You are here
নীড়পাতা > মুক্তমত > প্রতিক্রিয়া > একটি আত্মপ্রকাশ ও কিছু ঘটনা

একটি আত্মপ্রকাশ ও কিছু ঘটনা

রীমা দাস

চলতি বছরের ৩ নভেম্বর আত্মপ্রকাশ করে একটি সংগঠন,যার নাম শতভিষা। একটি সদ্যজাত শিশু তার তীব্র, সুরেলা কন্ঠে জানান দেয় তার উপস্থিতি, আমি আসছি,আমি আছি। এই আত্মপ্রকাশের আগের সময়গুলোতে রয়েছে প্রকাশিত অপ্রকাশিত নানা ঘটনা। তবু মুখ্য নির্বাহী হিসেবে হাল ছেড়ে দেইনি আমি। যখনই বাঁধার পাহাড় এসেছে চোখ বন্ধ করে গৌরী সেনকে ডেকেছি। তাঁর কাছে পরামর্শ চেয়েছি। সারা দিনের ক্লান্তি শিয়রে বসে দূর করেছেন আমার জেঠু প্রয়াত কল্যাণ দাস, যিনি সিলেটের সংস্কৃতি জগতে উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন। আমাকে অনেকেই ভূগোলহীন বলেন। তারা জানেন না, রক্তের ধারা বহমান থাকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে। আমার বাবা ( রণজিত দাস) অনুষ্ঠানের পর আপ্লুত হয়ে মাথায় হাত রেখে বলেছেন—” দাদা বেঁচে থাকলে খুব খুশী হত”। বিগত দুটি মাস আমি জেঠুকে কেবলই বলেছি সব সুন্দর মতো করে দিও। কোন কোন দিন আমি অনুভব করেছি আমি অনেককিছু বুঝতে পারছি। নাটকের কোন জায়গায় অসংলগ্নতা থাকলে সেটা আমার কাছে ধরা দিয়েছে গভীর রাতে। কোথাও কোন সমস্যা দেখা দিলে সেটাও আমার কাছে চলে এসেছে অলৌকিক উপায়ে। আমাকে যারা প্রচন্ড ভালোবাসে,স্নেহ করে; যাদের আশীর্বাদ আমার মাথার উপর সর্বক্ষণ, তাদের ভালোবাসা,স্নেহ আর আশীষে রাজকীয় আত্মপ্রকাশ করল শতভিষা। আমার গুরুজন, প্রিয়জন ও স্নেহভাজনদের প্রতি রইলো সীমাহীন ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা।

