You are here
নীড়পাতা > প্রতিবেদন > ‘বাঁধ ভেঙ্গে দাও’

‘বাঁধ ভেঙ্গে দাও’

কাবেরী দাশ

অনুষ্ঠানের পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রশংসার বারিধারা বর্ষিত হয়ে চলেছে।দেশবিদেশ বিভিন্ন জায়গা থেকে কতশত ফোন পাচ্ছি। সবার একটাই কথা, অনুষ্ঠান চমৎকার হয়েছে, অসাধারণ হয়েছে। নানা উপমা আর নানা বিশেষণে বিশেষায়িত করছেন। অনুষ্ঠান কতটুকু সফল হলো তা আপনারা বলবেন, শুধু বলবো অনুষ্ঠানের সব সফলতা আপনাদের আর ব্যর্থতা সঙ্গীত পরিষদের।

‘বাঁধ ভেঙ্গে দাও’- রবি ঠাকুরকে কেন্দ্র করে আর সংগীত পরিষদ এর প্রতিষ্ঠাতা সংগীত সাধক পন্ডিত রামকানাই দাশকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের এই অনুষ্ঠানের জন্য আমাদের খুব একটা সময় ছিল না। তাছাড়া যে ৬ টি রাগে খেয়াল এবং রবীন্দ্র সংগীত নির্বাচন করা হয়েছিল সেগুলোও খুব একটা সহজ ছিলনা, বিশেষ করে প্রবাসে জন্ম নেয়া ও বেড়ে ওঠা ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের জন্য। এত স্বল্প সময়ে আয়ত্তে আনা যদিও বেশ কঠিন ছিল কিন্ত আমাদেরকে অবাক করে দিয়ে ওরা সব মুখস্থ করে ফেলল। আর সবকিছুই সহজ হয়েছে, আমার শেখানোর পর তাদের বাবা-মা বাডী়তে সেগুলো কে মুখস্থ করিয়েছেন, শ্রম দিয়েছেন এবং সময়মত সবগুলো রিহার্সেলে নিয়ে এসেছেন।যার ফলে প্রায় নিখুঁত একটি অনুষ্ঠান উপহার দেয়া সম্ভব হয়েছে।

‘বাঁধ ভেঙ্গে দাও’ কারো একক প্রচেষ্টায় হয়নি। এটা ছিল সকলের সম্মিলিত আন্তরিক প্রচেষ্টার বহিঃপ্রকাশ মাত্র।যা আমার একার পক্ষে সম্ভব হত না।এর জন্য সবার আগেই কৃতজ্ঞতা জানাবো দর্শকদের প্রতি। এই কনকনে ঠাণ্ডা উপেক্ষা করে নিউইয়র্ক ছাড়াও উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন স্টেট থেকে সম্মানিত দর্শকবৃন্দ এসেছিলেন আমাদের অনুষ্ঠানের জন্য। হল ভর্তি দর্শকের উপস্থিতি দেখে আনন্দে মনটা ভরে গিয়েছিল।

ফারুক ফয়সাল এবং ফাতেমা সাহাব রুমা’র চমৎকার সঞ্চালনা অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তুলেছিল।

প্রবীন সংগীত গবেষক শ্রদ্ধেয় মুত্তালিব বিশ্বাসের অমূল্য বক্তব্য সংগীত পরিষদের জন্য পাথেয় হয়ে থাকবে।

অনুষ্ঠানে একক পরিবেশনার ব্যাপারে সবাই একবাক্যে উচ্ছসিত প্রশংসা করেছেন। বিশেষ করে রাগ সংগীতে সেতারে অতিথি শিল্পী বিশিষ্ঠ সেতার বাদক মোর্শেদ খান অপু ও খেয়াল পরিবেশনে প্রতিভাময়ী পারমিতা মুমুর ক্রিয়েটিভ পরিবেশনা অনুষ্ঠানে যে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছিল সেটা নির্দ্বিধায় বলতে পারি। ভায়োলিন বাদনে অত্যন্ত প্রতিশ্রুতিশীল শ্রুতিকনার অনবদ্য পরিবেশনা ছিল মনোমুগ্ধকর ।

বাউল গানে শাহ মাহবুব ছিল অত্যন্ত পরিশীলিত ও অনবদ্য। নৃত্যে প্রীমা সিংহ তার প্রতিভার সাক্ষর রেখেছে। রবীন্দ্র সংগীতে নন্দিনী পোদ্দার ও খ্রিস্টিনা লিপি রেজারিও’র পরিবেশনা ছিল প্রাণবন্ত। দর্শক মহলের মুহুর্মুহু করতালি সেটাই প্রমাণ করে।

যন্ত্রসংগীতে তবলায় মীর নাকিবুল ইসলাম এর চমৎকার সংগত সবাই উপভোগ করেছেন। কীবোর্ডে মাসুদ রহমান এবং মন্দিরায় শহীদ উদ্দীন চমৎকার পারদর্শিতা দেখিয়েছেন।

কুইন্স কাউন্সিল অন দ্যা আর্ট। যাদের পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এই অনুষ্ঠান করা অনেক কঠিন ছিল। সঙ্গীত পরিষদ নিউইয়র্ক তাদের এই অবদানের কথা মনে রাখবে।

