You are here
নীড়পাতা > প্রতিবেদন > ঘুরে আসুন সুনামগঞ্জ

ঘুরে আসুন সুনামগঞ্জ

রোমেনা লেইস

সুনামগঞ্জ বাংলাদেশের উত্তর পূর্ব দিকে অবস্থিত। আকাশের গায়ে হেলান দিয়ে যেখানে বিশাল নীল পাহাড় ঘুমায়। পাহাড় থেকে নেমে আসা বারাক নদী শহরের চোখে যেন সুরমার টান।
আগে সুনামগঞ্জ জেলার নাম ছিল বনগাঁও। সুনাম উদ্দিন মতান্তরে সুনামদি নামে জনৈক সিপাহী একটি গঞ্জ বা বাজার প্রতিষ্ঠা করেন। ১৮৭৭ সালে সুনামগঞ্জ মহকুমা প্রতিষ্ঠত হয়। ১৯৮৪ সালে জেলায় রূপান্তরিত হয়। আয়তন ১৪২৮.৪২ বর্গমাইল আর জনসংখ্যা ২০১১ র আদমশুমারী অনুযায়ী ২০,১৩,৭৩৮।

সুনামগঞ্জের অন্যতম আকর্ষনীয় পর্যটন কেন্দ্র টাঙ্গুয়ার হাওর।,ডলুরা স্মৃতি সৌধ।। এ ছাড়া ও দর্শনীয় স্থান গুলোর মধ্যে  হাছন রাজার বাড়ি,নারায়ণতলা মিশন, পণাতীর্থ স্মৃতি ধাম,বাঁশতলা শহীদ স্মৃতিসৌধ,লাউড়েরগর, শিমুলবাগান, টেকেরঘাট চুনাপাথর খনি প্রকল্প উল্লেখযোগ্য।

কীভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে সিলেটে যেতে পারেন বিমানে,ট্রেনে বা বাসে ।নিজে ড্রাইভ করেও যেতে পারেন।সিলেট থেকে সুনামগঞ্জ যেতে পারেন বাসে।প্রথমে যেতে হবে সুনামগঞ্জ জেলা শহরে। ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে শ্যামলী পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, এনা পরিবহন, মামুন পরিবহনের এসি ও নন এসি বাস যায় সুনামগঞ্জ।

সুনামগঞ্জ শহরের সুরমা সেতু থেকে লেগুনা কিংবা মোটরবাইকে যেতে হবে তাহিরপুর কিংবা সোলেমানপুর। তবে ফেব্রুয়ারি মাসে সোলেমানপুর যাওয়াই উত্তম। কারণ তাহিরপুর থেকে সোলেমানপুরের বৌলাই নদীতে এ সময়ে নাব্যতা কমে যায়।টাঙ্গুয়ার হাওরে সম্ভবত পাখিদের সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ফেব্রুয়ারি মাসে। পাখি দেখতে চাইলে টাঙ্গুয়ার হাওরে কমপক্ষে দুই দিন দুই রাতের একটি ভ্রমণ পরিকল্পনা নিয়ে বেড়িয়ে পড়ুন।
সুনামগঞ্জ থেকে সোলেমানপুর যেতে একটি লেগুনার ভাড়া পড়বে ৮শ’ থেকে ১ হাজার ২শ’ টাকা। যাওয়া যাবে কমপক্ষে আটজন। মোটরবাইকে দু’জনের খরচ পড়বে ৩শ’ থেকে ৪শ’ টাকা। সোলেমানপুর থেকে ইঞ্জিন নৌকা ভাড়া করে পাটলাই নদী ধরে যেতে হবে টাঙ্গুয়ার হাওরে। বর্ষায় শহরের সাহেববাড়ি ঘাট থেকে নৌকা নিয়ে যাওয়া যায়।সেখানে বিভিন্ন রকম ইঞ্জিন নৌকা ভাড়া পাওয়া যায়। প্রতিদিনের জন্য একটি নৌকার ভাড়া পড়বে ১ হাজার থেকে ২ হাজার ৫শ’ টাকা। এসব নৌকায় রাতেও থাকা যাবে। এটি সবচেয়ে আরামদায়ক ।

প্যাকেজ ভ্রমণ

টাঙ্গুয়ার হাওরে ঝামেলামুক্ত আরামদায়ক ভ্রমণ করতে হলে যেতে হবে প্যাকেজ ভ্রমণে।

হাউস বোট ‘রূপাবই’ বিভিন্ন মেয়াদের প্যাকেজ ভ্রমণ পরিচালনা করে থাকে এ হাওরে। ছয় থেকে আট জনের থাকার উপযোগি কাঠের তৈরি এ নৌকাতে পর্যটকদের গাইডসহ থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা আছে। এ ছাড়া নৌকায় আছে সৌর বিদ্যুতেরও ব্যবস্থা। যোগাযোগ ০১৯৭৫০৪১৩২৫।

টাঙ্গুয়ার হাওরে ভ্রমণে যাওয়ার আগে জেনে নিন এ হাওরের কিছু তথ্য:
টাঙ্গুয়ার হাওর, বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ জেলায় অবস্থিত। প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এ হাওর বাংলাদেশর দ্বিতীয় বৃহত্তম মিঠা পানির জলাভূমি ।বর্ষায় এর পুরোটাই পানিতে ডুবে থাকলেও শীতে পানি কমতে থাকে। এর বড় একটা অংশ তখন শুকিয়ে যায় ।স্থানীয় লোকজনের কাছে হাওরটি নয়কুড়ি কান্দার ছয়কুড়ি বিল নামেও পরিচিত।
এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় রামসার স্থান।

সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা ও তাহিরপুরের দশটি মৌজা নিয়ে টাঙ্গুয়ার হাওরের বিস্তৃতি। টাঙ্গুয়ার হাওর মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত। মেঘালয় পাহাড় থেকে ৩০টিরও বেশি ঝর্ণা এসে মিশেছে এই হাওরে।ছোট বড় ১২০ টি বিল আছে এ হাওরে।

শীতে টাঙ্গুয়ায় যেসব পাখি বেশি দেখা যায় সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- , পানকৌরি, , ছোট ডুবুরি, বড় খোপা ডুবুরি, বড় বক, ছোট বক, ধুপনি বক, বেগুনি বক, মেটে রাজহাঁস, চখাচখি, ছোট সরালি, বড় সরালি, লেনজা হাঁস, খুনতে হাঁস, পাটারি হাঁস, ফুলুরি হাঁস, গিরিয়া হাঁস, সিথি হাঁস, পাতি হাঁস, বালি হাঁস, লাল ঝুটি ভুতি হাঁস, পাতি ভুতিহাঁস, পান্তা ঝিলি, মেটেবুক ঝিলি, জল মোরগ, লালবুক গুরগুরি, নেউ পিপি, কায়েম, দলপিপি, কুট, লাল ঢেঙ্গা, মেটেমাথা টিটি, তিলা লালপা, লালপা, সবুজপা, বিল বাটান, সোনালি বাটান, কালোমাথা তাঙচিল, খয়রামাথা গাঙচিল, কুরা, বড় চিত্রা ঈগল, তিলা নাগ ঈগল ইত্যাদি।
টাঙ্গুয়ার হাওরের প্রধান দুটি পাখির অভয়ারণ্য হল লেউচ্ছামারা ও বেরবেড়িয়ার বিল।

অধ্যাপক আলী রেজা খান-এর বর্ণনানুযায়ী এই হাওরে সব মিলিয়ে প্রায় ২৫০ প্রজাতির পাখি, ১৪০ প্রজাতির মাছ, ১২’র বেশি প্রজাতির ব্যাঙ, ১৫০-এর বেশি প্রজাতির সরিসৃপ এবং ১০০০-এরও বেশি প্রজাতির অমেরুদণ্ডী প্রাণীর আবাস রয়েছে। (প্রেক্ষিত: জানুয়ারি ২০১২)

এ জলাশয় নানান প্রজাতির মাছেদের আবাসন। টাঙ্গুয়ার হাওরে আছে ১৪০টিরও বেশি প্রজাতির স্বাদু পানির মাছ। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো রুই, কাতল, আইড়, বোয়াল, গাং মাগুর, বাইম, তারা বাইম, গুলশা, গুতুম, টেংরা, তিতনা, গজার, গরিয়া, বেতি, কাকিয়া ইত্যাদি। টাঙ্গুয়ার হাওরের রুই মাছের স্বাদ অপূর্ব।
সূর্যাস্তের অপরূপ দৃশ্য দেখা যায় টাঙ্গুয়ার হাওরে।

শহরে রাতে থাকতে পারেন হাওরবিলাস এ।অত্যন্ত উন্নতমানের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা আছে।তবে খাবারের জন্য আগে অর্ডার করতে হবে।থাই,চায়নীজ বা দেশী খাবার পাওয়া যাবে।এক দুই ও তিন বেড রুমও আছে।গরম ও ঠান্ডা পানির
ব্যবস্থা আছে।

www.haorbilash.com এ লগ ইন করে বিস্তারিত জেনে নিন যাবার আগে। এটি সুনামগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্রে
অবস্থিত ।ফ্রী হাই স্পীড ইন্টারনেট প্রতিটি রুমে,পার্কিং ফ্রী।এছাড়াও হাওরবিলাস গেস্ট হাউস সিসিটিভির আওতাভূক্ত।আশিজনের কনফারেন্স রুম আছে দুইটি।
ওয়াশরুম ও তথ্য প্রযুক্তির আধুনিক সব ব্যবস্থা আছে।

উত্তর দিগন্তে মেঘছোঁয়া নীল পাহাড়। সবকিছু মিলিয়েই টাঙ্গুয়া নিসর্গের আকর্ষণ-অপূর্ব। এ যেন পর্যটনের স্বর্গ রাজ্য। নীল পাহাড়ের নীচে জলের বুকে হিজল করচ গাছের বন দাঁড়িয়ে। সত্যি বলতে কী দিগন্ত বিস্তৃত জল আর জল। চিক চিক করছে তরঙ্গ রাশি। উত্তরে মেঘালয়,পূর্বে যাদুকাটা নদী টাঙ্গুয়া ছুঁয়ে। মেঘ আর পাহাড় জলের বুকে তার ছায়া ।গোধুলির সোনালী মেঘে এ হাওর যেন রোম্যান্টিক হয়ে ওঠে। ফুরফুরে বাতাসে নৌকোর ছৈ এ বসে দোল খাওয়া পর্যটককে একটি মনোরম মাত্রা এনে দেয়। আর হাঁটুজলে ডুবে থাকা হিজল করচ বনে পাখিদের কলরব। আকাশে যদি থাকে ভরা পূর্ণিমার চাঁদ তবে তা হয়ে ওঠে আরো মনোহর ।

 

Similar Articles

Leave a Reply