You are here
নীড়পাতা > প্রতিবেদন > নারী এখানে ওখানে

নারী এখানে ওখানে

রোমেনা লেইস

বিশ্বে যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর,অর্ধেক তার করিয়াছে নারী,অর্ধেক তার নর’। এই দিবসটি উদযাপনের পেছনে রয়েছে নারী শ্রমিকের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের ইতিহাস। ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে মজুরিবৈষম্য, কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করা, কাজের অমানবিক পরিবেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের রাস্তায় নেমেছিলেন সুতা কারখানার নারী শ্রমিকেরা। সেই মিছিলে চলে সরকার বাহিনীর দমন-পীড়ন। ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে নিউইয়র্কের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়োজিত নারী সমাবেশে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন হলো। ক্লারা ছিলেন জার্মান রাজনীতিবিদ।জার্মান কমিউনিস্ট পার্টির স্থপতিদের একজন। পরবর্তীতে জাতিসংঘেও সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে নারীর জীবন সংগ্রাম, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক সচেতনতার বিষয়টি খুব জোরালো সমর্থণ পেয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ৮ই মার্চ ‘বিশ্ব নারী দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

নারীদের এই বিজয় মিছিলে বাংলাদেশের নাম আছে সবার উপরে। আমাদের দেশে গ্রাম থেকে শুরু করে দেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামো পর্যন্ত নারী পেয়েছে সর্বময় ক্ষমতা। গত ২২ বছর ধরে পালা করে দেশ শাসন করছেন দুই নারী, তাঁদের একজন যখন প্রধানমন্ত্রীত্ব করেন, অপরজন করেন বিরোধী দলের নেতৃত্ব। পোশাক শিল্পের উত্থানের পেছনে নারী শ্রমিকদের অবদান, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশকে প্রতিযোগিতায় শক্ত অবস্থান এনে দিয়েছে, গ্রামের সরল, সহজ গৃহবধূটি যখন ব্যাংক ঋণ নিয়ে হাঁস-মুরগীর খামার, মৎস খামার গড়ে তোলেন, নিজের সংসারের আয়-বৃদ্ধিতে প্রত্যক্ষ অবদান রাখেন, সময়মত ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করে ঋণদাতাদের আস্থা অর্জন করেন, এর প্রতিটি সাফল্য সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের চাকাকে গতিময় করে তোলে।

আমাদের বাংলাদেশের ইতিহাসে বেগম রোকেয়া আছেন, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার আছেন, আছেন কবি সুফিয়া কামাল, আছেন শহীদ জননী জাহানারা ইমাম। এমন সব কৃতী নারীর সন্তান আমরা সবাই, তাই আমাদের পূর্বসূরীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে বাংলাদেশেও ‘বিশ্বনারী দিবস’ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়ে থাকে।

২০০৯ সালে আমেরিকায় পাড়ি জমিয়ে প্রথম যে অফিসে যাই সেটা ছিলো সোশ্যাল সিক্যুরিটির অফিস। সেখানেও দেখলাম অফিসের বেশিরভাগ কর্মীই নারী।পরদিন গেলাম বোর্ড অব এডুকেশনের ব্রুকলিন অফিসে। সেখানেও দেখলাম নারী অফিসার। তারপর গেলাম ডাক্তারের অফিসে সেখানেও রিসিপশনিস্ট থেকে নার্স সবাই নারী। ইমুনাইজেশন সেন্টারে সকলেই নারী। পুরুষ কোন কর্মচারী ছাড়াই এসব অফিস চলছে।সর্বত্রই নারীদের জয় জয়কার। ডাক্তারের অফিসে কাজ করলাম কিছুদিন ফ্রন্ট ডেস্কে।অফিসের শাটার খোলা থেকে বন্ধ করা পর্যন্ত সব করতাম আমরাই মানে মেয়েরাই। রাতের শিফটের কাজ করতে রাতেরবেলা বাসে ট্রেনে করে কাজে যাচ্ছে,কাজের শেষে মধ্যরাতে ফিরছে কোন ভয়ডর নাই।বাস ট্রেনের ড্রাইভার ও নারী।অথচ বাংলাদেশের কথা ভাবলেই গা ছমছম করে।তবে আমাদের দেশের মেয়েরাও এখন অনেক সাহসী। আজ বিশ্ব নারী দিবসের প্রাক্কালে ভাবতে ভাল লাগে অদূরভবিষ্যতে আমাদের মেয়েরাও সাহসের সাথে সব কাজ করবে।তাদের চলাচলের পরিবেশ হবে নিরাপদ। পুরুষ কাজে বন্ধু হবে। কাজের পরিবেশ হবে অনুকূল । রাস্তাঘাটসহ সর্বত্র নারীর চলাচল হবে নির্বিঘ্ন ।পুরুষের পাশাপাশি নারী এগিয়ে যাবে দেশও এগিয়ে যাবে।

Similar Articles

Leave a Reply