You are here
নীড়পাতা > প্রতিবেদন > পরকীয়া-স্বকীয়া কোনটাই নারী-পুরুষ সম্পর্কের অনিবার্য পরিণতি নয়

পরকীয়া-স্বকীয়া কোনটাই নারী-পুরুষ সম্পর্কের অনিবার্য পরিণতি নয়

Your ads will be inserted here by

Easy Plugin for AdSense.

Please go to the plugin admin page to
Paste your ad code OR
Suppress this ad slot.

প্রীতি ওয়ারেছা

কয়েকদিন ধরে ফেসবুকে বসে বসে পরকীয়া বিষয়ক সার্কাস দেখলাম, চলমান যদিও। অতি লেবু কচলানিতে মনে হচ্ছে নারীর সার্বিক অধিকার আদায়ের আন্দোলন এখন গিয়ে পরকীয়ায় ঠেকেছে। প্রতিনিয়ত প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে এভাবে- নারীবাদীরা কী তবে উগ্র যৌনতায় বিশ্বাসি! প্রায় বছরখানেক আগের একটি পরকীয়া বিষয়ক লেখা সম্প্রতি এসে নিউজফিড কাঁপাচ্ছে। সেই লেখাকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন মুগ্ধ পাঠক ও সতীর্থরা পরকীয়াকে মহান দাবী করে সেটাকে প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগে সামিল হচ্ছেন, অন্যদিকে একের পর এক সমালোচনার হাতুরিপেটাও চলছে।

লেখার একজায়গায় নারীকে গর্ব করে বলতে বলা হয়েছে- পরকীয়া না, বল স্বকীয়া করি! আচ্ছা ধরে নিলাম কোন নারীর কাছে পরকীয়া অনৈতিক নয়। ঠিক একই কাজ সেই নারীর স্বামী করলে সেই প্রতিক্রিয়াও নিশ্চিত সমান্তরালই হবে, তাইতো! তিনি স্বামীর মহান পরকীয়াকে সম্মান দিতে স্বামীর বর্তমান নারীকে নিশ্চয়ই বলবেন- এসোগো সতীন বসো ঘরে! সতীনকে ঘরে তুলতে, মতবাদ অনুযায়ী হবু সতীনকে আদর আপ্যায়নে নিশ্চয়ই কোন বাধা থাকবে না!

নারীকে পরকীয়া বিষয়ক ছবক দেয়ার আগে আমাদের দেশের প্রেক্ষিত বিবেচনা করা উচিত ছিল। নারী পরকীয়া করবে, সংসারকে লাত্থি মেরে বেরিয়ে আসবে সেই প্ল্যাটফর্ম কি তৈরি? দেশের নব্বইভাগ নারী যেখানে তাদের স্বামীর ভরণপোষণে চলে সেখানে পরকীয়ার সাময়িক মোহে পড়ে সংসার থেকে বেরিয়ে আসা একজন আর্থিক সঙ্গতিহীন নারীর জীবনে মহান পরকীয়া কতখানি স্বাধীনতার সুখ এনে দেবে? একজন নারীর আর্থিক স্বাবলম্বিতার দৃশ্যপট বিবেচনা, সামাজিকভাবে অসম্মানিত হবার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা, সর্বোপরি পরকীয়ার ভিকটিম দুই দুটো পরিবার এবং পরিবারের সাথে জড়িত শিশুদের সীমাহীন অসহায়ত্বের কথা কোনভাবেই পরকীয়ার নব্য মতবাদ প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখা সেই লেখায় উঠে আসেনি। পরকীয়া বিষয়টি নারী ও পুরুষের জন্যে তুমুল অসম্মানজনক একটি সম্পর্কের নাম। এটাকে স্বকীয়া বলে বৈধতা দেয়ার তীব্র বিপক্ষে আমি।

একজন মানুষের সাথে বৈবাহিক চুক্তিবদ্ধ থাকা অবস্থায়, এক ছাদের নিচে বসবাস করার পরেও বিভিন্নকারণে কখনো সখনো আরেকজনকে ভালো লাগতেই পারে। তেমন কোন সম্পর্কে কখনো জড়িয়ে পড়লে পূর্বের সম্পর্ককে ইতি ঘটানো উচিত। যে পুরুষটির সাথে ঐচ্ছিক কিংবা অনৈচ্ছিকভাবে একসময় একত্রবাসের চুক্তি করেছিলেন, সেই পুরুষেরই ঘাড়ে বসে পরকীয়া না করে বিচ্ছেদের মাধ্যমে তাকে ন্যুনতম সম্মানটুকু অন্তত দিন। এই পন্থায় আপনার বর্তমান পুরুষটিও সম্মানিত হবে।

পরকীয়া-স্বকীয়া কোনটাই নারী-পুরুষ সম্পর্কের অনিবার্য পরিণতি না। চলার পথে একেক মানুষ আপনার জীবনে একেকভাবে আবির্ভূত হতে পারে। একসময় আপনার মনে হতেই পারে ঐ মানুষটির সাথে আপনার মাইন্ড শেয়ারিংয়ের জায়গাটা দারুণ! পারস্পরিক সম্পর্ক শুধুমাত্র শরীরই ইঙ্গিত করেনা, কখনো কখনো মনকে নির্ভার করে, মানসিক প্রশান্তি দেয়। সম্পর্কের অনেক ধরণ থাকে আমরা সেটা ভুলে যাই। অযথা বিতর্ককে উস্কে দিয়ে ফোকাস করা হয় পরকীয়াকে কিভাবে স্বকীয়াতে রুপান্তরিত করা যায়! আমাদের ভুলে যাওয়া উচিত না প্রতিটা সম্পর্কেরই দায়বদ্ধতা আছে। উগ্র প্রগতিশীলতা উগ্র ধর্মান্ধতার চেয়ে কোন অংশে কম নয়। দুটোরই প্রধান ভিকটিম নারী ও শিশু।

 

Similar Articles

Leave a Reply