You are here
নীড়পাতা > প্রতিবেদন > জয়তীতে মুগ্ধ শ্রোতা

জয়তীতে মুগ্ধ শ্রোতা

শুধু গান আর কথার ইন্দ্রজালে শ্রোতাকে কতটা মোহগ্রস্ত করে রাখতে পারেন  একজন শিল্পী তা-ই যেন আরেকবার করে দেখালেন জয়তী চক্রবর্তী। বেঙ্গল সংস্কৃতি উৎসবে সিলেটের আবুল মাল আবদুল মুহিত কমপ্লেক্সে গতকাল বুধবার রবীন্দ্রসংগীত, আধুনিক ও আঞ্চলিক গান পরিবেশন করে দর্শকদের বিমোহিত করেন ভারতের প্রখ্যাত এই শিল্পী।

রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর লেখা বিখ্যাত গান ‘আমার ভিতরে বাহিরে অন্তরে অন্তরে’ দিয়ে শুরু করেন তিনি। তাঁর কণ্ঠে গানটি অনেক বেশি মাধুর্যময় হয়ে গেলো। গানটি জয়তীর সঙ্গে গাইলেন উপস্থিত প্রায় সকলে। এর আগে জয়তী স্বীকার করে নিলেন, এত দর্শকদের সামনে এর আগে তিনি কখনও গাননি।

তার কণ্ঠ যেমন দরদ ভরা তেমন তাঁর আবেগ। তাঁর গায়কিতে বিখ্যাত ভাওয়াইয়া গান ‘তোমরা গেলে কি আসিবে মোর মাহুত বন্ধু রে’-কি যে দূর্দান্ত শোনাল শ্রোতাই তার বড় সাক্ষী। রাধারমন দত্তের ‘ভ্রমর কইও গিয়া’ গানটি জয়তীর কন্ঠে পেল ভীন্ন মাত্রা।

তিনি পরিবেশন করলেন একটি ঝুমুর গান ‘পিয়া পরদেশ’। তিনি জানালেন, ছোট বেলা থেকেই অর্থ না বুঝেই গানটি গেয়েছেন তিনি। বয়স যত বেড়েছে, ততই গানটির অর্থ অনুধাবন করেছেন।

রবীন্দ্র সঙ্গীতের মধ্যে তাঁর পরিবেশনায় ছিল ‘ভালোবেসে সখী নিভৃতে যতনে’, ‘সখী ভাবনা কাহারে বলে’ এবং ‘তুমি কোন কাননের ফুল’। জয়তী জানালেন, ‘ভাবনা কাহারে বলে’ গানটিতে যেন সবাই কন্ঠ মেলান। দর্শকরাও গাইলেন তাঁর সঙ্গে। তিনি জানালেন, ‘তুমি কোন কাননের ফুল’-এটি তাঁর পছন্দের রবীন্দ্র সঙ্গীত।

জয়তীর পরিবেশনার মধ্যে ছিল তিনটি মৌলিক গান। যার মধ্যে একটি ছিল বসন্তের গান, আরেকটিতে তুলে ধরা হয়েছে বর্তমান সময়ের প্রেম। অন্যটিও প্রেমের গান।

জয়তী জানালেন, এই সময়ের প্রেমের গানতো হল, কিন্তু কেমন ছিল পুরনো দিনের প্রেম, তা বোঝা যাবে আমার পরবর্তী পরিবেশনায়। তিনি গাইলেন ‘তুমি যে আমার,ওগো তুমি যে আমার’।

সবশেষ পরিবেশনার আগে তিনি বললেন, বাংলা আমার মাতৃভাষা। এ ভাষা আমার আবেগ। বাংলায় কথা বলেছেন আমার পূর্ব পূরুষেরা।………তাই যে গানে রয়েছে বাংলা ভাষার বন্দনা, তা দিয়েই শেষ করতে চাই আমার পরিবেশনা। তিনি গাইলেন প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের বিখ্যাত গান, ‘আমি বাংলায় গান গাই, আমি বাংলার গান গাই।’ বাংলা ভাষার প্রতি এতো ভালোবাসা খুব কম শিল্পীর কাছ থেকেই পাওয়া যায়।

Similar Articles

Leave a Reply