শতভিষার আত্মপ্রকাশ হবে নাটক দিয়ে— এটা যখনই ঘোষণা করলাম, তখনই অনেক প্রশ্ন। শৃঙ্খল মুক্তির জন্য, মানুষের হৃদয়ে স্থান নেবার জন্য নাটক ছাড়া আর কোন বড় মাধ্যম আমার মনে এলো না। স্নেহভাজন নাট্যকার মোস্তাক আহমেদ এর সাথে আলাপ করতেই তিনি আমাদের সাথে পথ চলতে চান বলে নিজের মত ব্যক্ত করলেন। দীর্ঘ চার মাস নবীন নাট্যকার ও নির্দেশকের সাথে তার মৌলিক নাটক ” নারীপুরাণ” এ অংশ নিল একঝাঁক নক্ষত্র। নয়জন নারীর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল আজকের “নারীপুরাণ”, যেখানে চারজনের মঞ্চ নাটক করার ব্যাপারে কোন অভিজ্ঞতা ছিলো না। তারা প্রত্যেকেই তাদের সর্বোচ্চ দিয়েছে। লিপি, পলি দে, রোহেনা দীপু এরা নতুন হিসেবে প্রত্যেকের অভিনয় দর্শককে ছুঁয়ে গেছে। আর পুরাতনদের মধ্যে সাইমা শাহিদ, পরাগ রেণু দেব, পল্লবী দাস, ফাল্গুনী আঁখি ও শিমুল আক্তারের অভিনয় তো দর্শকরা আগেই দেখেছে, তাদের অভিনয়ের শিল্পগুণ নিয়ে বলার কিছু নেই। পরাগ, পলি, লিপি ও আয়শা রুনা আপার গানে মুগ্ধ দর্শক। বর্ণা ব্যানার্জি এর উপস্থাপনা শ্রুতি মধুর ছিলো। আলোক পরিকল্পনায় ছিলেন চম্পকদা (চম্পক সরকার), সহযোগিতায় ছিলেন ইয়াকুব আলী আর নবীন আলোক প্রক্ষেপক  তিথি খান আপুর আলো প্রক্ষেপনে মঞ্চ হয়েছে অপরূপ। সাউন্ড সিস্টেম দিয়ে ও হল নিয়ন্ত্রণ করে আমাদের যারা সহযোগিতা করেছেন তাদের সবার প্রতি বিনম্র ভালোবাসা। মাসুম খান, যার কথা না বললেই নয়। সে ২৫ অক্টোবর থেকে আমাদের সহযোদ্ধা ছিলো। ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা আমার সহযোদ্ধাদের। আরও যারা পেছনে থেকে আমাদের পথচলাকে কন্টকমুক্ত করেছেন তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা। ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি সুষমা দাশ মাসি, মারিয়ান চৌধুরী মাম্মী আন্টি, রুমা মোদক দিদি ও জয়িতা মহলানবীশ দি’র প্রতি। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি আবু বকর আল আমিন, রুবেল আহমেদ কুয়াশা, সুমন চৌধুরী, সুমনকুমার দাশ, নাহিয়ান চৌধুরী, গৌরবদা (গৌরব দত্ত চৌধুরী), অদিতি দাস, শারমিন জুঁই ও আমাদের সকলের প্রিয় আপ্পি ফরিদা নাসরিন এর প্রতি। যাদের নাম ভুলবশত উল্লেখ করিনি নিজ গুণে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

এই চার মাসের দীর্ঘ পথচলায় অনেক ভুল আছে আমার। সিদ্ধান্তে ভুল, কর্ম পরিকল্পনায় ভুল ও অন্যান্য অনেক বিষয়ে ভুল। আমি সেসব ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছি। আজকের, এই মুহুর্তের আমি চার মাস আগের আমি থেকে অনেক পরিপক্ক, অভিজ্ঞ। শতভিষার আত্মপ্রকাশের সবটুকু সফলতা শতভিষা এবং নারীপুরাণ দলের। আর ব্যর্থতার দায়ভার শুধুই আমার একার। শতভিষার আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে আগত দর্শকদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। সম্পূর্ণ অডিটোরিয়াম ছিলো দর্শকে পূর্ণ, তবে পিনপতন নিস্তব্ধতা ছিলো। দুই/তিন বছরের মধ্যে আমরাই (শতভিষা) সেরা, যাদের টিকেট সব থেকে বেশি বিক্রয় হয়েছে। এসবই আমাদের অর্জন, শতভিষার অর্জন। ভুল ত্রুটিগুলো আমি মাথা পেতে নিলাম।

সদ্য জন্ম নেয়া শতভিষার সাথে আপনারা যারা ছিলেন তারা আমাদের সাথে ও পাশে থাকবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। আপনাদের আশীর্বাদ আমাদের মাথার উপর থাকলে আমরা সমাজ বদলে দিতে পারব এটা আমার বিশ্বাস। একটি সফল আত্মপ্রকাশ ও প্রযোজনার পর আমি অনেকটা দেরী করে কৃতজ্ঞতা জানানোর জন্য সবার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। আমার ভুল/ ত্রুটিগুলো গুরুজনেরা ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

এগিয়ে যাক শতভিষা স্বমহিমায়।

 

Similar Articles

Leave a Reply