You are here
নীড়পাতা > প্রতিবেদন > বিয়ানীবাজারে দুই বোন ধর্ষণ মামলায় ৫ জনের যাবজ্জীবন

বিয়ানীবাজারে দুই বোন ধর্ষণ মামলায় ৫ জনের যাবজ্জীবন

সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলায় দুই বোন ধর্ষণ মামলায় পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ এবং একজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত। দণ্ডপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রোববার দুপুরে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালত এবং বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক জুলফিকার হায়াত এ রায় ঘোষণা করেন।

যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন, বিয়ানীবাজার উপজেলার জালালপুর গ্রামের মৃত মখদ্দছ আলীর ছেলে জয়নুল ইসলাম, একই এলাকার আবদুল বাছিত, হাসান আহমদ হাসনু, পূর্ব পইলগ্রামের কালাম আহমদ এবং কানাইঘাটের বড়দেশ গ্রামের মৃত সুন্দর আলীর ছেলে সেলিম আহমদ। এছাড়া খায়রুল ইসলাম নামের অপর এক আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়। রায়ে সাজাপ্রাপ্ত প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা দুই ভিকটিমকে দেওয়ার আদেশ দেন আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে হাসান আহমদ হাসনু পলাতক। বাকিরা কারাগারে রয়েছেন।

এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) ফখরুল ইসলাম।

এদিকে, রায় ঘোষণার পর নিজের প্রতিক্রিয়ায় নির্যাতিতা দুই মেয়ের বাবা বলেন, ‘আমরা রায়ে সন্তুষ্ট।’ ওই ঘটনায় দুই মেয়ের জীবনই ধ্বংস হয়ে গেছে মন্তব্য করে তিনি দুই মেয়ের ভবিষ্যত নিরাপত্তার জন্য তাদের চাকরির ব্যবস্থা করে দিতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান।

রায়ে নিজেদের অসন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন আসামি পক্ষের আইনজীবী আয়েশা বেগম শেলী। তিনি বলেন, আমরা ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন করেছিলাম। কিন্তু সেটি উচ্চ আদালতের নির্দেশে করা হয়নি। ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়াই এ রায় দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে রায় নিরপেক্ষ হয়নি বলে আমি মনে করছি। আমরা উচ্চ আদালতে যাবো।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৫ মে ভোররাতে উপজেলার চারখাই ইউনিয়নের হাজরাপাড়ায় নিজ বাড়িতে ধর্ষণের শিকার হন দুই বোন। বাড়ির সিঁধ কেটে ছয়জনের দুর্বৃত্ত দল ঘরে প্রবেশ করে অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে। পরে বাবা-মাকে বেঁধে তাদের সদ্য এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ দুই মেয়েকে ধর্ষণ করে। ধর্ষকরা চলে যাওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের আর্ত-চিৎকারে লোকজন জড়ো হয়ে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ নির্যাতিতাদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করে।

ঘটনাটি তখন দেশব্যাপি আলোচিত হয়। এ ঘটনায় পরদিন ধর্ষিতাদের বাবা বাদি হয়ে বিয়ানীবাজার থানায় মামলা দায়ের (জিআর ১০৩/১৪) করেন। ওই বছরের ১২ অক্টোবর বিয়ানীবাজার থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ ৬ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

 

 

 

Similar Articles

Leave a Reply