You are here
নীড়পাতা > সংবাদ > আন্তর্জাতিক > বেতনবৈষম্যের প্রতিবাদে পদত্যাগ করলেন বিবিসি চীন সম্পাদক

বেতনবৈষম্যের প্রতিবাদে পদত্যাগ করলেন বিবিসি চীন সম্পাদক

পুরুষ সহকর্মীর তুলনায় বেতন কম পাওয়ার অভিযোগ করেছেন বিবিসি চীন সম্পাদক ক্যারি গ্রাসিয়া।  বেতনবৈষম্যের প্রতিবাদে পদত্যাগ করেছেন তিনি।

পদত্যাগের পর নিজ ব্লগে পোস্ট করা এক খোলা চিঠিতে তিনি কারণ হিসেবে পুরুষ সহকর্মীদের তুলনায় বেতন কম পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। ৩০ বছর ধরে বিবিসিতে কর্মরত ক্যারি প্রতিষ্ঠানটিতে ‘গোপন ও অনৈতিক বেতন সংস্কৃতি’ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন। তাঁর পদত্যাগের তথ্য অন্যান্য গণমাধ্যমের পাশাপাশি বিবিসিও প্রচার করে। তবে বিবিসি দাবি করেছে, এই ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনায় নারীর প্রতি কোনো বৈষম্য দেখানো হয়নি।

আজ সোমবার দুপুরে বিবিসি অনলাইনের খবরে বলা হয়, খোলা চিঠিতে ক্যারি লিখেছেন, বছরে দেড় লাখ পাউন্ডের (প্রায় ১ কোটি ৬৮ লাখ ৭৩ হাজার টাকা) বেশি বেতন পাওয়া কর্মীদের তথ্য প্রকাশ হওয়ার পর বিবিসি এখন ‘আস্থার সংকট’-এ ভুগছে।

চীন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ক্যারি গ্রাসিয়া জানান, গত সপ্তাহে তিনি বিবিসি চীনের সম্পাদক পদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন। তবে তিনি এখনো বিবিসির সঙ্গে আছেন। টিভির নিউজরুমে তিনি তাঁর আগের পদে ফিরে যেতে পারেন। সেখানে তাঁর বেতন-সমতা থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

ক্যারি গ্রাসিয়া বলেন, ‘আমি মনে করি, এটা যে সমতা আইন লঙ্ঘন করছে এবং ন্যায্য ও স্বচ্ছ বেতন কাঠামোর ক্ষেত্রে চাপ সৃষ্টি করছে, তা জানার অধিকার আছে।’

গত জুলাই মাসে বিবিসি প্রতিষ্ঠানে বছরে দেড় লাখ পাউন্ডের বেশি বেতন পান—এমন কর্মীদের তথ্য প্রকাশ করতে বাধ্য হয়।

ক্যারি জানান, ওই তথ্য প্রকাশ পাওয়ার পর তিনি দেখতে পান, আন্তর্জাতিক চার সম্পাদকের মধ্যে দুজন পুরুষ সম্পাদক দুজন নারী সম্পাদকের চেয়ে ৫০ শতাংশের বেশি বেতন পান। বিবিসি যুক্তরাষ্ট্র সম্পাদক জন সোপেলের বেতন বছরে দুই থেকে আড়াই লাখ পাউন্ডের (আনুমানিক ২ কোটি ২৫ লাখ থেকে ২ কোটি ৮১ লাখ টাকা) মধ্যে। আর বিবিসি মধ্যপ্রাচ্য সম্পাদক জেরেমি বোয়েনের বেতন দেড় থেকে দুই লাখ পাউন্ডের মধ্যে।

প্রকাশিত এই তালিকায় ক্যারি গ্রাসিয়ার নাম নেই। এর মানে দাঁড়ায়, তিনি দেড় লাখ পাউন্ডের চেয়ে কম বেতন পান।

চারজন আন্তর্জাতিক সম্পাদককে সমান পরিমাণ বেতন দেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সমতা আইন ২০১০ অনুসারে, সমান কাজের জন্য নারী-পুরুষ সমপরিমাণ অর্থ পাবেন। আমি অনেক ভালো বেতন পাই। এরপরও আমি চাই, বিবিসি আইন মেনে চলুক এবং নারী-পুরুষের সমতার বিষয়টিকে মূল্যায়ন করুক।’

ক্যারি গ্রাসিয়ার পদত্যাগের খবর প্রচার হওয়ার পর তাঁকে সাধুবাদ জানিয়ে অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করেছেন।

এদিকে বিবিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ন্যায্য বেতন বিবিসির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নারী-পুরুষের বেতনের ক্ষেত্রে বিবিসি অন্য প্রতিষ্ঠানের চেয়ে অনেক ভালো করছে। এই ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনায় নারীর প্রতি কোনো বৈষম্য দেখানো হয়নি।

সূত্র: প্রথম আলো

 

 

Similar Articles

Leave a Reply