প্রবাসের স্বনামধন্য বাংলা পত্রিকা ‘সাপ্তাহিক বাঙ্গালী’ অনুষ্ঠানের একমাত্র মিডিয়া পার্টনার। বিজ্ঞাপন দিয়ে অনুষ্ঠানের প্রচার ও প্রসারের গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রেখেছে। সংগীত পরিষদ এর পক্ষ থেকে সাপ্তাহিক বাঙালীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ।

আমরা পর্দার সামনে যাদের দেখি, তাদের প্রশংসাই সব সময় করতে চাই।
পর্দার অন্তরালে অনেকই থাকেন যারা নিভৃতে কাজ করে যান। যাদেরকে স্মরণ করতে ভুলে যাই। অথচ তাদের অবদান কোন অংশেই কম নয়। তবে আমরা ভুলিনি।শিরিন রহমান তেমনই একজন । তাকে আমি আখ্যা দিয়েছি সংগীত পরিষদ এর মা। কারন মায়েরা শুধু করে যান কোন কিছু পাওয়ার আশা না করেই, তাই ধন্যবাদ দিলে মায়ের রাগ হবারই কথা। তার একজন বাধ্য বাহক ফকির রহমান সাহেবেকে তিনি বাহনের কাজে লাগিয়েছেন, বাহক সাহেবের জন্য ধন্যবাদ।

নিরঞ্জন দাস। নিভৃতচারী এই ভদ্রলোকটি নীরবে কাজ করে গেছেন।যাঁর সাপোর্ট সবসময় সাহস যোগায়। ধন্যবাদ দিলে তিনি রাগ করেন, এমনিতেই সেদিন আমরা অনেক রাগরাগিনী করেছি, তাই ধন্যবাদ দিয়ে তাকে আর রাগাতে চাইনা।

সংগীত পরিষদের ইন্দ্রজিৎ সিংহ এবং জয়তুর্য চৌধুরী স্ব উদ্যোগে অনুষ্ঠানের দিন সকাল থেকে শেষ পর্যন্ত, নিরলসভাবে সব কাজ সুচারুরুপে গুছিয়ে দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।তাদেরকে আমার প্রানঢালা শুভেচ্ছা ।

এ আর এ রিয়েলিটি, সেপ্পাস কর্পোরেশন, মোহাম্মদ আলী বাবুল, রোজ গার্ডেন ট্র্যাভেল, সাবিনা আখতার, শামীমা আখতার, সুলতানা রহমান, ইকবাল লিটন এবং সংগীত পরিষদ এর আরো একজন সুহূদ অনুষ্ঠানে আর্থিক সহযোগিতা করেছেন। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।

অনুষ্ঠান পরিকল্পনার শুরু থেকে মিনহাজ আহমেদ সাথে ছিলেন, চমৎকার স্মরনিকা প্রকাশে এবং অনুষ্ঠানের শুরু থেকে শেষ অবধি ধৈর্য্যসহকারে ভিডিও ধারণ করেছেন, তার প্রতি কৃতজ্ঞতা।

কিরন টিভির পক্ষ থেকে সরাসরি সম্প্রচারে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শকবৃন্দ আমাদের অনুষ্ঠান দেখেছেন তার জন্য সাংবাদিক আকবর হায়দার কিরন এবং আলোকচিত্রের জন্য বিশিষ্ঠ আলেকচিত্রী নেহের সিদ্দিকী কে ধন্যবাদ।

চমৎকার ব্যানারের জন্য সুত্রা এডভার্টাইজ কে ধন্যবাদ।বি ডি সাউন্ড কে বিশেষভাবে ধন্যবাদ তাদের চমৎকার সাউন্ড এর জন্য ।

TBN24, Channel I, প্রথম আলো কে ধন্যবাদ আমাদের অনুষ্ঠানের সংবাদ প্রচার করার জন্য।

শুরুতেই বলেছিলাম অনুষ্ঠানের সফলতা সকলের সম্মিলিত প্রয়াসেই সম্ভব হয়েছে। আপনারা যদি এমন সহযোগিতাপূর্ণ মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে না আসতেন তাহলে ফলাফল এমন হতো না । যাঁদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে আবার ভুলবশত অনেকের হয়ত উল্লেখ হয়নি অথচ অবদান রেখেছেন, আপনারদের সবার কাছে অবনত মস্তকে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। আপনাদের কাছ থেকে সবসময় এমন সহযোগিতা পাবো সেই প্রত্যাশা করতেই পারি। গঠনমূলক সমালোচনা করে সঙ্গীত পরিষদকে আরো সুদৃঢ় করতে অবদান রাখবেন, যাতে শুদ্ধ সংগীত ও বাংলা সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে সহজ করে তুলে ধরতে পারি। সবাই ভাল থাকবেন।

পরিশেষে রবিঠাকুরের ভাষায়…
ওগো তুমি নিরুপম,
হে ঐশ্বর্য্যবান,
তোমারে যা দিয়েছিনু সে তোমারি দান;
গ্রহন করেছ যত,
ঋণী তত করেছ আমায়।

লেখক: প্রেসিডেন্ট, সঙ্গীত পরিষদ, নিউইয়র্ক

অনুষ্ঠানের ২টি ভিডিও দেখতে ক্লিক করুন

ভৈরবী তারানা :
https://youtu.be/3In5QjpkCRI

রবীন্দ্র সংগীত
https://youtu.be/7MkXI7jBFtc

 

 

 

Similar Articles

Leave a Reply