You are here
নীড়পাতা > প্রতিবেদন > একই মঞ্চে মুখোমুখি ধর্ষক-ধর্ষিতা

একই মঞ্চে মুখোমুখি ধর্ষক-ধর্ষিতা

ধর্ষণ এমনই এক ঘটনা, যা আক্রমণকারী আর আক্রান্তকে কখনোই কোনো ‘স্বাভাবিক’ আলাপে নিয়ে আসতে পারে না। সামাজিক পরিবেশ কখনোই এই দুই পক্ষকে মুখোমুখি নিয়ে আসতে পারে না।

সেই ‘অসম্ভব’ কেই সম্ভব করেছে স্বেচ্ছাসেবী গণমাধ্যম ‘টেড’ (টেকনোলজি, এন্টারটেইনমেন্ট, ডিজাইন)। নিউ ইয়র্কের এই সংস্থা ইতিপূর্বে বেশ কিছু অসম্ভব সাক্ষাৎকারকে বাস্তবায়িত করেছে। কিন্তু ধর্ষক ও ধর্ষিতাকে মুখোমুখি বসানোর ব্যাপারটা আগে কখনও ঘটেছে বলে মনে হয় না।

১৯৯৬ এ অস্ট্রেলিয়ান টম স্ট্রেঞ্জার তার আইসল্যান্ডিক বান্ধবী থ্রোডিস এলভাকে ধর্ষণ করেন। ২১ বছর পর তাদের দুজনকে মুখোমুখি নিয়ে এলো ‘টেড’। দুই দশকেরও বেশি সময় অতিবাহিত হওয়ার পরে কী ভাবছেন তারা? প্রশ্ন করতেই তাদের যৌথ উত্তর, সেই মুহূর্তটি ছিল তাদের জীবনের অন্ধকারতম মুহূর্ত।

যে সময় এই ঘটনা ঘটে, সেই সময় আইসল্যান্ডে স্ট্রেঞ্জার একজন এক্সচেঞ্জ শিক্ষার্থী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সেই সময়ই এলভারের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক রাতে স্ট্রেঞ্জার চড়াও হন এলভারের ওপর। এলভার কিছুটা নেশাগ্রস্ত ছিলেন বলে বাধা দিতে পারেননি। সেই যন্ত্রণাময় মুহূর্তকে সারা জীবনেও ভুলতে পারেননি এলভার। সপ্তাহের পর সপ্তাহ কান্না ছিল তার সর্বক্ষণের সঙ্গী। সব থেকে কাছের, সব থেকে বিশ্বাসের মানুষটির কাছ থেকেই যে এমন আঘাত আসতে পারে, তা দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারেননি তিনি। বছরের পর বছর সেই আঘাত তাকে কুরে খেয়েছে। তার মানসিক স্থিতিশীলতাকে বিঘ্নিত করেছে।

অন্য দিকে স্ট্রেঞ্জার কিন্তু এই ঘটনাকে ‘ধর্ষণ’ বলে মনে করেননি। বান্ধবীর সঙ্গে স্বাভাবিক শরীরী সম্পর্ক বলেই মনে করেছিলেন। কিন্তু এলভার বিমর্ষতা তাকে বিধ্বস্ত করে দেয়। তিনি এক গভীর শূন্যতাবোধে ভুগতে শুরু করেন। ২৫ বছর বয়সে এলভার স্নায়বিক বৈকল্যও দেখা দেয়। খানিকটা সামলে উঠে তিনি স্ট্রেঞ্জারকে একটা চিঠি লেখেন। সেখানে তিনি ব্যক্ত করেন তার যাবতীয় অনুভূতিকে। এর পরে দীর্ঘ ৮ বছর ধরে স্ট্রেঞ্জারের সঙ্গে তার ই-মেইল আদান-প্রদান চলতে থাকে। পরে তারা দেখাও করেন। কেপটাউনে এক সপ্তাহ তারা এক সঙ্গে কাটান। এই একত্রবাসে তারা দীর্ঘ আলোচনা করেন ধর্ষণ ও তার পরবর্তী ট্রমা নিয়ে।

ক্রমশ অনেক কিছুই পরিষ্কার হয়। এলভা বুঝতে পারেন স্ট্রেঞ্জারের মানসিকতা। তিনি যে কোনও সশস্ত্র ম্যানিয়াক নন, তা এলভার কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই বিরল ও বিচিত্র সম্পর্ককে তারা একটি গ্রন্থরূপ দেন। ‘সাউথ অফ ফরগিভনেস’ নামের সেই বইতে পারস্পরিক দোষারোপ নয়, রয়েছে সহমর্মিতা ও পরস্পরকে বোঝার ঐকান্তিক চেষ্টা।

Similar Articles

Leave a Reply