You are here
নীড়পাতা > প্রতিবেদন > ব্রিটেনের সর্বকনিষ্ঠ কাউন্সিলর সিলেটের শরিফা

ব্রিটেনের সর্বকনিষ্ঠ কাউন্সিলর সিলেটের শরিফা

নর্থ-ইস্ট ইংল্যান্ডে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত সিলেটি তরুণী শরিফা রহমান। তার বয়স মাত্র ১৮ বছর। গত বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত ডার্লিংটন কাউন্সিলের উপ-নির্বাচনে তিনি নির্বাচিত হন। ব্রিটেনের রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হিসেবে শরিফা সর্ব কনিষ্ঠ নির্বাচিত প্রতিনিধি।

লেবার পার্টির প্রার্থী হিসেবে ৪৪ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়ে স্থানীয় রেডহল এবং লিংফিলড ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত হন শরিফা। ডার্লিংটন তথা নর্থ ইস্ট ইংল্যান্ডের ইতিহাসের কনিষ্ঠ কাউন্সিলর হয়েছেন শরিফা।শরিফার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী টোরি পার্টির জোনাথন ডালস্টন। অপর প্রতিদ্বন্দ্বীরা হলেন, লিবারেল ডেমোক্র্যাটস দলের হ্যারি লংমুর (১১ ভোট), গ্রীন পার্টির মাইকেল ম্যাকটিমনি (২০ ভোট) এবং প্রাক্তন ইউকিপ কর্মী স্বতন্ত্র প্রার্থী কেভিন ব্রা পেয়েছেন (৪৬ ভোট)। গত অক্টোবর মাসে বারা কাউন্সিলের রেডহল এবং লিংফিল্ড ওয়ার্ডের কাউন্সিলার হ্যাজেলডিন স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করলে আসনটি শুন্য হয়।নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর শরিফাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন স্থানীয় এমপি জেনি চাপম্যান ও এন্ড্রু গাইন। অন্যদিকে, নিউক্যাসেলের সিটি কাউন্সিলের বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত কাউন্সিলার দিপু আহাদ বলেন “শুধু বাংলাদেশী কিংবা মুসলিম নারী হিসেবে নয়, অত্র এলাকায় প্রথমবারের মত একজন তরুনী হিসেবে কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়াটা সকলের জন্য গর্বের ব্যাপার’’।  এই তরুন বয়সে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার মূল কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে শরিফা বলেন, অতীত অভিজ্ঞতা ও সংগ্রামের গল্পগুলোই তাঁকে রাজনীতিতে নিয়ে আসে।

বিভিন্ন দেশে সংগঠিত সন্ত্রাসী হামলার প্রভাবে সমগ্র ইউরোপ জুড়ে মুসলিম কমিউনিটির উপর বর্ণবাদী হামলা বেড়ে যায়। নর্থ ইষ্ট ইংল্যান্ডের ডার্লিংটন শহরে হিজাব পরিহিত নারীরা তখন মুসলিম বিদ্বেষী বর্ণবাদী হামলার শিকার হন।  শরিফা এবং তার পরিবারের সদস্যরা বর্ণবাদী হামলার শিকার হন। এসব ঘটনা খুব কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করেন শরিফা। তখন থেকেই সমাজে বিদ্যমান নানা বৈষম্যের প্রতিবাদে রুখে দাড়ানোর দৃঢ় প্রত্যয় ব্যাক্ত করেন তিনি। কলেজ পড়ৃয়া শরিফার বয়স তখন মাত্র ১৬ এবং কুইন এলিজাবেথ সিথ ফর্ম কলেজের “এ’’ লেভেলের ছাত্রী ।  তার পছন্দের বিষয় ছিল আইন, রাজনীতি ও ভুগোল । কলেজ শেষ করেই শরিফা যোগ দেন লেবার পার্টিতে। সাথে কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে বর্ণবাদ বিরোধী ক্যাম্পেইনে চালাতে গড়ে তোলেন একটি ইয়ুথ একশন গ্রুপ, প্রথম বারের মত ডালিংটনে চালু করেন বর্ণবাদ বিরোধী সংগঠন “স্টেন্ড আপ টু রেসিজম’’ এর স্থানীয় শাখা। বর্ণবাদ বিরোধী মিটিং, মিছিল ও প্রতিবাদে যোগ দিতে চষে বেড়িয়েছেন লন্ডন, নিউক্যাসেল সহ পুরো ইংল্যান্ড। লেবার পার্টির সদস্য হওয়ার সুবাদে একান্ত সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন, কথা বলেছেন, জেরেমী করবিন কিংবা ডায়ানা অ্যাবোট দের মত শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের সাথে।

