You are here
নীড়পাতা > প্রতিবেদন > ধর্ষক চিনবেন কি করে?

ধর্ষক চিনবেন কি করে?

পৃথিবীর সব মেয়েদেরই ছোটবেলা থেকেই মায়ের কাছ থেকে শুনতে হয় কিছু পরামর্শ। যেমন রেখে-ঢেকে চলা বা ছোট কাপড় না পরা ইত্যাদি। কারণ, মা জানেন, মেয়েদের এভাবে চললে অনেক বিপদ হতে পারে। মায়েরা মেয়েদেরওক সাবধান করে দেন যে, অচেনা মানুষের সঙ্গে বেশি কথা বলতে নেই। কিংবা তাদের কাছে যেতে নেই। তাই ছোটকাল থেকেই নিজের বিষয়ে বেশ সাবধানী হয়ে ওঠে মেয়ে।

কিন্তু তারপরও সে কখনো নৃশংস লালসার শিকার হয়, তখন দোষটা কার? মেয়েটিকে কি দোষ দেবেন? সে কেন তার পিছু নেওয়া মানুষটিকে সন্দেহ করেনি? কিংবা ধর্ষকদের কেন আগে থেকেই চিনতে পারনি?

এমনটা কি কখনো সম্ভব যে ধর্ষকদের দেখেই চিনে ফেলা যায়। কোনো পুরুষকে দেখলেই বোঝা যায় সে ধর্ষক? একটা মানুষ মানসিক বিকারগ্রস্ত লোক বা ধর্ষক কিনা তা কিছু লক্ষণে প্রকাশ পায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব মানুষ অন্যান্য সাধারণ মানুষের সঙ্গে অনায়াসে মিশে যেতে পারে। কিন্তু তারা মনের দিক থেকে অন্য সবার থেকে আলাদা। এরা সাধারণের মতোই থাকে। তাই বিশেষভাবে আলদা করা যায় না। একটা ধর্ষক ধরা পড়ার পর তাকে আর দশ জনের থেকে আলাদা করতে পারবেন না। যেকোনো শ্রেণি-পেশার মানুষ এমন হতে পারে। একটা বাড়ির দাড়োয়ান থেকে শুরু করে অফিসের উচ্চশিক্ষিত বড় কর্মকর্তাও ধর্ষক হতে পারেন।

ভারতের রারিতন বে মেডিক্যাল সেন্টারের ইন্টারনাল মেডিসিন রেসিডেন্সি বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রোগ্রাম ডিরেক্টর ড. শুভেন্দু সেন জানান, অধিকাংশ ধর্ষকের সোশ্যাল এবং যৌন সংক্রান্ত পারসোনালিটি ডিসঅর্ডার রয়েছে। শিশু ও যৌন নির্যাতনকারীরা মানসিক সমস্যায় ভোগেন, যা তাদের অসুস্থ বানিয়ে ফেলে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এমন বিকৃত রুচির শুরুটা শিশুকাল থেকেই গড়ে উঠতে থাকে। ওষুধ, বিহেভিয়োরাল কাউন্সেলিং, মানসিক চিকিৎসা এবং থেরাপির মাধ্যমে তাদের মনটাকে সুস্থ করা যায় নিয়ন্ত্রণ হারানোর আগেই।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখানো হয়েছে ধর্ষকদের বিশেষ কিছু আচরণগত বৈশিষ্ট্যের কথা। এক গবেষণায় বলা হয়, যৌন নিপীড়কদের মাঝে আগ্রাসন, পরোক্ষ বৈরীতা, আক্রমণের মানসিকতা, নেতিবাচকতা এবং হুমকিমূলক কথাবার্তার বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। আরেক গবেষণায় বলা হয়, ধর্ষকরা সিজয়েড, বিকৃত যৌনাচার এবং মারমুখী স্বভাবের হয়ে থাকেন। ধর্ষকদের এমন কাজ করতে অ্যালকোহল বা মাদকের প্রভাব দরকার পড়ে না। তাদের মানসিকতা এসব করার জন্য প্রস্তুত থাকে।

এক তত্ত্বে বলা হয়, যে পুরুষরা নারীদের ওপর কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চান তারাই ধর্ষণে ইচ্ছুক হন। এ কাজের মাধ্যমে তারা জানান দিতে চান, নারীরা তার অধীনের এক পুতুল ছাড়া আর কিছুই নয়। এসব কথা বলেন শ্রীয়া পলিক্লিনিক মেরিন লাইন্স অ্যান্ড জিটিবি হসিপিটালের মনোবিজ্ঞানী ড. রোহান বোকডাওয়ালা।

