You are here
নীড়পাতা > প্রতিবেদন > কুমারী পূজা: মাতৃরূপে ঈশ্বরের আরাধনা

কুমারী পূজা: মাতৃরূপে ঈশ্বরের আরাধনা

সুবিনয় আচার্য্য রাজু

আজ মহাষ্টমী মহাতিথি, শ্রী শ্রী শারদীয়া দুর্গা পূজার ৩য় দিন। আজ দেশের বিভিন্ন মন্দিরে বিশেষ করে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনে মহাষ্টমীর মহাতিথিতে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হবে।কুমারী পূজার জন্য সাধারণত ৫ থেকে ৭ বছরের কুমারীকন্যাকে মনোনীত করা হয়।সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলার রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনে প্রতি বছর ব্যাপক উৎসাহ ও ধর্মীয় ভাবগাম্বীর্যের মাধ্যমে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। কুমারী পূজা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতি বছর বিপুল পরিমান ভক্তবৃন্দের সমাগম হয় রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনে। কুমারী পূজা প্রসঙ্গে বলা হয়, কুমারীরা শুদ্ধতার প্রতীক হওয়ায় মাতৃরূপে ঈশ্বরের আরাধনার জন্য কুমারী কন্যাকে পূজা করা হয়।

‘নিজেদের পশুত্বকে সংযত রেখে নারীকে সন্মান জানাতে হবে’, এটাই কুমারী পূজার মূল লক্ষ্য।সকল নারীর মধ্যই বিরাজিত রয়েছে দেবীশক্তি। হিন্দু শাস্ত্রে ১ থেকে ১৬ বছর বয়সী অজাতপুষ্পবালাকে কুমারী বলা হয়।হিন্দু শাস্ত্রে বয়স অনুযায়ী কুমারীদের এক এক নাম আছে। যেমন- এক বছরের কন্যাকে বলা হয় সন্ধ্যা, দু’বছরের কন্যাকে বলা হয় সরস্বতী, তিন বছরের কন্যাকে বলা হয় ত্রিধামূর্তি, চার বছরের কন্যাকে বলা হয় কালিকা, পাঁচ বছরের কন্যাকে বলা হয় সুভগা, ছয় বছরের কন্যাকে বলা হয় উমা, সাত বছরের কন্যাকে বলা হয় মালিনী, আট বছরের কন্যাকে বলা হয় কুব্জিকা, নয় বছরের কন্যাকে বলা হয় কালসন্দর্ভা, দশ বছরের কন্যাকে বলা হয় অপরাজিতা, এগারো বছরের কন্যাকে বলা হয় রুদ্রাণী, বারো বছরের কন্যাকে বলা হয় ভৈরবী, তেরো বছরের কন্যাকে বলা হয় মহালক্ষ্মী, চৌদ্দ বছরের কন্যাকে বলা হয় পীঠনায়িকা, পনেরো বছরের কন্যাকে বলা হয় ক্ষেত্রজ্ঞা এবং ষোল বছরের কন্যাকে বলা হয় অম্বিকা। শ্রীরামকৃষ্ণ বলতেন, মাতৃভাব বড় শুদ্ধভাব। এই জন্যই কুমারী রূপে নারীকে দেবীজ্ঞানে সন্মান জানানোর একটি বাস্তব উদাহরন হচ্ছে কুমারী পূজা।অল্পবয়স্কা, সমবয়স্কা বা বয়োবৃদ্ধা নারী মাত্রই জগদম্ভারই জীবন্ত মূর্তি। প্রত্যেক নারীতে মাতৃভক্তি করা এবং প্রত্যেক নারীকে দেবীমূর্তি জ্ঞানে শ্রদ্ধা করাই মহামায়ার শ্রেষ্ঠ উপাসনা। মূলত নারীকে যথাযথ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করতেই কুমারী পূজার আয়োজন করা হয়। মাটির প্রতিমায় যে দেবীর পূজা করা হয়, তারই বাস্তবরূপ কুমারী পূজা। সম্প্রতিসময়ে দেখতে পাচ্ছি বিভিন্ন স্থানে নারীকে বিভিন্নভাবে অপমান, নির্যাতন, লাঞ্ছনা, যৌন হয়রানী করা হচ্ছে, এমনকি মাদক ব্যবসা সহ সামাজিক অপরাধ মূলক কাজে নারীকে ব্যবহার করা হচ্ছে । তাই কুমারী পুজায় মায়ের কাছে প্রার্থনা- আমাদের পশুত্বকে যেন বিনাশ করে দেন , মানুষরূপী অসুরদের আসুরিক ভাব বিনাশ করেন। আমরা যেন প্রত্যেক নারীকে যথাযথ মর্যাদা এবং সম্মান দেখাতে পারি।প্রত্যেক নারীকে দেবীমূর্তি জ্ঞানে শ্রদ্ধা করতে পারি। তাহলেই হবে কুমারী পূজার স্বার্থকতা ।

Similar Articles

Leave a Reply