দীর্ঘদিন যাবত ডার্লো ইয়াং লেবার গ্রুপের সেক্রেটারি হিসেব দায়িত্ব পালন করে আসছেন শরিফা। বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনে অসামান্য ভূমিকা রাখার জন্য ২০১৬ সালে ডার্লিংটন শহরের সম্মানসুচক পদক অনুষ্ঠনে শরিফা রহমান কে “ইয়াং সিটিজেন অব দ্য ইয়ার’’ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। অ্যাওয়ার্ড প্রদানের সময় শরিফাকে একজন ব্যাতিক্রর্মী  ইয়াং উইমেন এবং কমিউনিটি এক্টিভিস্ট হিসেবে উল্লেখ করা হয় ।

স্থানীয় এমপি জেনি চ্যাপম্যানের সহযোগিতায় ডার্লিংটনে শরিফা সম্প্রতি চালু করেছেন একটি পিস ক্যাম্পেইন। যার মূল লক্ষ্য হচ্ছে, কমিউনিটির মধ্যে সুসম্পর্ক সৃষ্টি করা এবং বর্ণবাদের কুফল সম্পর্কে জনসচেনতা সৃষ্টি করা। স্থানীয় বিবিসি এবং পুলিশ বিভাগ এ কার্যক্রমে নিয়মিত সহায়তা করে যাচ্ছে।

কয়েক মাস আগে প্রকাশিত “এ’’ লেভেল পরীক্ষার ফলাফলে ঈর্ষনীয় সাফলতা পেয়েছে শরিফা। কুইন এলিজাবে কলেজের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যায়, ইউনিভার্সিটি অব নিউক্যাসেল এ পলিটি বিষয়ে গ্রাজুয়েশন কোর্স শুরু করতে যাচ্ছেন শরিফা। এ লেভেল পাশ করার পর গ্যাপ ইয়ারে  সামাজিক ও  রাজনৈতিক কার্যক্রমে যখন যুক্ত ছিলেন তখনই কাউন্সিলার প্রার্থী হওয়ার সুযোগটি আসে।  উল্লেখ্য, শরিফার জন্ম ও বেড়ে ওঠা নর্থ ইষ্টের ডার্লিংটন শহরে। বাবা লোকমান খানের দেশের বাড়ী সিলেটের  সুনামগঞ্জ জেলার বরমরা গ্রামে। ৭ ভাই বোনের মধ্যে শরিফা  সবার ছোট।

কাউন্সিলার পদে বিজয়ী হওয়ার অনুভূতি জানাতে গিয়ে শরিফা বলেন, “আমার নিজের শহরের জন্য কাজ করার সুযোগ পেয়ে আমি গর্বিত। আমার জন্য এটা খুবই আনন্দের বিষয় যে, যেখানে আমি বেড়ে উঠেছি সেখানকার মানুষের জন্য কিছু করা’’। তিনি আরও বলেন, “আমাদের সমাজে রয়েছে চরম বৈষম্য এবং এর কুফল ভোগ করছে সাধারণ মানুষ। আমি বিশ্বাস করি আমাদের সমাজে পরিবর্তন দরকার। সবার কর্তব্য হল বৈষম্য রোধে একসাথে কাজ করে যাওয়া। মধ্যবিত্ত ও খেটে খাওয়া পরিবারে বেড়ে উঠায় আমি গর্ব বোধ করি। সবার মাঝে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারব বলে  আমি আশাবাদী ’’

 

Similar Articles

Leave a Reply