You are here
নীড়পাতা > সাম্প্রতিক > পাইলট হওয়ার দ্বারপ্রান্তে ঐশ্বরিয়া, কন্ডাক্টর বাবার গর্ব

পাইলট হওয়ার দ্বারপ্রান্তে ঐশ্বরিয়া, কন্ডাক্টর বাবার গর্ব

Your ads will be inserted here by

Easy Plugin for AdSense.

Please go to the plugin admin page to
Paste your ad code OR
Suppress this ad slot.

গুজরাট স্টেট রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশনের যাত্রীবাহী বাসের একজন কন্ডাক্টর গানপাত প্যাটেল। দিনশেষে সামান্যই আয় করেন। যাত্রীদের নানা অভিযোগ শুনে, বাজে আচরণ দেখে গলদঘর্ম হয়েই দিন কাটে তার। বাসের ভেতরটাই যেন দুনিয়া। এর বাইরে তাকানোর সুযোগ কোথায়? কিন্তু দিনবদলের পালা এসেছে তার জীবনে। তিনি এখন আকাশের দিকে তাকাবেন। ওই আকাশ দিয়েই বিশাল এক বিমান উড়িয়ে নিয়ে যাবে তার প্রাণপ্রিয় কন্যা! 

তাঁর মেয়ে ঐশ্বরিয়া প্যাটেলের বয়স সবে ১৯। আর কয়েক মাস বাদেই বিমান চালানোর হাতেখড়ি সম্পন্ন করবেন। সামান্য এক বাস কনডাক্টরের মেয়ে হতে চলেছেন গর্বিত নারী পাইলট। ঐশ্বরিয়া ইতিমধ্যে ভারতে সিপিএল এর ২০০ ঘণ্টা বিমান ওড়ানোর কোর্সের ১৮৫ ঘণ্টা সফলভাবে পার করেছেন। আগামী দুই বছরের মধ্যেই এয়ারলাইন ট্রান্সপোর্টেশন পাইলট লাইসেন্স (এটিপিএল) পেয়ে যাবেন।  

ভারতের সংস্কার ভারতি স্কুল থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পাস করেছেন তিনি। বিজ্ঞান বিভাগে ৭০ শতাংশ নম্বর পেয়েছিলেন। দারুণ মেধাবী।  

ঐশ্বরিয়া বলেন, আমি বিমান চালানোর স্বপ্ন দেখতাম। কিন্তু আমার পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা মোটেও ভালো নয়। তাই কাজটা অনেক কঠিন ছিল। কিন্তু স্বপ্নটার যত্ন নিয়েছি।  

গানপাত প্যাটেল থাকেন জাহাঙ্গিরপুরাতে। পাইলট হওয়ার জন্য তার মেয়ের জন্য দরকার ছিল ২৫ লাখ রুপি। এ অর্থ জোগান দেওয়ার সাধ্য তার নেই। কিন্তু মেয়ের স্বপ্ন নষ্ট হোক চাননি তিনি। বাপ-মেয়ে মিলে জেলা নিয়ামক অফিস এবং রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন করে ২৫ লাখর রুপি ঋণের ব্যবস্থা করেন। সুদ দিতে হবে মাত্র ৪ শতাংশ হারে।  

প্র্যাকটিক্যাল ফ্লাইং ট্রেনিংয়ের ১৮৫ ঘণ্টার পরীক্ষায় উতরে গেছেন ঐশ্বরিয়া। শিরপুর ও মহারাষ্ট্রে ট্রেনিং নিয়েছেন। বাকি ১৫ ঘণ্টার ট্রেনিং নেবেন হাইদারাবাদে।  

‘আমি কোনো পরীক্ষাতে ব্যর্থ হতে চাই না। একবার ব্যর্থ হলেই আমি আর এগোতে পারবো না। আমাদের সে সাধ্য নেই। যদি আপনার ইচ্ছাশক্তি থাকে, তাহলে যেকোনো কিছু পূরণ করা সম্ভব। একদিন আমি একটি বিশাল কমার্শিয়াল এয়ারক্রাফটের কমান্ডার হব। এটাই আমার স্বপ্ন,’ জানালেন হার না মানা ঐশ্বরিয়া।
সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া, কালের কন্ঠ

 

Similar Articles

Leave a Reply