You are here
নীড়পাতা > প্রতিবেদন > কেউ যেন তোর মত শৈশব না হারায়

কেউ যেন তোর মত শৈশব না হারায়

জেসমিন পাপড়ি
ক্লাস ফাইভে ওঠার কিছুদিন পর একদিন টের পেলাম আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধুটি আর স্কুলে আসছেনা। জানলাম জোহরার বিয়ে হয়ে গেছে। ছোট্ট তখনও আমি বুঝতামই না বিয়েটা কি?
তবে সে নতুন শাড়ি, গহনা পাবে জানতাম। এটুকুতেই আমাদের কথা ভুলে, স্কুলকে ছেড়ে চলে গেছে মনে করে খুব অভিমান হত, চোখে পানি আসত। এরপরেও শশুরবাড়ি থেকে বেড়াতে এসেছে শুনে সব অভিমান ভুলে দেখা করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু ও লজ্জায় কথাই বলতে পারলনা।
সেদিন ওর গায়ে খুব বেশি গহনা বা খুব সুন্দর সাজগোজও দেখিনি। তাই ফেরার পর মনে হলো বিয়ে খারাপ জিনিস। না হলে জোহরার মন খারাপ হবে কেন।
এরপর অ…নে….ক দিন, মাস বছর চলে গেছে। আমি গ্রাম ছেড়েছি। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়েছি। আর মাঝে মাঝেই জোহরাকে মনে করেছি।
গতবছর ঈদের দিনে গ্রামের পথে জোহরার সঙ্গে আমার দেখা। জানিনা ঠিক কত বছর পরে! প্রথমে ও চিনলেও পরে বিস্ময় নিয়ে দেখেছে আমাকে। বাপের বাড়ি থেকে পাশের গ্রামে শশুরবাড়িতে ফিরছিলও। বললাম- তোর একটা ছবি তুলি? ছেলে আর মেয়েকে নিয়ে ছবি তুলল জোহরা।
বলল- ছেলে কি হবে জানিনা। মেয়েটাকে পড়াতে চাই রে। যেন ক্লাস ফাইভে বিয়ে না হয়।
আমিও মন থেকে দোয়া করি জোহরা, তোর স্বপ্ন পূরণ হোক। আর যেন কেউ তোর মত শৈশব না হারায়। আর যেন কেউ আমার মত বন্ধু না হারায়।

লেখক : সাংবাদিক ও কলাম লেখক

Similar Articles

Leave a Reply