You are here
নীড়পাতা > প্রতিবেদন > ধর্ষক, এবার বিব্রত হও

ধর্ষক, এবার বিব্রত হও

Your ads will be inserted here by

Easy Plugin for AdSense.

Please go to the plugin admin page to
Paste your ad code OR
Suppress this ad slot.

হুসাইন মুহাম্মদ ফাহিম

ভাবতেই গা শিউরে ওঠে। পাঁচ বছরের শিশুটি, যে এখনো পৃথিবীকে পুরোপুরিভাবে চিনতে পারেনি, যার কাছে এখনো বোধগম্য হয়ে ওঠেনি ‘লাল-নীল’ আলোর মহিমা। সে জীবনের যাত্রা শুরু করতে না করতেই ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। হৃদয়হীন জিঘাংসার মুখোমুখি হয়ে তার বেড়ে ওঠা থমকে দাড়াচ্ছে, থেমে যাচ্ছে অবলীলায়। শুধু কি পাঁচ বছরের শিশু? পাশবিক অত্যাচারে নির্বিকার হয়ে পড়ছে আরো অসংখ্য নারীজন্ম।শহর থেকে গ্রাম, এভাবে বাংলাদেশের প্রান্তরে প্রান্তরে বিরাজ করছে চাপা কান্না। ক্রমে ক্রমে ধর্ষণের হার মারাত্মক পর্যায়ে বেড়ে চলছে। এছাড়া পথে পথে উত্যক্ত হওয়ার ব্যাপার তো ঘটছে অহরহ। এভাবে আর কতকাল চলবে? কতকাল চলতে পারে? দিনে দিনে আমাদের মানসিকতা এত যে বিকারগ্রস্থ হচ্ছে, তা কেনো? আমরা কি এই বিভিষিকা থেকে বেরিয়ে আসতে পারবো না? উত্তরণের কি আদৌ কোন পথ নেই? এইসব প্রশ্ন ভোরের গায়ে মেঘ রঙ ছড়িয়ে দেয়। জীবনের বিকেলগুলো ফিকে করে ফেলে।

প্রথম আলোয় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ জানিয়েছে, চলতি বছরের নভেম্বর মাসে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ১৩টি। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ২ জনকে। এ ছাড়া ১১ জনকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। গত মাসে সর্বমোট ১০৭টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড উপপরিষদে সংরক্ষিত ১৪টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে এ তথ্য দিয়েছে সংগঠনটি। মহিলা পরিষদের এক প্রতিবেদনে চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে মোট ১ হাজার ৭৩৭টি ধর্ষণসহ নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটে বলে বলা হয়েছিল। অথচ গত বছরের ১২ মাসে সংখ্যাটি ছিল ১ হাজার ৪৫৩টি। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধের অভাব, পিতৃতন্ত্র ও বৈষম্যমূলক আইন নারী নির্যাতন বাড়ার পেছনে দায়ী বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল।’

এইসব হাহাকার আমাদের বিবেকের বন্ধ্যাত্ব ঘুচাতে পারে না। মানুষ রূপের আড়ালে ওঁৎ পেতে  থাকা হিংস্র আত্মাকে ছুঁতে পারে না। ভাবনার দোয়ারে কড়া নাড়তে পারে না। কেনো? আজ যে মেয়েটি ধর্ষিত হলো, সে হয়তো আপনার আত্মীয় বা পরিচিত নয়। কিন্তু সেও তো কেউ একজনের বোন, কারো মা, দরিদ্র কিংবা বিলাসী বাবার রাজকন্যা।  কিছুক্ষণের জন্য ভাবুন, সে আপনার বোন। আপনার বোনকে কেউ ধর্ষণ করছে, অথবা আপনি নিজেই! ভাবতে পারেন? বোধ হয় পারছেন না, পারবেন না। এই ভাবনায় আকাশ কেঁপে উঠবে। মাটি আপনাকে অভিশাপ দিবে। এমনকি বিবেক, আপনাকে তাড়িত করবে। তবে কেনো রে ভাই! চোখের সামনে মেয়ে দেখলেই দেহের স্ফীতি মাপছেন! দ্বিধাহীন কামনার প্রলোভনে ধ্বংশের পথে এলিয়ে পড়ছেন! আজ যে লোকটি একটি মেয়ে ধর্ষণের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ হলো, সমবেদনায় দরদ বিগলিত হলো, একদিন সুযোগ পেলে দেখা যাবে সেও হয়তো আরেকজনের আব্রুতে আঘাত করছে। এভাবে প্রত্যেকের মানুষ চেহারার আড়ালে লুকিয়ে থাকে একটি হিংস্র আত্মা। বৈরী পরিবেশ এবং সুবিধার জঞ্জালে তা ফুটে ঠে অকপটে। অপরদিকে পরিবেশ অনুকূল না হলে কেউ ভেতরের নোংরামি কিংবা হিংস্রতা প্রদর্শনের সাহস পাবে না।  সঠিক বিচার এবং ধর্ষণের বিপরীতে কঠিন শাস্তিটি নির্বিঘ্নে বাস্তবায়ন করতে হবে। মেয়ে মায়ের জাত, প্রতিটা মেয়ে নিরাপদ হোক। সমাজে নারীর উপযুক্ত সম্মান প্রতিষ্ঠিত হোক। এবং ধর্ষকবৃন্দ, ভাবুন, কমপক্ষে একবার। অতঃপর বিব্রত হন অপরাধের তাপে এবং অনুশোচনায়।

পুনশ্চ : যা বলেছি এতক্ষণ-এতকথা, সব আমি আমাকেই বলেছি। আপনিও আপনাকে বলুন!

 

Similar Articles

Leave a Reply