You are here
নীড়পাতা > সাম্প্রতিক > ধর্ষণকারীদের ধরতে পুনরায় ভারতে মার্কিন তরুণী

ধর্ষণকারীদের ধরতে পুনরায় ভারতে মার্কিন তরুণী

ভারতের রাজধানী দিল্লির এক পাঁচ তারকা  হোটেলে পর্যটক গাইড ও দুই হোটেল কর্মচারীসহ পাঁচ ব্যক্তির দ্বারা ধর্ষণের শিকার মার্কিন তরুণী ভারতে ফিরে এসেছেন। ধর্ষকদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় সোপর্দ করাই তার মূল উদ্দেশ্য।

ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই তরুণী বলেন, দিল্লি পুলিশ যেভাবে মামলার তদন্ত করছে, বিষয়টিতে আমি খুশি না।

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, ভারতে পর্যটকদের ধর্ষণের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য একটি কঠিন আইন করা উচিত।’

মার্কিন ওই তরুণী আরও বলেন, ভারতে ধর্ষণের ঘটনা বেশি ঘটে এবং বিষয়টিরর প্রতিবিধান জরুরী।   

তিনি আরও বলেন, নারীর নিরাপত্তা একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং তাঁর সাথে যে ঘটনা ঘটেছে, এটাকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই।.

ধর্ষণের ঘটনা প্রসঙ্গে বলার সময় তিনি ওই পর্যটক গাইড ও দুই হোটেল কর্মচারীর নাম উল্লেখ করেন।

‘দোষীদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের আরও বেশি কিছু করা প্রয়োজন’, উল্লেখ করে ওই নারী বলেন, তিনি কখনই আর ভারতে একা ভ্রমণ করতে আসবেন না।   

ধর্ষণকারীরা দুইদিন ধরে তাঁকে ধর্ষণ করেন বলে সাক্ষাৎকারে জানান তিনি।

এ বছরের এপ্রিলে ২৫ বছর বয়সী ওই নারী পর্যটক ভিসায় ভারতে এসে দিল্লির কন্নাট প্লেসের কাছাকাছি এক পাঁচ তারকা হোটেলে ওঠেন। হোটেল কর্তৃপক্ষের পরামর্শ অনুসারে এক এজেন্সির মাধ্যমে তিনি একজন পর্যটক গাইডকে ভাড়া করেন। ওই গাইড তাঁকে শহর ঘুরে দেখান। একদিন তিনি যখন হোটেল কক্ষে ছিলেন, ওই গাইড তাঁকে ঘোরাঘুরির পরবর্তী পরিকল্পনা ঠিক করার প্রস্তাব দেন এবং চার বন্ধুকে নিয়ে হোটেলে আসেন। পরে ওই পাঁচজন তাঁর কক্ষে আসেন এবং তাঁরা একসঙ্গে কিছুটা ড্রিংক করেন। একপর্যায়ে ওই গাইড ও তাঁর চার বন্ধু মিলে তাঁকে ধর্ষণ করেন। তাঁদের মধ্যে দুইজন উক্ত হোটেলের কর্মী, একজন ছিলেন পর্যটক গাইডের সহকারী ও গাইডের ভাই।   

দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ায় গত ৩ ডিসেম্বরের প্রতিবেদনে প্রকাশ পায়, গাইডসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে দিল্লি পুলিশকে ই-মেইল করেছেন তিনি।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই ঘটনার পর তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত ভারত ছেড়ে নিজ বাড়ি যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়াতে ফিরে আসেন। এ ঘটনার ব্যাপারে তাঁর পরিবারকেও কিছু জানাননি। প্রচণ্ড হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। পরে তিনি বিষয়টি তাঁর এক আইনজীবী বন্ধুকে জানান। ওই বন্ধু তাঁকে ভারত-বিষয়ক এক বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন। ওই প্রতিষ্ঠান তাঁকে পুলিশ কমিশনারের কাছে ই-মেইলে অভিযোগ করার পরামর্শ দেয়। পরে কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে তিনি এক স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভারতে তার লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

এদিকে ঘটনার তদন্তে ও দোষীদের ধরতে ওই ফাইভ স্টার হোটেল কর্তৃপক্ষ ও পর্যটক গাইড সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কোনো দায় নিতে চায়নি। তারা শুধু তাদের ব্যবসায়িক ইমেজ রক্ষায় ব্যস্ত ছিল বলে অভিযোগ করেন ওই তরুণী।

দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় যথাযথ সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ১১ জনকে আটক ও জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনাও ঘটেছে। এ বছর কেবল দিল্লিতেই ১৯০০ বেশি ধর্ষণ অভিযোগ জমা পড়েছে।

 

 

Similar Articles

Leave a Reply