You are here
নীড়পাতা > সংবাদ > আন্তর্জাতিক > বাগানে লুকিয়ে প্রাণ বাঁচান তামাওকি

বাগানে লুকিয়ে প্রাণ বাঁচান তামাওকি

ঢাকার হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে হামলার ঘটনায় একমাত্র বেঁচে ফেরা জাপানি নাগরিক হলেন তামাওকি ওয়াতানাবে (৪৬)।তিনি জাপানি পুলিশকে জানিয়েছেন, রেস্টুরেন্টটির বাগানের এক ঝোপে লুকিয়ে হামলাকারীদের হাত থেকে পেয়েছিলেন তিনি। তদন্তকারীদের বরাত দিয়ে খবরটি নিশ্চিত করেছে জাপান টাইমস।
জাপানি সংবাদমাধ্যম জাপান টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, গুলশান হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন তামাওকি। বর্তমানে টোকিওর এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন তিনি। ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন তামাওকি। তিনি জানিয়েছেন, হলি অর্টিজানে গোলাগুলি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি ওই ক্যাফে থেকে বের হয়ে আসেন এবং বাগানের ঝোপে এসে আশ্রয় নেন। ১২ ঘণ্টা ওই বাগানে লুকিয়ে ছিলেন তামাওকি।

জাপানি পুলিশকে দেয়া প্রথম সাক্ষাৎকারে তামাওকি নিশ্চিত করেন, তার সঙ্গে আরও ৭ জাপানি নাগরিক ছিলেন। আর জঙ্গিবিরোধী অপারেশন শেষে তাদের কেউ ভবন থেকে বের হয়ে আসেননি। পরে জানতে পারেন, তার ৭সঙ্গীকে মাথায় ও শরীরে গুলি করে ও পরে গলা কেটে হত্যা করে জঙ্গিরা। জাপান টাইমস আরও জানিয়েছে, পুলিশের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টার কথোপকথনের সময় শান্ত ছিলেন তামাওকি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় যে ১৩ জন গুলশানের অভিযান শেষে বের হয়ে এসেছিলেন, তামাওকি হলেন তাদের মধ্যে একজন।

জাপানের সংবাদমাধ্যম জাপান টাইমস জানায়, গুলশানের ওই রেস্টুরেন্টে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত জাপানিদের মরদেহ গত ৭ জুলাই নিজ দেশে পৌঁছায়। তামাওকিও অন্য একটি বিমানে করে দেশে পৌঁছান। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তাকে স্ট্রেচারে করে টোকিওর একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
মরদেহবাহী বিমানটি জাপানে অবতরণের পর সাদা কাপড়ে ঢাকা কফিনগুলো নামিয়ে আনা হয়। এর পর কার্গো ট্রলিতে কফিনগুলো সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা, বাংলাদেশের রাষ্ট্রদুত রাবাব ফাতিমা এবং অন্য কর্মকর্তারা সেখানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

সাংবাদিকদের পরে ফুমিও কিশিদা বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদের জঘন্য কর্মকাণ্ড মূল্যবান জীবন কেড়ে নিয়েছে। আমি আবারও এ ঘটনায় গভীরভাবে বেদনাবোধ করছি এবং ধিক্কার জানাচ্ছি।’

উল্লেখ্য, ১ জুলাই রাত সাড়ে ৯টার দিকে হলি আর্টিজানে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। রেস্টুরেন্টটিতে কমান্ডো অভিযান চালানো হয় শনিবার সকালে। অভিযানের পর ২০ জন দেশী বিদেশী জিম্মির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ৭ জন ছিলেন জাপানি। নিহত জাপানিরা সকলেই ঢাকায় জাপান সরকারের সহায়তা প্রকল্পের (জাইকা) পরামর্শক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাদের বয়স ২৭ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে।

সূত্র: জাপান টাইমস

 

Similar Articles

Leave a Reply