You are here
নীড়পাতা > প্রতিবেদন > ধর্ষণ কমাতে ট্যাবু নিয়েও আলোচনা জরুরী

ধর্ষণ কমাতে ট্যাবু নিয়েও আলোচনা জরুরী

আশিকুর রহমান

শুধুমাত্র শাস্তিবিধানই ধর্ষণ সমস্যার কোন সমাধান আনবেনা। খুনের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, তাতে কি খুন বন্ধ আছে? অ্যাসিড সন্ত্রাস কমে যাওয়ার কারণ তার মূলে হাত দেওয়া। অ্যাসিড আমদানি এবং বিক্রির উপরে কঠোর নিয়ন্ত্রন আরোপ। হাজার শাস্তির ব্যবস্থা করলেও ধর্ষণ বন্ধ হবে না যতক্ষন না মানুষের মানসিকতা পরিবর্তন হচ্ছে।

আমাদের সমাজে সেক্স এডুকেশন বলে কোনওকিছুর অস্তিত্ব নাই। সমাজে, সংস্কৃতিতে, সাহিত্যে একটা মেয়ে বা নারীকে ভোগের বস্তু হিসেবেই উপস্থাপন করা হয়। একটা ছেলে আর একটা মেয়ে পরস্পরের সাথে রাস্তায় দাঁড়িয়ে কথা বললেই সেটা সমাজের চোখে দৃষ্টিকটু। একটা বয়সে কৌতুহল থাকা স্বাভাবিক। এবং সমাজের ভ্রুকুটির কারণে কৌতুহল নিবারণের একমাত্র উপায় হচ্ছে সাইবার ক্যাফেতে পর্ণ সাইট বা ইঁচড়ে পাকা বন্ধুর সাথে আড্ডা। সেখানে একটা মেয়েকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়, বয়ঃসন্ধিতে একটা ছেলের (বা মেয়ের) মানসিকতা সেভাবেই গড়ে উঠছে। সে সেটাকেই স্বাভাবিক ভাবছে।

আমি এমনও দেখেছি অনেক পরিবারে ছেলেমেয়ের প্রেম দেখলে বটি নিয়ে তাড়া করবে কিন্তু মাত্র কথা শিখেছে এমন বাচ্চাকে নিয়ে টিভির সামনে বসে হিন্দি সিনেমার আইটেম সং দেখছে। সেই বাচ্চাটার কাছে কোন জিনিসটা স্বাভাবিক মনে হবে?

অনেক ধর্ষণের ঘটনায়ই দেখবেন প্রতিপক্ষকে শাস্তি বা প্রতিহিংসা চরিথার্থ করার জন্য করা হচ্ছে। এর কারণ ধর্ষণকে ভিক্টিম এবং ভিক্টিমের পরিবারের জন্য একটা শাস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে কিন্তু অপরাধীর সামাজিক অবস্থানের কোনও পরিবর্তন হচ্ছে না।

আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু ট্যাবু ব্যাপার হচ্ছে গণিকালয়/রেডলাইট এরিয়া/বেশ্যাপাড়া – যেই নামেই ডাকেন না কেন, সেটা। সমাজের একটা অংশের চাহিদা সবসময়ই পূরণ করেছে এই গণিকারা। সমাজে চাহিদা আছে বলেই তাদের অস্তিত্ব আছে। সেটাকে নিয়ন্ত্রন ও নীতিমালার মধ্যে না এনে ধর্মের নামে একের পর এক উচ্ছেদ চালানো হয়েছে (যদিও আইনত এটা অবৈধ না)। ফলাফল চাহিদা ঠিকই আছে, যোগান নেই। যারা এই জায়গার খদ্দের তারা এখন কোথায় যায় বলে ধারণা? তাইতো এখন বেশি বেশি দেখা যায় ট্রাকে, বাসে, টেম্পুতে ধর্ষণের ঘটনা।

শুধু আইন চাই আর বিচার চাই বলে আন্দোলন করলে লাভ কিছু হবে না। আইন-বিচার চাই অবশ্যই। সেটা শর্ট টার্ম সলিউশন। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে একটা সুস্থ সমাজের প্রয়োজনে এই সব রিলেটেড বিষয় নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা করতে হবে। ট্যাবু ভেঙে এই ব্যাপারগুলো সামনে আনতে হবে। নাহলে হয়তো দু’একটা ট্রাইব্যুনাল হবে, দ্রুত বিচার হয়ে কিছু শাস্তি হবে কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে লাভ কিছু হবে বলে মনে হয় না।

Similar Articles

Leave a Reply