একটি গবেষনায় উঠে এসেছে যে পুরুষদের তুলনায় নারীদের জন্য ঘুম বেশি দরকারি। রাত্রে পর্যাপ্ত পরিমান ঘুম হলে তা মহিলাদের মস্তিষ্কের কর্ম ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। অপরদিকে স্বল্প সময়ের দিবা নিদ্রা বা তন্দ্রাচ্ছন্নতা থেকে উপকার পেয়ে থাকেন পুরুষরা।

মানুষের বুদ্ধিদীপ্ততার উপরে ঘুমের প্রভাব বিবেচনা করার জন্য মিউনিখের ম্যাক্স প্লাঙ্ক ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা ১৬০ জন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তির ঘুমের ধরণ নিয়ে বিশ্লেষন করেন। কোপেনেহেগেনের ফোরাম অব নিউরোসাইন্সে এই গবেষণা কর্মটি তুলে ধরা হয়।

ডেইলি মেইলের খবরে প্রকাশ পেয়েছে, বিশেষজ্ঞরা এই গ্রুপের সকলের ঘুমের ধরন পর্যবেক্ষণ করেন, বিশেষ করে তাদের উপর বুদ্ধিবৃত্তিক পরীক্ষা চালিয়ে তাদের যুক্তিবোধ ও সমস্যা সমধানের দক্ষতার পরিমান নির্ধারণ করেন।

অধ্যাপক মার্টিন ড্রেসলার বলেন, “মানুষের বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে বিভিন্ন অবস্থার প্রভাব রয়েছে, যার মধ্যে ঘুম একটি। পুরুষ ও নারীর উপর এই বিশদ অধ্যায়ন, আমাদেরকে পরের ধাপের গবেষনার ক্ষেত্রে আরও যথার্থ অবকাঠামো দান করবে। আমাদের পরবর্তী গবেষণার বিষয় হল ব্যক্তিগত বা স্বতন্ত্র ঘুমের ধরনগুলো নিয়ে।”

চলতি বছরের শুরুতে Loughborough University এর ঘুম গবেষণাকেন্দ্রের গবেষকরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, পুরুষের তুলনায় নারীদের ২০ মিনিট বেশি ঘুম প্রয়োজন। কারণ নারীর মস্তিষ্ক তুলনামূলক বেশি কাজ করে এবং তাই তার বিশ্রামের প্রয়োজনও বেশি।

২১০ জন মধ্য বয়সী নারী এবং পুরুষের মাঝে গবেষণাটি করা হয়েছিল ।

স্টাডিটির লেখক এবং গবেষক জিম হর্ণ বলেন, “ঘুমের একটি জরুরি কাজ মস্তিষ্ককে পুনরায় উজ্জ্বিবিত করা। গভীর ঘুমের সময় মস্তিষ্কের কর্টেক্স যা কিনা স্মৃতি, ভাষা এবং আরও অনেক কিছুর দায়িত্বে রয়েছে, তা আপনাকে সকল অনুভূতি থেকে বিরত রাখে এবং রিকভারি মুডে চলে যায়।”

জিম হর্ণ বলেন, “যার মস্তিষ্ক যত বেশি জটিল কাজ করে, তার ঘুম বশি প্রয়োজন। আপনার মস্তিষ্ক দিনে যত কাজ করবে তত তার রিকভার করার প্রয়োজন হবে এবং তার জন্যই তাকে ঘুমাতে হবে”।

গবেষক জিম বলেন,“নারীরা বিভিন্ন ধরনের কাজ করেন। একই সাথে তাদের অনেকগুলো কাজ করতে হয়। তাই প্রকৃতপক্ষে তারা  পুরুষের তুলনায় বেশি মস্তিষ্কের ব্যবহার করে থাকেন। তাই তাদের ঘুমের চাহিদাও বেশী।”

তবে তিনি এটাও বলেন, “যেসব পুরুষ জটিল কাজ করেন, একই সময় একাধিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন ও চিন্তা করেন, তাদের ক্ষেত্রে ঘুমের চাহিদাও বেশী হবে। তাই কিছু পুরুষ যারা গড়ে বেশী কাজ করেন, তাদেরও অন্য পুরুষদের তুলনায় বেশী ঘুমের দরকার হবে।”

ইন্ডিপেন্ডেন্ট থেকে অনুবাদ করেছেন অদিতি দাস

 

Similar Articles

Leave a Reply