You are here
নীড়পাতা > প্রতিবেদন > এবার আমি নারীদের কে বলছি

এবার আমি নারীদের কে বলছি

অনন্যা হক

ধর্ষণ, অত্যাচার, নিপীড়ন সব কিছুর বলি কারা? আমরা নারীরা। জন্মেছিলাম কোন কুক্ষণে না শুভ ক্ষণে? শুনেছিলাম, জন্মেছিলাম এক পূর্ণিমার রাতে। আমার দাদি আমার নাম রেখেছিলেন  পূর্ণিমা। সে নাম শুধুই এক আদরের নাম। জন্মের পর থেকে বুঝেছি, জেনেছি, জীবন দেখে শিখেছি-আমরা সব মেয়েরাই পূর্ণিমা। অমাবস্যায় ঢেকে থাকা পূর্ণিমা !

বড় হয়েছি অনেক বড় এলাকায়, অনেক মানুষের সান্নিধ্য পেয়ে। যখন বড় হচ্ছি, কেবলই বুদ্ধি খুলছে মানে কৈশোরে, নিজেকে একটা প্রজাপতি মনে হত। আবেগ আর কল্পনায় মাখামাখি সাগরে ভেসে  বেড়াতাম। চোখ, কান খুলতে থাকলো অনেক কিছু দেখে শুনে।পুরো শহরটাই প্রায় চিনি। সেখানকার মানুষ, তাদের জীবনের গল্প, সিনেমা, নাটক, গল্পের বই, পেপার, টিভি,  আর কি লাগে জীবন বুঝতে? আমার গন্ডি ছোট হলেও, চোখ, কান খোলা থাকে, না চাইলেও খুলে যায় ।

এর পরে যোগ হল, বিশ্ববিদ্যালয়, হোস্টেল লাইফ, বন্ধু সমাজ, ভাবী মহল। অন্দরমহলের গৃহিণী দেখেছি সব শ্রেণীর। চাকরিজীবী দের জীবন চিত্রের খোঁজও জানি এবং বুঝতে পারি। এটুকু বুঝতে পারি, কোন পার্থক্য কারো সাথে কারো নেই শুধু  আর্থিক নিরাপত্তা ছাড়া। তবে  এটা  একটা  অনেক বড় মানসিক জোর, যে কোন বিপদে একটা  ঝুকি নেওয়ার জন্য, শুধু  এইটুকু বলবো কিন্তু  অন্য কোন সমাধান  এতে কিন্তু  আসছে না।

তাহলে সমস্যাগুলো কোথায়? আমি বলবো  নারী, পুরুষ  উভয়ের মস্তিষ্কের ভেতরে  এবং মননের গঠন শৈলিতে।

এবার  আমি নারী দের পেছনে লাগবো। অনেক তো পুরুষের পেছনে দৌঁড়ালাম। পূর্ণিমা রাতে হোক আর অমাবস্যায় হোক, যে রাতেই জন্ম নেও না কেন মেয়ে, তোমাকে মানুষ হতে দিতে চায় না কেউ।কিসের নারীবাদ বা পুরুষবাদ? কথা বলতে চাই মানুষবাদ নিয়ে। অনেক ভেবেছি এই নারীবাদ শব্দটা নিয়ে, আমার কোথায় যেন

একটু খটকা লাগে। অধিকার চাই, সন্মান চাই, মর্যাদা চাই সব চাই, মানুষের মত করে। কাউকে প্রতিপক্ষ ভাবতেও নিজেকে ছোট করা হয়। কিন্তু কোন পক্ষই কোন না কোন স্বার্থের কারণে আমাদেরকে মানুষ হতে দেবে না।

সব পূর্ণিমা  অমাবস্যায় ঢেকে যায় না। কিছু পূর্ণিমা রাতের প্রজাপতি, প্রথমে খোলস ছেড়ে শুয়ো পোকা হয়, এর পরে ভয়ংকর বিষধর, কেউটে সাপ হয়ে যায়, নিজের বিষের মরণ জ্বালায়।

সেই নারীদের পিছে লাগবো, যারা যুগের পর যুগ ধরে, পুরুষদের লাগাম না টেনে আরও উস্কে দিয়েছে। যারা পূর্ণিমা রাতের স্বপ্ন মাখা প্রজাপতি গুলোকে বিবর্ণ খোলস থেকে আবার মৃত শুয়ো পোকা হয়ে যেতে ইন্ধন যুগিয়েছে। সেই নারী দের পিছে লাগুন না সবাই, নারী, পুরুষ নির্বিশেষে ।

