You are here
নীড়পাতা > সংবাদ > বাংলাদেশ > জিয়া, তামিমকে ধরিয়ে দিলে ৪০ লাখ টাকা পুরস্কার

জিয়া, তামিমকে ধরিয়ে দিলে ৪০ লাখ টাকা পুরস্কার

Your ads will be inserted here by

Easy Plugin for AdSense.

Please go to the plugin admin page to
Paste your ad code OR
Suppress this ad slot.

চাকরিচ্যুত সেনা কর্মকর্তা ব্লগার হত্যায় সন্দেহভাজন জিয়াউল হক এবং রাজধানীর গুলশান, কল্যাণপুর ও শোলাকিয়া হামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’ তামিম চৌধুরীকে ধরিয়ে দিলে ২০ লাখ টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হবে। পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক এ কথা বলেন।

মঙ্গলবার পুলিশের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে আইজিপি সাংবাদিকদের বলেন, গুলশান, কল্যাণপুর ও শোলাকিয়ায় হামলার পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ, সার্বিক অর্থায়ন সবকিছুর সঙ্গেই জড়িত তামিম চৌধুরী । তাঁর বাবার নাম শফিক আহমেদ ও মায়ের নাম খালেদা শফি চৌধুরী। বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার বড়গ্রামফাদিমাপুরে। জন্ম ১৯৮৬ সালের ২৫ জুলাই। তামিম সর্বশেষ ২০১৩ সালের ৫ অক্টোবর দুবাই থেকে বাংলাদেশে আসেন। তিনি এখন দেশে না বিদেশে আছেন তা স্পষ্ট নয়।
আর জিয়াউলের হকের বাড়ি মৌলভীবাজারের মোস্তফাপুরে। তাঁর পুরো নাম সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হক। তাঁর বাবার নাম সৈয়দ মোহাম্মদ জিল্লুল হক। সর্বশেষ ব্যবহৃত বর্তমান ঠিকানা পলাশ, মিরপুর সেনানিবাস, ঢাকা।

সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে এই ব্রিফিং করা হয়। আইজিপি আরও বলেন, নিষিদ্ধঘোষিত জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলাগুলোর জন্য দায়ী।

কানাডার পত্রিকা ন্যাশনাল পোস্ট এই মাসের শুরুতে প্রকাশিত খবরে বলেছে, আইএসের (ইসলামিক স্টেট) কথিত ‘বাংলার খিলাফত দলের প্রধান’ শায়খ আবু ইব্রাহিম আল-হানিফ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক। তাঁর প্রকৃত নাম তামিম চৌধুরী। তিনি কানাডা থেকে বাংলাদেশে চলে গেছেন। এর আগে গত ১৩ এপ্রিল অনলাইনে প্রকাশিত আইএসের নিজস্ব সাময়িকী দাবিক-এর ১৪ তম সংখ্যায় আইএসের কথিত বাংলাদেশ প্রধান শায়খ আবু ইব্রাহিম আল-হানিফের দীর্ঘ সাক্ষাৎকার প্রকাশ করা হয়। তাতে বলা হয়, কৌশলগত অবস্থানের কারণে বাংলাদেশে শক্ত ঘাঁটি করতে চায় আইএস। ‘নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবি ও সমর্থনপুষ্ট অন্যান্য সংগঠনের নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের অর্থ, অস্ত্র, প্রশিক্ষণ ও পরামর্শের মাধ্যমে সহায়তা ও প্ররোচনা’ দেওয়ার অভিযোগে তামিম চৌধুরীসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।

পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক ডন-এর খবর অনুযায়ী, গত বছরের ৯ জানুয়ারি করাচিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে এক বন্দুকযুদ্ধে এজাজসহ আল-কায়েদার চার জঙ্গি নিহত হয়। ওই খবরে এজাজ ওরফে সাজ্জাদকে একিউআইএসের কমান্ডার বলে উল্লেখ করা হয়। পরে বাংলাদেশের জঙ্গিবাদবিরোধী কার্যক্রমে যুক্ত গোয়েন্দারা এজাজ নিহত হওয়ার কথা নিশ্চিত হন।

এজাজের মৃত্যুর পরে আনসারুল্লাহ নতুন নেতৃত্বে পুনর্গঠিত হয়। জসীমুদ্দিন রাহমানীর স্থলে তাত্ত্বিক নেতা হন পুরান ঢাকার ফরিদাবাদের এক মাদ্রাসা শিক্ষক। আর সামরিক শাখার নেতৃত্বে আসেন মেজর (বহিষ্কৃত) সৈয়দ মো. জিয়াউল হক। তিনি ২০১১ সালের ডিসেম্বরে সেনা অভ্যুত্থানে প্ররোচনা চালিয়ে ব্যর্থ হন। এরপর থেকে পলাতক। তাঁকে সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়।
ওয়াকিবহাল একটি সূত্র জানায়, মেজর জিয়া আগে থেকেই উগ্র গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মুফতি জসীমুদ্দিন রাহমানী গ্রেপ্তার হওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন, ধরা পড়ার আগে তিনি একাধিকবার ঢাকা ও চট্টগ্রামে মেজর জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের ধারণা, জিয়া এই জঙ্গিগোষ্ঠীর সামরিক শাখার দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০১৫ সালে সবচেয়ে বেশি ব্লগার হত্যা ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলা এত বেশি নিখুঁতভাবে হয় যে ঘাতকদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কর্মকর্তাদের ধারণা, নতুন নেতৃত্ব আসার পর আনসারুল্লাহ ‘আনসার আল ইসলাম’ নাম ধারণ করেছে।

সূত্রঃ প্রথম আলো পত্রিকা

 

Similar Articles

Leave a Reply