াটাই অসম্মানের। এখন মেয়েরা অনেক স্বাধীন, শুধু বাইরে যাওয়ার স্বাধীনতাই সব কিছু নয়। মন এবং মর্যাদার স্বাধীনতাই মুখ্য হোক। তুচ্ছ কিছু না হয় ছাড়ই দিলাম!

যুদ্ধ করতে হবে যত না মানুষের সাথে, তার থেকে বেশি  তার প্রবৃত্তির সাথে।শুধু যুদ্ধ দিয়ে জীবন পথ তো কন্টকাকীর্ণ ই হতে থাকবে, সাথে লাগে ধৈর্য, ভালবাসা, মায়া। এসবের ধারণ ক্ষমতায় নারীরাই হয়ে থাকে আধার, যা কিনা বন্ধন তৈরি করতে অসীম শক্তি হিসেবে কাজ করে।

বাইরে থাকে শুধু জীবিকার স্বাধীনতা, মন আর মর্যাদার স্বাধীনতা  অর্জন করতে হয় ঘরে।

নিজের ঘরে নিজেই রানী হয়ে থাক সব নারী।তৈরি কর ঘরে ঘরে শক্ত বন্ধন। চল, শক্ত লড়াইয়ে প্রবৃত্তি কে জয় করি।

মুক্তি বোধহয়  এভাবেই মেলে।

 

Similar Articles

Leave a Reply