আমি বেশি লজ্জা পাই আমাদের মত মুখোশ ধারী নারীদের জন্য। যারা শিক্ষিত, অশিক্ষিত, ধনী সব পরিবারেই আছে। আসলে শুধু পুরুষ পুরুষ না  করে এবার  নিজেদের বিরুদ্ধে  সোচ্চার হওয়ার সময়  এসেছে। সেই বহু  আগে থেকেই  এক শ্রেণীর নারী  আছে  এই পশুর মত পুরুষের পাশে ছায়া হয়ে।

ধর্ষণ, আর কত? যার যে ক্ষতি হলো তাতো হয়েই গেল।হয় মেরে ফেলা নয় আত্মহত্যা অথবা জীবন্মৃত হয়ে বেঁচে থাকা, এই তো পরিণতি।

যখন একটা ছেলে সন্তানকে বড় করে তোলা হয়, বরং তখন বাবা মা দের এই দিক গুলোকে বেশি খেয়াল করে বড় করাই শ্রেয়, যেন বড় হয়ে তাকে কোন ভুল অপকর্মের জন্য শাস্তির সম্মুখীন হতে না হয়।

ঘরে ঘরে নারীরা ছেলে এবং মেয়ে সন্তানের মধ্যে বহুবিধ বিভেদ তৈরি করে। একটা ছেলে সন্তান যখন পুরুষ হয়ে  ওঠে, সে কি করে অন্য একটা মেয়েকে সম্মান করবে, কারণ সেতো মায়ের কাছ থেকেই ভুল শিক্ষা পেয়ে বেড়ে ওঠে। এগুলো কে সময় মত পরাস্ত না করলে এমন হবে বারবার, বহু বার। অনেক সময়  এমন করি আমরা, ঘরের মধ্যে নেকড়ে রেখে শেয়ালের পেছনে দৌঁড়াতে থাকি। অনেক বড় ভুল ঘরে ঘরে করে যাচ্ছি।

মেয়ে দেরকে ধারণ এবং জন্ম দেয়াই হয়  অন্যের ভেবে।যে মেয়ে বাবা মা এর হয় না, সে অন্যের হয় কিভাবে?

জীবনের শুরু থেকেই একটা মেয়ে কতখানি  অসহায়! যে সন্তান জন্মদাত্রী মায়ের হয় না, সে অন্যের হয় কিভাবে?

হায়রে সমাজ!

দেখেছি শারীরিক নির্যাতনের বেলায়ও। সেই সমাজের ভয়ে  বাবা, মাও অনেক মেয়ের পাশে  এগিয়ে  আসে না। আমি এক ভাবীর আত্মহত্যার গল্প শুনেছিলাম, তাকে  স্বামী  অত্যাচার করতো।সেই নারী  পেশায় ডাক্তার । মা তাকে বলে যেত, সহ্য কর, একসময় ঠিক হয়ে যাবে। সেই মা কাছে ডেকে নেয়নি, তাই বাচ্চা রেখে চাকরি করবে কিভাবে, কোন সমাধান সে  খুঁজে পায় নি জীবন এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার।তাই তিনি আগের রাতে স্বামীর হাতে রডের বাড়ি তে মাথা কেটে, পরের সকালে একটা ফোরে পড়া বাচ্চাকে অকূলে ভাসিয়ে আত্মহত্যা করে  মরে গেলেন।কাকে দোষ দেবেন? মা কেন জায়গা দিল না? আমি  আজও  উত্তর খুঁজি। এ কেমন  হৃদয়হীন মা?

আসেন সব নারীরা মিলে আত্মহত্যা করি, পৃথিবীটা  শান্ত হয়ে যাক। মাঝে মাঝে একেবারে নারী বিহীন পৃথিবী দেখতে ইচ্ছে করে। মানুষের  এত অহমিকা, দম্ভ, উপভোগ, বিনোদন কোন তরীতে গিয়ে ভিড় করে, দেখতে সাধ হয় ।

কেন এত প্রতিকূলতা, এত প্রতিবন্ধকতা, কার কাছে প্রশ্ন করি, কার কাছে উত্তর পাই?

 

Similar Articles

Leave a Reply