You are here
নীড়পাতা > প্রতিবেদন > মানুষের অভ্যন্তর এক্স-রে এর মতো দেখতে পান নাতাশা!

মানুষের অভ্যন্তর এক্স-রে এর মতো দেখতে পান নাতাশা!

তাঁর চোখ জোড়া আর দশজনের মতো একেবারেই সাধারণ দেখতে। কিন্তু এই চোখ জোড়া দিয়ে সে ইচ্ছে করলেই দেখে ফেলতে পারে মানুষের কাপড় ভেদ করে শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, একেবারে হাড় পর্যন্ত! এক্স-রে মেশিনের মতো করে বলে দিতে পারে হাড়ের কোথায় ক্ষয় আছে, ভাঙ্গা আছে ইত্যাতি। সায়েন্স ফিকশন সিনেমার সেই অতিমানবীয় কাজ-কারবার যেন।

নাতাশার বয়স যখন মাত্র ১০ বছর তখন ধরা পড়ে তার এই অদ্ভুত ক্ষমতার বিষয়টি। প্রথমে জানতে পারেন তাঁর মা তাতিয়ানা। ঘটনাটা একটু খুলে বলা যাক-
একদিন নাতাশার মা তাতিয়ানা দাঁড়িয়ে ছিলেন। মা’র দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে নাতাশার হঠাৎ কেমন ঘোর এসে যায়। আর তখন সে খেয়াল করে মায়ের কাপড় ভেদ করে শরীর, শরীর ভেদ করে অভ্যন্তরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে সে। গড় গড় করে মায়ের সমস্ত ইন্টার্নাল অর্গানের বিবরণ দিয়ে দিলো সে!

মায়ের কাছ থেকে একান-ওকান হয়ে খবরটা ছড়াতে সময় লাগল না। প্রতিবেশিদের ভিড় জমল নাতাশাদের বাড়িতে। একসময় সে খবর রাজধানী পর্যন্ত পৌঁছালো। সেটা ২০০৩ সালের কথা। রাশিয়ার সংবাদপত্র ও টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর কল্যাণে হুলুস্থুল বেঁধে গেল। দেশ ছাড়িয়ে এবার পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে যেতে লাগল ‘এক্স-রে গার্ল’ নাতাশার খবর।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেরও নজর পড়ে নাতাশার দিকে। তিনি পাড়ি দেন ব্রিটেন। বিভিন্ন টেলিভিশন শো-এ নিয়ে যাওয়া হয় নাতাশাকে। সকলেই যাচাই করে নিতে চায়, অলৌকিক ক্ষমতা সম্পর্কে নাতাশার দাবি কতটা সত্যি। ক্যামেরার সামনে বার বার পরীক্ষা দিতে হয় তাঁকে। প্রায় সমস্ত পরীক্ষাই নির্বিঘ্নে উৎরে যান তিনি। একটি টেলি-শো-এ গাড়ি দুর্ঘটনায় আহত এক মহিলার দিকে তাকিয়েই নাতাশা বলে দেন মহিলার শরীরের কোন কোন হাড় ভেঙেছে এবং শরীরের ভিতরে কোথায় কোথায় বিঁধে রয়েছে ধাতব পিন।

ব্রিটেন সফর শেষ হওয়ার পরে যুক্তরাষ্ট্রেও যান তিনি। সেখানেও নিজের ক্ষমতার পরীক্ষা দেন নাতাশা।

কিন্তু নাতাশার এই অলৌকিক অদ্ভুত ক্ষমতার ব্যাখ্যা কী? কীভাবে চামড়া-মাংসের আস্তরণ ভেদ করে অন্য মানুষের শরীরের ভিতর দেখতে পান একজন মানুষ? এই প্রশ্নের কোনও সদুত্তর নেই বিজ্ঞানীদের কাছেও। বিজ্ঞানীরাও তাঁকে পরীক্ষা করে তাঁর শরীরে আর পাঁচটা মানুষের চেয়ে অতিরিক্ত ক্ষমতার কোনও লক্ষণ পাননি।

ব্রিটেন-সফরের সময়ে টেলি-ফিজিশিয়ান ক্রিস স্টিলের দিকে তাকিয়ে নাতাশা বলেছিলেন, ক্রিসের কিডনিতে পাথর জমেছে, এবং তাঁর বর্ধিত লিভারের সমস্যা রয়েছে। পরে ডাক্তারি পরীক্ষায় জানা যায়, ক্রিস সম্পূর্ণ সুস্থ। আমেরিকায় করা নাতাশার কিছু ডায়েগনোসিসও পরবর্তী কালে ভুল বলে প্রমাণিত হয়। ফলে অনেকেই ধরে নেন, নাতাশা যা কিছু বলছেন, তার সবটাই ভাঁওতাবাজি। নাতাশা অবশ্য দাবি করেন, তাঁর যে সমস্ত ডায়গনোসিস ভুল বলে মনে করা হচ্ছে, সেগুলির ক্ষেত্রে তিনি রোগীকে পর্যবেক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাননি।

নাতাশা বর্তমানে মস্কোর স্টেট স্টেমাটোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে চিকিৎসা বিষয়ে অধ্যয়নরত। এ সমস্ত বিতর্ক তার খ্যাতিতে কলঙ্কের দাগ বসাতে পারেনি। তিনি মস্কোয়, ‘সেন্টার অফ স্পেশাল ডায়গোনিস্টিকস অফ নাতালিয়া ডেমনিকা’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন। সেখানে তিনি এবং তাঁর মতো অন্যান্য অলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষদের দ্বারা রোগীদের পরীক্ষা ও চিকিৎসার বন্দোবস্ত করা হয়। সেই চিকিৎসা কেন্দ্রের উপর কিন্তু যথেষ্ট আস্থা রয়েছে সাধারণ মানুষের। প্রতি দিন বহু মানুষ নাতাশার দ্বারস্থ হচ্ছেন, শরীরের আভ্যন্তরীণ অবস্থা নির্ভুল ভাবে জানার জন্য। এক্স-রে গার্লও সাধ্যমতো রোগীদের সুস্থ করে তোলার জন্যে দিনরাত পরিশ্রম করে চলেছেন।

সূত্র : আমাদের সময়

Similar Articles

Leave a Reply