সেলিব্রিটি সাইকোথেরাপিস্ট ড. তৃপ্তি জৈন বলেন, আবার শিশুকালে যারা দৈহিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তাদের মাঝেও এমন আচরণ প্রকাশ পেতে থাকে। নির্যাতনের শিকার শিশুদের মনে হতে থাকে, তারা এমনিতেই ভালোবাসা পাবে না। এর জন্য জোর-জবরদস্তি করতে হবে।

গোটা বিশ্বে ধর্ষণ এমন এক ঘটনা যার অধিকাংশ খবর প্রকাশ পায় না। একে গোপন রাখা হয়। এ ঘটনার নৃশংসতার শিকার যারা হয়েছেন, তাদের মনে স্থায়ীভাবে ভীতি ঢুকে যায়। আধুনিক সমাজে মানুষ নিজের মতো ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। এ কারণে সবার মনে এক ধরনের বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার অনুভূতিও কাজ করে। কিন্তু সব মানুষই ভালোবাসা পেতে চায়। কিন্তু যখন ধর্ষণের শিকার হয় কোনো মানুষ, তখন তা সারাজীবনের ক্ষত সৃষ্টি করে দেয়। তাই সবাইকে, বিশেষ করে নারীদের এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। আশপাশের মানুষ, যাদের সঙ্গে সদ্য পরিচিত হয়েছেন বা সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, তাদের মাঝেই থাকতে পারে ধর্ষক। কিন্তু তা বুঝে ওঠাটা কঠিন বিষয়। অবশ্য যদি কিছু বিষয়ে খেয়াল করতে পারেন, তাহলে ধর্ষণের মানসিকতাসম্পন্ন মানুষটিকে চিনে নেওয়া যায়।

এখানে দেখে নিন একজন ধর্ষকের বৈশিষ্ট্য কেমন হতে পারে-

১. যখন তখন মানসিকতার উত্থান-পতন। ক্ষোভে ফেটে পড়ার প্রবণতা রয়েছে।
২. উত্তেজনা ছাড়াই মৌখিক ও দৈহিক নির্যাতনমূলক কথা-বার্তা বলেন।
৩. আপত্তিকরভাবে দেহের কোথাও স্পর্শ করার প্রবণতা।
৪. কম বয়সী মেয়েদের টিজ করার স্বভাব।
৫. ভয়ানক ভাষায় ক্রমাগত হুমকি-ধামকি দিয়ে যাওয়া।
৬. সন্দেহজনক এবং অনেক সময় পাগলের মতো আচরণ।
৭. নিজেকে উত্তেজিত করার পেছনে সময় ব্যয় করা। স্বমেহনে আসক্তি।
৮. কর্ম আদর্শ বলে কিছুই নেই।
৯. মিথ্যাচার এবং চুরির অভ্যাস ছোটকাল থেকেই দেখা যায়। পরবর্তী জীবনে সমাজবিরোধী আচরণ গড়ে ওঠে।
১০. বিপরীত লিঙ্গের সঙ্গে সহজভাবে চলতে পারে না তারা। কিন্তু তাদের প্রতি দারুণ আকর্ষণবোধ হয়।
১১. অপরিণত চিন্তা-ভাবনা। সহজেই বন্ধুদের কথায় প্ররোচিত হয়।
১২. যোগাযোগ সৃষ্টিতে অন্যকে অনুকরণ করেন। এক চিন্তা থেকে বিপরীত চিন্তায় চলে যান।

মেয়েদের যে সকল বিষয়ে সাবধান থাকতে হবে-

১. আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করেন কেউ।
২. আগন্তুকের সন্দেহজনক আচরণ।
৩. হুমকিমূলক কথা বলা।
৪. কামুক চাহনী বা আচরণ প্রকাশ করা।
৫. খুব বেশি বন্ধুসুলভ আচরণ দেখানো।
৬. মাদক বা অ্যালকোহল গ্রহণের পর খুব বেশি আন্তরিকভাব প্রকাশ করা।
৭. পাশাপাশি বসার পর খুব বেশি কাছাকাছি হওয়ার চেষ্টা। আপত্তিকর কাজ করে দুঃখ প্রকাশ করা।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, কালের কন্ঠ

 

Similar Articles

Leave a Reply