You are here
নীড়পাতা > প্রতিবেদন > জীবন এক বহতা নদী (৬)

জীবন এক বহতা নদী (৬)

রোমেনা লেইস

ঐদিনই মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপতালে ভর্তি করা হয়ে গেলো। পরীক্ষা নিরীক্ষা শুরু হলো। বাংলাদেশের রিপোর্ট এখানকার পরীক্ষা নিরীক্ষার সাথে মিলে গেল।দ্রুত অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেয়া হলো।বড় মেয়ে তিন্নি ওর বাচ্চা ঈশানা আর বর শাহীনসহ সিঙ্গাপুর আসলো।সন্ধ্যা সাতটায় অপারেশন থিয়েটারে নেয়ার সময় সবাই খুব নরমাল থাকার চেষ্টা করছে।এসময় কর্নেল হক কল করলেন।তিয়া ফোনটা মাকে দিলো

-ভাবী একদম ভয় পাবেন না।নিউইয়র্ক থেকে হুমায়ূন আহমেদ দেশে এসেছেন। কোলন ক্যানসার উনার। কে বলবে ক্যানসার? উনার সিনেমার অপেনিং করলেন ঘেটুপুত্র কমলার।

-দোয়া করবেন ভাই ।

-আপনার ভাবীর সাথে কথা বলেন।

-হ্যা লো -ভাবী আল্লাহর উপর ভরসা রাখেন। নিশ্চয়ই আপনি ভাল হয়ে যাবেন।ফী আমানিল্লাহ।

-আল্লাহ হাফেজ।

বাচ্চাদের কপালে চুমু দিয়ে অপারেশন থিয়েটারে ঢুকলো রূপা। ডাক্তারের এসিসট্যান্টরা সব সবুজ ড্রেস পরা।নাম, জন্মতারিখ জিজ্ঞেস করলো। ব্লাড প্রেসার মাপলো।গল্প করার ফাঁকে ফাঁকে ওর হাত মুস্টিবদ্ধ করতে বললো। ওরা ভেইন খুঁজে পেয়ে ইঞ্জেক্ট করলো। সাদা আলোগুলো মাথার উপর দুলছে। ডাক্তার নার্স আর এসিসট্যান্টদের মুখগুলো দূরে কাছে দেখা যায় আবার ঝাপসা হয়ে অনেক বেগুনী আলো সোনালী বিন্দু দেখতে দেখতে আর কিছু মনে নাই। সার্জারীর পর রূপাকে পোস্ট অপারেটিভ রুমে রেখেছিলো ।শাহীন, তিয়া, তিন্নি কাঁচের বাইরে থেকে দেখলো- ওর জ্ঞানহীন দেহে অনেক নল লাগানো। ডাক্তার জানালেন, অপারেশন সাকসেসফুল। শিগগিরই জ্ঞান ফিরবে। জ্ঞান ফিরলো রূপার। -আমি কোথায় ভাবতে ভাবতে রুমের চারদিকে তাকাচ্ছে ও ।পাতলা চেহারার নার্স এসে বলল, হাই, হাও আর ইউ ফিলিং ? -আই এম ফাইন। থ্যাংকস। বিপি, হার্ট বিট চেক করে টেম্পারেচার চেক করলো। তারপর ডাক্তার আসলো। দুই মেয়ে আর নাতিনাতনীসহ জামাইরা আসলো। উইন্ডোর গ্লাসের পাশে দাঁড়িয়ে দেখলো। শুধু শাহীন ভেতরে গেল -মা কেমন আছেন?কোন অসুবিধা হচ্ছে কী?

-না ঘুম পাচ্ছে।

রূপার মাথার ভেতরে অনেক মানুষের অচেনা ভাষায় কথা বলা আর ছুরি কাঁচির শব্দ, চোখের সামনে বেগুনী ভেলভেটের পর্দা উড়তে লাগলো।মনে হচ্ছে অনেক বাতাসে পর্দাগুলো উড়ছে। এবার আবার পর্দাগুলো গোলাপী সিল্কের মতো মনে হচ্ছে। রূপা আবার জ্ঞান হারালো।

রূপা পোস্ট অপারেটিভ জটিলতা পেরিয়ে আজ রুমে এসেছে।মেয়েদুটোর মুখে হাসি ফুটেছে।মহান আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী সব হয়। তিন্নি, ঈশানা আর শাহীন আজ কাতার চলে যাবে।সন্ধ্যার দিকে ফ্লাইট।তৈমুর আর ঈশানা খুব খুশী।

-নানুমনি তুমি কী ক্যান্ডি খাবে?

-নাহ। আমার বারণ আপু। তোমরা খাও।

তিন্নি মার মুখে ডালিমের রস চামচে তুলে খাইয়ে দিচ্ছে।

-মা শোন এখন থেকে সাবধানে থাকবে। একা থাকার দরকার কী।তিয়ার সাথে থাকো। ওর সাথে খাকলে ওরও ভাল লাগবে। অথবা যদি চাও আমার কাছে চলে আস। ওখানে তো আরো কেয়ার বেশী। সরাসরি ডাক্তারের আন্ডারে। নার্স এসে একটা ইঞ্জেকশন দিয়ে গেলো। রূপার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে তিন্নি। রূপা ঘুমিয়ে গেলো।

দীর্ঘ পনেরো দিনের ক্লান্তি।আজ মায়ের শরীর ভাল।দুই মেয়েরই মনে অনাবিল শান্তি। শাহীন ডাক্তারের সাথে কথা বলে খুটিনাটি সব জেনে নিলো। সন্ধ্যার ফ্লাইট এ তিন্নি আর শাহীন ঈশানাসহ চলে গেল।পরদিন ইমরানও তৈমুরকে নিয়ে চলে যাবে।তিয়া রূপাকে নিয়ে কয়েকদিন থাকবে।

চলবে…

গল্পের আগের অংশ পড়ুন

জীবন এক বহতা নদী (৫)

 

 

 

 

 

Similar Articles

Leave a Reply