You are here
নীড়পাতা > সংবাদ > বাংলাদেশ > বদরুলের দ্রুত ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সিলেটে বিক্ষোভ

বদরুলের দ্রুত ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সিলেটে বিক্ষোভ

Your ads will be inserted here by

Easy Plugin for AdSense.

Please go to the plugin admin page to
Paste your ad code OR
Suppress this ad slot.

কলেজছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিসের হত্যাচেষ্টাকারী বদরুল আলমের দ্রুত বিচার ও ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ পালন করছেন সিলেটবাসী। এই দাবিতে প্রতিদিনই নগরীর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ, মিছিল আর স্লোগান চলছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেন। এ সময় জিন্দাবাজার-আম্বরখানা সড়ক অবরোধ করেন তারা। কলেজটির শতাধিক শিক্ষার্থী বেলা ১১টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে জড়ো হয়। পরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) সৈয়দ মোহাম্মদ আমিনুর রহমানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেন তারা।

স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবি জানিয়েছেন। এগুলো হচ্ছে অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে মামলাটি দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো, খাদিজার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা, খাদিজার পরিবারকে আর্থিক সাহায্য করা এবং ছাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া।

এরপর ছাত্রীরা বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিছিল করে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে যান। সেখানে চৌহাট্টা-জিন্দাবাজার সড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন করেন তারা। এ সময় সড়কের দুই পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আধা ঘণ্টা পর শিক্ষকদের অনুরোধে কর্মসূচি স্থগিত করেন ছাত্রীরা।

খাদিজা ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির মুখপাত্র কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী ফজিলাতুন্নেসা প্রথম আলোকে বলেন, ‘শিক্ষকদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি তৈরি করে আমরা কোনো কর্মসূচি করব না। তবে প্রতিদিনই আমাদের কর্মসূচি থাকবে। সিদ্ধান্ত নিয়ে পরবর্তী কর্মসূচি জানিয়ে দেওয়া হবে।’

সাবেক শিক্ষার্থীদের পক্ষে এডভোকেট শিরিন আক্তার বলেন, “পাশবিক এই ঘটনার দ্রুত বিচার করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে”।

এদিকে, সকাল থেকে খাদিজার ওপর হামলাকারী বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বিভিন্ন সংগঠন। সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে সিলেট সরকারি মহিলা কলেজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, জৈন্তিয়া ছিন্নমূল সংস্থা, এশিয়া ছিন্নমূল মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশন, ন্যাশনালিস্ট অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট ফোরাম ও সিলেট ফ্রেন্ডস ক্লাব।

সিলেট সরকারী মহিলা কলেজের স্নাতক (পাস) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী খাদিজা সোমবার পরীক্ষা দিতে এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়েছিলেন। বিকেলে পরীক্ষা দিয়ে বেরিয়ে আসার সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক ও অর্থনীতি বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র বদরুল আলম। পরে অন্য শিক্ষার্থীরা তাকে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন। বদরুলের বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতকে।

খাদিজা ও বদরুলকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। সোমবার রাতে খাদিজার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

বদরুলের হামলায় গুরুতর আহত খাদিজা বর্তমানে স্কয়ার হসপিটালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। মেয়ের এ সংবাদ পাওয়ার পর থেকেই বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন মা মনোয়ারা বেগম। তার আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে বাড়ি। গ্রামের শত শত নারী-পুরুষ সান্ত্বনা দিতে ছুটে আসছেন সেখানে।

খাদিজা হত্যাকান্ডের ঘটনায় গতকাল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন আসামী বদরুল।

 

 

Similar Articles

Leave a Reply