You are here
নীড়পাতা > প্রতিবেদন > জীবন এক বহতা নদী (১)

জীবন এক বহতা নদী (১)

Your ads will be inserted here by

Easy Plugin for AdSense.

Please go to the plugin admin page to
Paste your ad code OR
Suppress this ad slot.

রোমেনা লেইস

বিকেলে বসে বসে পুরনো এলবাম গুলো ধুলো মুছে ঝেড়ে উঠাচ্ছিলো রূপা।মুছে মুছে ছবিগুলোয় চোখ রাখে। স্মৃতির দুয়ার খুলে য়ায়।ছবিগুলোই যেন এখন তার জীবনের অবলম্বন।ছবি গুলো দেখতে দেখতে স্মৃতি সামনে চলে আসে।
ক্রিং ক্রিং ক্রিং ল্যান্ড ফোনটা বেজে উঠলো।
-হ্যালো কে বলছেন?
-হ্যালো আনিস ভাবী আমি কর্নেল হক বলছি।কেমন আছেন আপনি?
-জ্বি ভাই ভাল আছি।আপনার খবর কী?
ছেলেমেয়েরা কেমন আছে?মহুয়া মামনি অস্ট্রেলিয়া থেকে কবে আসবে?রাহাত কি টেক্সাসে সেটেল হয়ে যাবে?
– জ্বি ভাবী। কিন্তু আজ আমি আপনার সাথে অন্য একটা বিষয়ে কথা বলব। অবশ্য যদি আপনি অনুমতি দেন।আপনার হাতে সময় হবে তো?
-জ্বি জ্বি ভাই।অবশ্যই বলবেন।সময় হবে না মানে? আমার তো সারাক্ষণই অবসর।
আর আপনি আমার এমন উপকারী একজন, কর্নেল আনিস চলে যাবার পর থেকে আপনিই একমাত্র জন যিনি আমার সব কাজে সাহায্য করেছেন।গত বিশটি বছর আমি যখনই বিপদে পড়েছি, তখনই  আপনি আর ভাবী আমার পাশে দাঁডিয়েছেন বন্ধুর মত।
-ভাবী আনিস চলে গেছে বিশ বছর।আপনার তিন্নির মাত্রই বিয়ে হয়েছে তখন। আর তিয়া কত ছোট ছিল।আপনি তিয়াকে পড়ালেখা করালেন। বিয়ে দিলেন। এখন আপনিতো এক্কেবারে একা হয়ে গেলেন।
-ভাবী আমি বেশ কিছুদিন থেকে ভাবছি বিষয়টি নিয়ে।আমার মনে হয় শেয়ার করা প্রয়োজন।
-ঠিক আছে বলেন।
-ভাবী আপনি আমি দুজনেই একা।এই একাকীত্ব বড় কষ্টদায়ক।আপনি চাইলে আমরা বাকী জীবনটা দুজন দুজনের হয়ে কাটাতে পারি।আমার মৌ’র মাও চলে
গেল আমাকে একা করে। আপনার মেয়ে দুটিও দূরে থাকে।
আমার ছেলে মেয়েরাও দূরে।আমরা বাকী জীবন একসাথে দেশে দেশের বাইরে ঘুরে
বেড়াব।সুখ দুঃখ সব সময় শেয়ার করব।
রূপা মনেহয় আকাশ থেকে পড়লো।গড়িয়ে গড়িয়ে পড়লো না, একদম ধপ করে পড়লো।অনেকক্ষণ মুখ দিয়ে কোনো কথাই বের হলো না।
-ভাবী হ্যালো হ্যালো—
-জ্বি শুনছি।
-কথা বলছেন না যে?
এও কি সম্ভব? না এটা কিছুতেই হতে পারে না।
মুখে বললো -ভাই খুব অসম্ভব কথা।এটা আর হয় না ভাই।
আমি তো ভাবতেই পারিনা।না না।একি বলছেন আপনি।
কর্নেল হক বললেন ভাবী আপনি সময় নিয়ে পরে আমাকে জানান।আল্লাহ হাফেজ বল ফোন রেখে দিলেন।

বিকেলবেলা চা এর কাপ আর কুকীজ নিয়ে বসে আছে রূপা।মনে পড়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলায় অনার্সে সহ মাস্টার্স করে বাড়ি আসলো। হল ছেড়ে তল্পিতল্পাসহ ফিরে এসেছে।বিকেলের দিকে সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট থেকে শান্তা আপা আরদুলাভাই সাথে এক ক্যাপ্টেন বন্ধুকে নিয়ে আসলেন।গল্প হলো গান হলো।খাওয়াদাওয়ার পর চলে গেল সবাই ।রূপা স্বভাব সুলভ নীরবই ছিলো সারাক্ষণ।

দুইদিন পর বড়ভাই ডেকে বললেন, আনিস সাহেবের তোকে খুব পছন্দ হয়েছে।আমরা বিয়ের আয়োজন করি। লজ্জা পেয়ে অন্য ঘরে চলে যায় সে।

বাবার অভাব বুঝতে দিলো না মা আর ভাই।এমন মহা ধুমধামে বিয়ে হলো।আত্মীয় স্বজনরা কব্জি ডুবিয়ে খেলো।বোন ভাইএর ছেলে মেয়েরা।খুব আনন্দ করলো বৌভাত সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্টে হলো। বুফে সিস্টেম ।প্রচুর খাবার সবাই নিজের মত করে খেলো।
সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্টে খুব আনন্দে কাটছিলো সময়।ছুটিরদিনে নীলফামারী চলে যাওয়া যেতো।কখনো মা ভাই ভাবী বাচ্চারা চলে আসতো।
আনিস খুব শৌখিন মানুষ।গানবাজনা ভীষণ ভালবাসে।রূপার মেজ বোনের স্বামী ডাক্তার।উনি গান জানেন।মাসে দুএকবার গানের জলসাও বসে।সেক্সোফোন,সেতার, পিয়ানো, গান, খাওয়া দাওয়া।রূপার জীবন হাসিগানে ভরা।তখনই বদলীর অর্ডার আসলো ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে।রূপাকে মায়ের বাড়ি রেখে চলে গেলো আনিস জয়েন করতে।জয়েন করে রূপসায় কোয়ার্টার পেয়ে ওকে নিয়ে আসলে।
কী অদ্ভুত জীবন মানুষের। মাত্র তিন মাস আগে যে ছিল অচেনা এখন তারাই একে অন্যের জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠলো।কেউ কাউকে ছাড়া থাকতেই পারে না।ঐ সময় আনিসের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া ভাইরাও ঢাকায় পড়তে আসলো।ওদের লিভিংরুমে ওদের জন্য খাট পেতে দেয়া হলে।রূপা নিজের ভাইএর মতই যত্ন করে ওদের।
প্রথম সন্তান এর আগমন বার্তা জানিয়ে দিলো শরীরের কতগুলো অচেনা উপসর্গ।
সিএমএইচ এ মেয়ের জন্ম হলো।আনিস
কী যে খুশী হলো মেয়েকে পেয়ে।
মেয়ের নাম রাখলো তিন্নি তাজিন।

চলবে…

Similar Articles

Leave a Reply